Home RSS national bangla ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিনের আগমন

ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে পুতিনের আগমন

6
0

ভ্লাদিমির পুতিন দিল্লিতে পৌঁছেছেন। সামনে BRICS নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে তীব্র আলোচনার মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। রুশ প্রেসিডেন্টের এই আগমন BRICS জোটের অভ্যন্তরে নতুন পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি যে ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

## আগমন ও কূটনৈতিক বৈঠক

পুতিন পালাম এয়ার ফোর্স স্টেশনে অবতরণ করেন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। দুই দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। হিমালয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর ২০১৯ সালের পর এই প্রথম শি ভারত সফরে আসছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও আলোচনায় যোগ দেবেন, যা ওই পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম ভারত সফর।

## BRICS-এর সম্প্রসারণে নজর

পশ্চিমা-প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে উদীয়মান অর্থনীতিগুলির কণ্ঠস্বর জোরালো করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত BRICS সম্প্রতি আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। বর্তমানে এই জোটে ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি রয়েছে—যুদ্ধসংক্রান্ত অবস্থানের দিক থেকে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে, দেশগুলির অবস্থান ব্যাপকভাবে ভিন্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, একসময় BRICS-এর শক্তি হিসেবে প্রশংসিত এই সম্প্রসারণ এখন জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতির পরীক্ষা নিচ্ছে। Observer Research Foundation-এর হর্ষ ভি পন্তের মতে, এক বছর আগে যা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল, আজ তা বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে।

## সংঘাতের কেন্দ্রে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ

শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে ইউক্রেনের যুদ্ধই অন্যতম প্রধান বিষয়। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও রাশিয়া তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাশিয়া-সম্পর্ক এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকার একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ—বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সংঘাত—বৈঠকে বড় ভূমিকা নেবে। ইরান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে BRICS-এর অংশ হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, জোটটি কি ঐক্যবদ্ধ নীতিগত প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে পারবে? মে মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে BRICS-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। Capital Economics-এর শিলান শাহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সংঘাত BRICS-এর ঐক্য বজায় রাখার সক্ষমতার জন্য “একটি কঠিন পরীক্ষা” হবে।

## ভারতের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল

ভারত একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। ইরান ও ইজরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার পাশাপাশি দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার জোটগত সম্পর্কের বিষয়েও সতর্ক। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় নয়াদিল্লি রাশিয়ার দিকে আরও ঝুঁকেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া দীর্ঘদিনের অংশীদার এবং জ্বালানির অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ভারত উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর কিয়েভ সফর করেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভারতকে তিনি যাকে “এই অন্যায় যুদ্ধ” বলেছেন, তা শেষ করার প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

## চিন-ভারত সম্পর্ক: সতর্ক উষ্ণতা

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি অতিরিক্ত প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে। বিতর্কিত সীমান্তে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর থেকেই চিন ও ভারতের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। এই শীর্ষ সম্মেলন সেই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলির অন্যতম বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়া, ভিসা কার্যক্রম নতুন করে শুরু হওয়া এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বৃদ্ধি পাওয়া।

তবে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি এখনও রয়ে গেছে। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্ত নিয়ে বিরোধ, উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনও তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে।

## কড়া নিরাপত্তা, বড় ঝুঁকি

শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের রাস্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টার দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় এলাকাগুলিতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি এখন স্বাভাবিক চিত্র। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

পুতিনের জন্য এটি এ বছর ভারতে তাঁর দ্বিতীয় সফর; তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতে এসেছিলেন। সম্প্রতি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে তিনি মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন।

## ঐক্য ও সংহতি নিয়ে প্রশ্ন

BRICS-এর এই শীর্ষ সম্মেলন একটি অনিশ্চিত সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জোটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সদস্যসংখ্যা নিয়ে BRICS এখন এমন সব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করছে, যারা গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সংঘাতগুলির বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে। পর্যবেক্ষকদের সতর্কতা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন যৌথ বিবৃতি প্রকাশ বা সম্মিলিত পদক্ষেপ সমন্বয়ের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলতে পারে—বিশেষত ইরান পরিস্থিতির ক্ষেত্রে।

শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত মধ্যস্থতাকারীর কঠিন ভূমিকায় রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ পরিচালনা করা এবং একটি জটিল জোটকে ঐকমত্যের দিকে এগিয়ে নেওয়া, সবই তাকে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।

দিল্লিতে নেতারা একত্রিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই শীর্ষ সম্মেলনের আবহ সম্ভবত বিভক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রভাব বাড়ানো এবং ঐক্য বজায় রাখার মধ্যকার উত্তেজনাকে প্রতিফলিত করবে। ইউক্রেনের যুদ্ধ চলতে থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, BRICS একক কণ্ঠে কথা বলতে পারে কি না, তা এবার তাদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.