Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Bettmann Via Getty Images
বলের মতো বস্তুতে লাথি দিয়ে খেলা আদিকাল থেকে কেবল মানুষ নয়, অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও প্রচলিত। তবে, আধুনিক যুগে ফুটবল খেলাটির আইনকানুন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং দেশে দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে ইংল্যান্ডকে ফুটবলের জন্মভূমি মনে করেন ইংলিশরা।
সে কারণে, বিশ্বকাপ যখন থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হলো, তখন থেকেই ইংলিশরা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে স্লোগান দেন যে, ইট’স কামিং হোম।
প্রতি চারবছর পরপর বিশ্বকাপের আগে ইংলিশ সমর্থক এবং মিডিয়া এই স্লোগানে উচ্চকিত হয়ে পড়ে কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফেরে থ্রি লায়ন্সরা।
এক সময়ে যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য অস্ত যেত না বলে গর্ব করা হয়, সেই ব্রিটিশদের বিশ্বকাপের অর্জন কেবল একটি শিরোপা। তাও, ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠের সেই শিরোপা জয় নিয়ে আছে বিতর্ক।
প্রতিবার ব্যর্থ হতে হতে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কেউ কেউ মনে করেন ইংল্যান্ড আর কখনোই বিশ্বকাপ জিততে পারবে না।
এদের মধ্যে আছেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবল লিখিয়েদের একজন সাইমন কুপার এবং বিখ্যাত ফুটবল অর্থনীতিবিদ স্টিফান জিমনেস্কি।
তারা দু’জনে যৌথভাবে একটি বই লিখেছেন। বেস্টসেলার এ বিশ্লেষণধর্মী বইটিতে লেখকদ্বয় বিশদে দেখান যে, ফুটবল ঐতিহ্য এবং দুনিয়ার সবচেয়ে দামী লীগ আয়োজন করা সত্ত্বেও কেন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিততে পারে না।
তাদের মতে, ফুটবলে সাফল্যর সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উদারমনস্কতা এবং আধুনিক চিন্তা জরুরি। ইংলিশদের নাক উঁচু মনোভাব নিয়ে ফুটবল মাঠে বিশ্বজয় করা কঠিন বলেই তারা মনে করতেন।
তবে, ইংলিশ সমর্থকেরা আশা করতেই পারেন যে, দিন বদলের হাওয়া বইছে। আরেক বৈশ্বিক খেলা ক্রিকেটেও একসময় ইংল্যান্ডের শোচনীয় অবস্থা ছিলো।
তবে, গত এক দশকে প্রাচীনপন্থী ভাবনা ছেড়ে আধুনিক ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে দলটি দুনিয়ার সেরা হয়ে উঠেছে। জিতেছে বিশ্বকাপ।
ফুটবলে সেই আকাঙ্ক্ষিত ট্রফির জন্য এবার তারা ভরসা করছেন এক জার্মানের উপর। টমাস টুখেলের জার্মান প্রেসিং দর্শন অবশেষে ট্রফিটি ‘ঘরে’ আনতে পারবে বলে আশা করছেন ইংলিশরা।
ছবির উৎস, The FA via Getty Images
টুখেলের অধীনে দলটি এমন একটি গতিশীল কৌশলগত ফরমেশন গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে বলের দখল, আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগের সংগঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে।
দল নির্বাচনে টুখেল ইতিমধ্যেই বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন।
তিনি বাদ দিয়েছেন চেলসির সুপারস্টার কোল পালমার এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গত বছর লীগ শিরোপা জেতা ফিল ফোডেনকে।
এই দুইজনকে অনেকেই বিবেচনা করেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সৃষ্টিশীল মিডফিল্ডার হিসেবে।
টুখলের দলে স্থান হয়নি লিভারপুল থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডের, যিনি ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও নিখুঁত ক্রস করে গোলের সুযোগ তৈরি করার জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা।
টুখেলের দলে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়াইরেরও জায়গা হয়নি।
