Source : BBC NEWS

Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
খবরে বলা হচ্ছে, বড় বড় অবকাঠামো কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনো শহরকে বাসযোগ্য ভালো শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না। আরো প্রয়োজন হয় দূষণমুক্ত পরিবেশ, মানসম্মত নাগরিক সেবা, সুশাসন ও টেকসই অর্থনীতির।
কিন্তু এসব সূচকে পিছিয়ে থাকায় বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের। বরং বছরের ব্যবধানে দেশের বড় শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও নিচে নেমেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের আটটি শহরের মধ্যে এগিয়ে থাকা ঢাকার অবস্থান ৫১৫তম।
এ ইনডেক্সে গত বছর ঢাকা ছিল ৪৮২তম অবস্থানে। বছরের ব্যবধানে এ শহর পিছিয়েছে ৩৩ ধাপ। ফলে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ঢাকা। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ৫ সূচকের মধ্যে আছে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসন ব্যবস্থা।
ঢাকার সঙ্গে পিছিয়েছে দেশের অন্য বড় শহরগুলোও। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি পিছিয়েছে রাজশাহী। ৬৬ ধাপ নেমে শহরটির অবস্থান এখন ৭৭৯তম।
চট্টগ্রাম ১৪ ধাপ পিছিয়ে ৭৬৩তম হয়েছে। খুলনা রয়েছে ৮১১তম, সিলেট ৮৩৪ ও ময়মনসিংহ ৮৯৫তম অবস্থানে। বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম হয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে শুধু কুমিল্লা আগের বছরের অবস্থান ধরে রেখেছে। শহরটির অবস্থান ৮৮৩তম।

খবরে বলা হচ্ছে, ৫ই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর পরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপি’র তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় দলীয় হাইকমান্ড। অপকর্মে জড়িত কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে করা হয় বহিষ্কার। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় আইনি পদক্ষেপও।
কিন্তু দল ক্ষমতায় আসার পর ফের বেপরোয়া হয়ে ওঠে এসব বহিষ্কৃত নেতাকর্মী। বহিষ্কারের পরও তারা ব্যবহার করছেন দলের পরিচয়। নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে অংশ নিচ্ছে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দখল, চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবিতে জড়াচ্ছেন তারা। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকে প্রশাসনও। ফুটপাথ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাজার থেকে বালুমহাল- যেখানে অর্থ, সেখানেই আধিপত্যের লড়াইয়ে নামছে এসব বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।
আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে নির্মম মূল্য দিচ্ছেন নিজ দলের কর্মীরাই। ফুটপাথ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন, আবাসন, জমি, বাজার, টেন্ডার- এসব খাতের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে ঘটছে একের পর এক খুন। সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের ঘটনায় বিএনপি ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
যদিও এ ঘটনায় দ্রুতই ব্যবস্থা নেন সরকারপ্রধান। দলীয় এমপিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে তিনি অনন্য এক নজির তৈরি করেন। অপকর্মে জড়িত নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের পাশাপাশি করা হয় গ্রেপ্তার। গত চার দিনে ৪১ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতাকর্মী।

খবরে বলা হচ্ছে, মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে এসব কমিটির কথা কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আন্তরিক ও উদ্যোগী না হলে দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর খবর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল মঙ্গলবার আরও ১০ জন মারা গেছে। এর আগের দিন ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে ২৮১ জনের মৃত্যু হলো। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা আছে।
ডেঙ্গু এখন দেশের সব জেলায়। এই ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। এডিস মশা মারার মূল দায়িত্ব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের; কিন্তু বছরের পর বছর তারা কাজটি ঠিকমতো করছে না।
২০১৯ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকাশিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ জাতীয় নির্দেশিকা’য় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
প্রতিটি স্তরে কত সদস্যের কমিটি কবে, কাদের নিয়ে কমিটি গঠিত হবে, কমিটির কার্যপরিধি-এসব বিস্তারিত ওই নির্দেশিকায় লেখা আছে। কিন্তু জাতীয় কমিটি এবং সিটি করপোরেশনগুলোর কমিটি ছাড়া বাকি সব কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হতে দেখা যায়নি।

