Home rss world bengali নেপাল ও চীন ফের বন্যা উদ্ধার অভিযান শুরু করল, মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০...

নেপাল ও চীন ফের বন্যা উদ্ধার অভিযান শুরু করল, মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০ ছুঁইছুঁই

5
0

নেপাল ও চীনে উদ্ধারকারী দলগুলি কিছুক্ষণ বিরতির পর জীবিতদের সন্ধানে আবার অভিযান শুরু করেছে। এদিকে হিমালয় অঞ্চলের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৬০০-এর দিকে এগোচ্ছে। এই বিপর্যয়ে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ এবং সাহায্যের জন্য মরিয়া হয়ে অপেক্ষা করছেন।

## হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা

আগস্ট ২৬, বুধবার সকালে প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় হিমালয়ের একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। বরফ, কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত প্রায় ১,২০০ মিটার নিচে নেমে লেন্দে নদীতে আছড়ে পড়ে। ― এর ফলে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় প্রবল আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। পথে ত্রিশুলি নদীর জলস্তর মাত্র ৩০ মিনিটে ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার জন্য ভূমিকম্পকে দায়ী করা হলেও, পরে US Geological Survey জানায়, রেকর্ড হওয়া বিকট শব্দটি আসলে ভূমিধসেরই শব্দ ছিল।

## বাড়ছে প্রাণহানি

নেপালের National Disaster Management Authority জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ৬৭৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তের নেপাল অংশে এখনও ২,৪৯৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি—তাঁদের মধ্যে পর্যটক বা কর্মীসহ ৫১৭ জন বিদেশি রয়েছেন।

তিব্বত অংশে চীনা কর্মকর্তারা অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সেখানে প্রায় ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

## অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে সক্রিয় কর্তৃপক্ষ

উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করতে নেপাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ও চীনের কাছে বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। টানেল উদ্ধারে প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত এই দলগুলি শনিবারের মধ্যে পৌঁছবে বলে আশা করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, মানুষের জীবন যখন ঝুঁকির মধ্যে, তখন বড় দল পাঠানোর ফলে অভিযান জটিল হতে পারে—এই প্রাথমিক উদ্বেগের চেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি জরুরি।

## নতুন বিপদ: অস্থিতিশীল হিমবাহ-হ্রদ

বিপর্যয়ের পরের কয়েক দিনে ধসের স্থানে বন্যার জল জমে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হয়। ধ্বংসাবশেষের দুর্বল বাঁধ দিয়ে আটকে থাকা এই নতুন হ্রদটি ভেঙে পড়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে—এই আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এখন পরিস্থিতিকে “নিয়ন্ত্রণযোগ্য” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, ফলে উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে University of Colorado Boulder-এর হিমবাহ-ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ Alton Byers সতর্ক করে বলেছেন, অস্থায়ী এই বাঁধটি অস্থিতিশীল। তাঁর মতে, সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ হবে হ্রদের জল ধীরে ধীরে প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে যেতে দেওয়া। তিনি আরও জানান, হ্রদের জলস্তর কমাতে চীনা দলগুলি হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারে বা আরও সরাসরি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে। হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যা ঠেকাতে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

## নেতৃত্বে সক্রিয়তা

বৃহস্পতিবার চীনের Premier Li Qiang তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে গিয়েরংয়ে দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এর কিছুক্ষণ পর President Xi Jinping একটি বৈঠক ডাকেন এবং কর্মকর্তাদের “বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন” করার পাশাপাশি হিমবাহ-হ্রদগুলির পর্যবেক্ষণ জোরদার করার নির্দেশ দেন।

## আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছতে শুরু করেছে

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহায়তা আসতে শুরু করেছে। India, Australia, South Korea, the United States এবং UN-এর পাশাপাশি Red Cross Federation প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। কাদাধস ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তার কারণে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলিতে দলগুলি পৌঁছনোর পর মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা।

## পরবর্তী পদক্ষেপ: জরুরি অগ্রাধিকার

– **ভূমিধস ও বন্যায় বাধাগ্রস্ত প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে** আরও ভুক্তভোগীর সন্ধান করা
– **নতুন হ্রদটিকে স্থিতিশীল করা**, যাতে সম্ভাব্য বাঁধভাঙন রোধ করা যায় এবং আরেকটি বন্যার ঢেউ নেমে না আসে
– **আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় করা**, যাতে নেপালের পরিকাঠামো যখন বিপর্যস্ত, তখন অনুসন্ধান ও উদ্ধার সক্ষমতা জোরদার করা যায়
– **হিমালয়ের হিমবাহ-হ্রদগুলির উপর ধারাবাহিক নজরদারি চালানো**, কারণ জলবায়ুজনিত চাপ আকস্মিক ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে

এই মাত্রার দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ ও জনসমাজের সক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা নেয়। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় ধ্বংসের পূর্ণ মাত্রা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নতুন করে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযান, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং বৈজ্ঞানিক পরামর্শের ফলে আরও কিছু প্রাণ বাঁচানো এবং নতুন বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষীণ আশা এখনও রয়েছে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.