এই দলে আছেন বর্তমানে সৌদি লীগে খেলা ইভান টনি। টনির শরীর নির্ভর খেলার জন্যই তাকে দলে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের কোচ। টনির মতোই আরেক বিস্ময় ননি মাদুকে, যিনি আর্সেনালের হয়ে এই মৌসুমে তেমন কিছু করতে পারেনি।
অবশ্য আরেক অফ ফর্মে থাকা আর্নল্ডের সৃষ্টিশীলতার চেয়ে ডিফেন্সে ভুল করার প্রবণতাকে বেশী গুরুত্ব দিয়ে তিনি এই জায়গায় নিয়েছেন টটেনহামের জেড স্পেন্সকে। যেমনটা নিয়েছেন পালমার বা ফোডেনের বদলে আর্সেনালের হয়ে ধারাবাহিক খেলা এবেরেচি এজেকে।
ডিফেন্সে রেখেছেন তরুণ জ্যারেল কোয়ানশাকে। আবার একইসাথে অভিজ্ঞ জন স্টোনস, যিনি এখন ম্যানচেস্টার সিটিতেই ব্রাত্য।
একইরকমভাবে মধ্যমাঠে আছেন অভিজ্ঞ জর্ডান হেন্ডারসন, সাথে তরুণ কোবি মাইনু। আছেন ভীষণ গতিশীল মিডফিল্ডার এন্থনি গর্ডন।
তবে নিশ্চিতভাবেই টুখেলের দলের অন্যতম প্রানভোমরা হবেন আর্সেনালকে ২২ বছর পরে লীগ জেতানোর কারিগর ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস।
রাইসের সতীর্থ বুকায়াকো সাকার দায়িত্ব থাকবে গোল করা ও বানিয়ে দেয়া। মার্কাস রাসফোর্ড ও জুড বেলিংহামের মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়দের পাশাপাশি থাকবেন ইউরোপা লীগ জেতা এস্টন ভিলার দুই গোল ও এসিস্টমেশিন অলি ওয়াটকিন্স এবং মরগ্যান রজার্স।
আর এদের নেতৃত্ব দিবেন বছরের পর বছর অবিশ্রান্তভাবে গোল দেয়া হ্যারি কেইন, যিনি এখন টুখেলের দেশ জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে গিয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন।
ছবির উৎস, Getty Images
তবে, কেইনের আরো একটা বড় কাজ হচ্ছে দলকে এক সুতায় বাঁধা।
অতীতে ইংল্যান্ড দল অনেকবার কাগজে কলমে সেরা দল নিয়েও শূন্য হাতে ফিরেছে একতাবদ্ধ হতে না পারার কারণে।
বিভিন্ন ক্লাবের সুপারস্টাররা জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের অহম ভেঙ্গে এক হতে পারতেন না বলেই দৃশ্যমান হতো। কেইনের দলেরও আছে প্রতিভা, অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যর ছড়াছড়ি।
এখন দেখার বিষয় মাষ্টার ট্যাকটিশিয়ান টুখেলের পরিকল্পনাকে তারা বাস্তবায়ন করতে পারে কিনা।
টুখেলের ফর্মেশন ৪-২-৩-১ যা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুতে রূপান্তরিত হয়
টুখেলের কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুইটি পয়েন্ট হচ্ছে, এখানে বল পায়ে থাকা ও বল পায়ে না থাকার উপর নির্ভর করে ফরম্যাশন পরিবর্তন হয়ে যায়।
যখন বল পায়ে থাকে তখন খেলোয়াড়দের অবস্থান একরকম হয়, আর না থাকলে হয়ে যায় অন্যরকম।
কাগজে কলমে ৪-২-৩-১ এই ফর্মেশনে খেললেও বল পায়ে চলে আসলে তা ৩-২-৫ হয়ে যেতে পারে।
বল যখন নিজেদের পায়ে থাকে, তখন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ওপরে উঠে আসেন। মাঠের ডানদিকের ডিফেন্ডার মাঝমাঠে চলে যান, আর বাকি তিনজন ডিফেন্ডার পেছনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান।
এভাবে দেখতে দেখতে ইংল্যান্ডের পাঁচজন খেলোয়াড় সরাসরি প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে গিয়ে পজিশন নেন।
এতে প্রতিপক্ষ দল চাপে পড়ে যায় এবং মাঠের সব জায়গায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় বেশি থাকে।
প্রতিটা জোনে সংখ্যাগত এই আধিক্য ইংল্যান্ডকে খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা করে দেয়।
সহজভাবে বললে, বল পায়ে থাকলে তারা মারাত্মক আক্রমণাত্মক (পাঁচ জন সামনে), আর বল হারিয়ে ফেললে দ্রুত পেছনে নেমে এসে রক্ষণ সামলান।