খবরে বলা হচ্ছে, জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহীন আগামী মাসে বাংলাদেশে আসছেন। তিনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবেন। জাতিসংঘের শিক্ষা সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ঢাকা অফিস তাঁকে সহায়তা করবে।
আগামী ২৩শে নভেম্বর ফরিদা শাহীনের ঢাকায় আসার কথা। তিনি ৪ঠা ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকবেন। তাঁর বাকি কর্মসূচি নভেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত হবে। তবে বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি মবে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এ ধরনের ঘটনায় মারা যাওয়া শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন।
মবের শিকার শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’ এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির হিসাবে, বেপরোয়া মবকারীদের হাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে অন্তত আটজন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের পর মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। ৯৪০ জন শিক্ষক এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। মবের শিকারদের বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক নেতারা সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে সরকারি কয়েকটি নির্দেশনা জারি করলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে দুই বছর ধরে অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। কারও শিক্ষক ইনডেক্স (এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শনাক্তকরণ নম্বর) বাতিল করা হয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, দেশের আকাশসীমা দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একের পর এক বিদেশি উড়োজাহাজ। এত দিন এসব উড়োজাহাজের চলাচল নজরদারি ও হিসাব রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ছিল।
ফলে আকাশসীমা ব্যবহারের বিপরীতে প্রাপ্য রাজস্ব আদায়েও পুরোপুরি সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। আধুনিক রাডার ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পর সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, নতুন রাডারে বাংলাদেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বেড়েছে কয়েক গুণ। এর সঙ্গে বেড়েছে বিদেশি উড়োজাহাজের কাছ থেকে আদায় করা ‘ওভারফ্লায়িং চার্জ’।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এই খাত থেকে বিমান চলাচল খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আয় করেছে ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশের আকাশসীমায় থাকা উড়োজাহাজের অবস্থান এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে। ফলে কোন উড়োজাহাজ কতটুকু আকাশসীমা ব্যবহার করছে, তার হিসাব রাখা এবং সে অনুযায়ী চার্জ আদায় করা সহজ হয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এ বছর বোয়িংকে নতুন করে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার আদেশ দিয়েছে। আজ এয়ারবাসের আরও ১০টি কেনার চুক্তি হবে।
পাশাপাশি ২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কিন্তু নতুন বহর বাড়ানোর এই মহাযজ্ঞে কতটা প্রস্তুত বিমান-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ, বিদ্যমান বহর পরিচালনাতেই নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট।
প্রশ্ন রয়েছে প্রকৌশলী ও মেইনটেন্যান্স সক্ষমতা নিয়েও। এর সঙ্গে রয়েছে পাইলট সংকট। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা কর্মীরাও বিভিন্ন সময়ে অপারেশনাল জটিলতার কারণ হয়ে উঠছেন।
সব মিলিয়ে বহর বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিমানের বর্তমান সক্ষমতা কতটা এবং নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনায় অতিরিক্ত কতটা সক্ষমতা প্রয়োজন-তার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধারে বহর বাড়ানোর উদ্যোগ যথাযথ। তবে শুধু বহর বড় করলেই হবে না; তা নিরাপদ ও দক্ষভাবে পরিচালনার সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এয়ারলাইন্সের ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে হবে।

নিউ এইজের শিরোনাম ‘Poor population rises by 80 lakh in 4 years: WB’ অর্থাৎ ‘৪ বছরে দরিদ্রের সংখ্যা বেড়েছে ৮০ লাখ: বিশ্বব্যাংক’।
খবরে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী চার বছরের ব্যবধানে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা আনুমানিক ৮০ লাখ বেড়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিলো ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, ২০২৬ সালে ১০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে। এর প্রভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার কমেছে, কারখানা বন্ধ ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অব্যাহত মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে; সর্বোপরি, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্য ম্লান হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রকাশ করা হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আর্থিক, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়া বিশ্বব্যাংক ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকতর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই বর্তমান কর্মসূচিগুলোর আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম ‘BNP focusing on its polls promises’ অর্থাৎ ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি।
খবরে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার বিষয়ক বিশেষ সংসদীয় কমিটি জুলাই সনদের পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দলটির প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেবে বলে কমিটির ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা জানিয়েছেন।
বিএনপির প্রধান প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থেকে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে বাদ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পদে কোনো ব্যক্তির মেয়াদ ১০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
প্রধানমন্ত্রীর একই সঙ্গে দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদ প্রবর্তনের বিষয়টিও সমর্থন করে।
কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও জয়নুল আবদীন এ বিষয়ে দলের অবস্থান নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক বিষয়গুলো দলীয় গঠনতন্ত্রের পাশাপাশি বিবেচনা করা হবে।
কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আবারও বলেছেন, স্বাক্ষরিত সনদটি বিএনপি হুবহু বাস্তবায়ন করবে।
গতকাল কমিটির বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ’আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এমন কিছু প্রস্তাব রয়েছে যার জন্য সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন। যেহেতু এসব বিষয়ে আমরা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি, তাই আমরা সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করব।’

খবরে বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হলেও নির্বাচনকালীন সরকার কিভাবে গঠিত হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা কে ও কিভাবে নির্বাচিত হবেন- এ নিয়ে এখনো কাটেনি জটিলতা।
জুলাই জাতীয় সনদে এ জন্য পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি থেকে শুরু করে ৫ + ৫ + ২ পদ্ধতি, বিচার বিভাগের দুই প্রতিনিধি যুক্ত করা এবং সাত সদস্যের কমিটিতে গোপন ব্যালটে ‘র্যাংকড চয়েস’ ভোটের যে কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, তার একাধিক ধাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে।
বিশেষ করে বিচার বিভাগের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে র্যাংকড চয়েস পদ্ধতি এবং পদ শূন্য হলে উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে নোট অব ডিসেন্ট। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় নীতিগত ঐকমত্য এলেও সেটিকে কার্যকর সাংবিধানিক কাঠামোয় রূপ দেয়াই এখন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে উত্থাপিত এবং লিখিতভাবে পাঠানো প্রস্তাবগুলো কমিটির প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

খবরে বলা হচ্ছে, রাজধানীর গাবতলীতে গত ১৩ই জুলাই দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে কোডিনযুক্ত ৫৫০ বোতল এস্কাফ (নতুন মাদক) ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আটক করা হয় এক চালককে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ভারত সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্ত থেকে ওই চালান ঢাকায় আনা হয়। মাদক পাচারকারীরা প্রায়ই এই রুট ব্যবহার করছে।
সোনামসজিদ সীমান্ত মাদক পাচারের রুট হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) লাল তালিকাভুক্ত। অধিদপ্তর মাদক পাচারের এমন ২৯৬টি রুট চিহ্নিত করেছে। এগুলো রয়েছে ৩৭ জেলার ১৮৭টি উপজেলায়।
এর মধ্যে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার ৯৮ উপজেলায় রয়েছে ২৪১টি রুট। ৩০টি জেলা ভারতের সীমান্তবর্তী। সেগুলো হলো-পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট। মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলা হলো-রাঙামাটি, বান্দরবান কক্সবাজার।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় দেখা গেছে, ৯২ উপজেলার ২১২টি রুট ব্যবহার করে ভারত থেকে হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলের পাশাপাশি কোডিনযুক্ত এস্কাফসহ (ফেনসিডিলের মতো) নতুন ধরনের সিরাপ এবং বিদেশি মদ পাচার হয়ে দেশে ঢুকছে।