আরেকটা জরুরি বিষয় হচ্ছে, এ কৌশলে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে একসঙ্গে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়।
ফুলব্যাকদের অবশ্যই রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বল দখল করতে মিডফিল্ডে ভূমিকা রাখতে হয়।
সেন্টারব্যাকদের অবশ্যই চাপের মধ্যে বলে স্বাচ্ছন্দ্য থাকতে হবে। ডাবল পিভটকে উভয় দিকে বিপুল পরিমাণ স্পেস দখলে রাখতে হয়।
ছবির উৎস, Getty Images
বাড়তি প্রতিরক্ষা: অ্যান্ডারসন এবং রাইস
এই দলের মিডফিল্ড ইঞ্জিন এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং ডেক্লান রাইসে ডাবল পিভট বা বাড়তি প্রতিরক্ষা তৈরি করেন।
অ্যান্ডারসন ডিফেন্ডারদের সামনে অতিরিক্ত দেয়ালের কাজ করেন, অন্যদিকে রাইস এগিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স পেয়ে থাকেন।
অ্যান্ডারসন শৃঙ্খলাবদ্ধ, তিনি রক্ষণ আগলান এবং বল হারালে আবার দখল নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, রাইস চেষ্টা করেন উপরে উঠে গিয়ে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে। এই দুই ধরনের খেলোয়াড়ের টিমওয়ার্ক ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডকে দারুণ ভারসাম্য দেয়।
সাউথগেটের অধীনে ইংল্যান্ড ভক্তরা যে রাইসকে দেখেছিলেন, তার থেকে টুখেলের অধীনের রাইস অনেক বেশী কার্যকরী।
তিনি আর্সেনালের হয়ে যেই ভূমিকা দিনের পর দিন পালন করে শিরোপা জিতিয়েছেন তাই করতে চাইবেন ইংল্যান্ডের হয়ে। সেই ভূমিকাটি আক্রমনাত্নক মিডফিল্ডারের।
সাউথগেট বেলিংহামকে ঠিকভাবে ব্যাবহার করতে ব্যর্থ হলেও টুখেলের কাঠামোতে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সেই খেলোয়াড় যিনি মধ্যমাঠের সাথে কেনের সংযুক্তি ঘটান এবং নিজেও সুযোগ সৃষ্টি করেন।
আদতে ফোডেন এবং পালমারের না থাকা তাঁকে আরো স্বাধীনতা দেবে, কারণ এই দুইজন তার সহযোগী ভূমিকা না নিয়ে নিজেরাই বল দখল করে সুযোগ তৈরিতে মনোযোগ দিতেন।
এতে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবার সম্ভাবনা হতো।
কেন ম্যাজিকের সঠিক ব্যাবহার
টুখেলের অধীনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হল হ্যারি কেনের দায়িত্ব। সাউথগেটের অধীনে, কেন ধারাবাহিকভাবে আদর্শ ৯ নম্বর হিসেবে খেলছিলেন, কিন্তু আশেপাশে থাকা ফোডেন, বেলিংহ্যাম এবং পালমারের মতো খেলোয়াড়রা সবাই একসাথে নিচে নেমে পড়তে চাইতেন।
এর ফলে কেন একলা হয়ে পড়তেন এবং মার্কিং করে বিপক্ষ সহজেই তাকেই নিষ্প্রভ করে দিতে পারতেন।
টুখেল মৌলিক কাঠামোগত সমস্যা সংশোধন করেছেন কেনের গভীরে নামার ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে একজন সেন্টারব্যাককে টেনে নিয়ে স্থান তৈরি করে।
গর্ডন এবং সাকার মতো খেলোয়াড়দের সাথে যারা সেই স্থানে দৌড় দেবে, সেই মুভমেন্ট এখন নষ্ট হওয়ার পরিবর্তে কাজে লাগানো হচ্ছে।
এই দলের আরেক শক্তি সাকা এবং গর্ডন, এই সিস্টেমের আক্রমণাত্মক পর্যায়ে কার্যকরভাবে উইং-ব্যাক হাইব্রিড।
এই দুই পরিশ্রমী খেলোয়াড় মাঠে আক্রমণে সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিপক্ষের আক্রমণের সময় নিচে নেমে এসে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেও সাহায্য করেন।
ডান দিকে রিস জেমস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফিট থাকলে, তিনি বিল্ড-আপের সময় মাঝমাঠে পদক্ষেপ নেন এবং কেন্দ্রীয় জোনে একটি ওভারলোড তৈরি করেন।
মাত্র ২১ বছর বয়সী নিকো ও’রেইলি ইংল্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী লেফটব্যাক সমস্যা সমাধান করেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটিতে তার ফর্ম , বল দখলে স্বাচ্ছন্দ্যময়, বিল্ড-আপে একটি ইন্টেরিয়র মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে সক্ষমতা তাঁকে এই সিস্টেমের সাথে নিখুঁতভাবে মানানসই করে তুলেছে।
তাকে একজন ঐতিহ্যগত লেফটব্যাক না হয়ে একজন বাম-পার্শ্ব মিডফিল্ডার হতে বলা হচ্ছে যিনি মাঝে মাঝে রক্ষণ করেন, পেপ গার্দিওলা তাকে এই কাজটিতে সিদ্ধহস্ত করে তুলেছেন।
ইংল্যান্ডের রক্ষণ কতোটা আঁটসাঁট তা বোঝা যায় এই পরিসংখ্যানে, যে দলটি তাদের আটটি বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ জিতেছে, কোনও গোল না খেয়ে।
এই পরিসংখ্যান রক্ষণাত্মক রক্ষণশীলতা থেকে আসেনি তা এসেছে সংগঠিত প্রেসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রেখে ।
রাইস এবং অ্যান্ডারসন প্রেস শুরুর দায়িত্বে থাকেন। চাপের প্রথম তরঙ্গ ভেঙে গেলে, তারা দ্রুত নেমে ব্লক পুনর্গঠন করে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের পাসগুলো বন্ধ করে দেন।
ছবির উৎস, Getty Images
আক্রমণাত্মক গভীরতা এবং বিকল্প
টুখেলের কাছে রোটেশন এবং কৌশলগত সমন্বয়ের জন্য উপলব্ধ আক্রমণাত্মক বিকল্পের গভীরতা উল্লেখযোগ্য।
অলি ওয়াটকিন্স কেনের থেকে আলাদা প্রোফাইল।
তিনি দ্রুততর, আরও সরাসরি, পেছনে ভালো এবং গভীর রক্ষণাত্মক ব্লকের বিরুদ্ধে নকআউট ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রকৃতি পরিবর্তন করতে তাঁকে ব্যবহার করা হতে পারে।
ইভান টনির উপস্থিতি এবং লিংক-আপ খেলা টুখেলকে শক্তিশালী তৃতীয় স্ট্রাইকারের বিকল্প দেবে।
ইবেরেচি এজে এবং মর্গান রজার্স বেঞ্চ থেকে সৃজনশীলতা এবং শক্তি নিয়ে হাজির হবেন শেষ বিশ মিনিটের মত, যখন প্রতিপক্ষ থাকবে ক্লান্ত।
ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষরা
গ্রুপ এলে ইংল্যান্ডের তিন প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা এবং পানামা।
এর আগের দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া দলটি এবার কতদূর যেতে পারে তা দেখার ক্রোয়েশিয়ার সুপারস্টার লুকা মদ্রিচের বয়স এখন ৪০ এবং ইনজুরি থেকে ফিরছেন।
তার সতীর্থদের অনেকেই ক্যারিয়ারের শেষদিকে।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা জোস্কো গাভিরদিওলও ইনজুরি আক্রান্ত। দলে আছেন তার ক্লাব সতীর্থ মাতেয়ো কোভাচিচ।
কাগজে কলমে দুর্বল হলেও ক্রোয়েশিয়া দলটির অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা ইংল্যান্ডকে ভোগাতে পারে।
ছবির উৎস, Getty Images
আফ্রিকার দল ঘানাও ইংল্যান্ডের পরীক্ষা নেবে।
এই দলে আছে ইংল্যান্ডে লীগ খেলা আতোয়ান সেমিনিও, টমাস পার্টির মতো খেলোয়াড়েরা।
ফক্সবোরোর গরমে বিকেল চারটায় শুরু হওয়া খেলায় ঘানা ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
তবে, পানামার সঙ্গে শেষ ম্যাচটা ইংল্যান্ডের জন্য সহজই হবার কথা।
তবে, নিশ্চিতভাবেই টুখেলের নজর থাকবে নক আউট পর্বে।
গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ই, এইচ, আই, জে বা কের তৃতীয় দল।
অন্যদিকে গ্রুপে রানারআপ হলে তাদের মুখোমুখি হতে হবে পর্তুগাল, কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়াকে নিয়ে গড়া গ্রুপের রানারআপের সাথে।
সেই রাউন্ড উতরাতে পারলে, আরো শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হতে হবে।
তবে, চেলসির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা ও পিএসজিকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়া টুখেলের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপ জয়।
এই দলটির প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই, একতাবদ্ধ হয়ে কোচের কৌশল ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগাতে পারলে কাপ ঘরে ফিরিয়ে আনার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে দলটির।







