Home LATEST NEWS BANGLA বার সভাপতির বক্তব্যের জেরে এজলাস থেকে চলে গেলেন প্রধান বিচারপতি

বার সভাপতির বক্তব্যের জেরে এজলাস থেকে চলে গেলেন প্রধান বিচারপতি

5
0

Source : BBC NEWS

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট

ছবির উৎস, Getty Images

তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে একজন আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে আপিল বিভাগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুনানিতে
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম
মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে মঙ্গলবার বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

এক পর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান
বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের
সভাপতি মি. খোকন ও এটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল দুই পক্ষই ব্রিফ করেছেন।

সেখানে তাদের দুইজনের কথায়ই উঠে
এসেছে- ওই আইনজীবীকে জরিমানা করার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বার এসোসিয়েশনের সভাপতি
মি. খোকন। যার জের ধরে এজলাস ছাড়েন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ।

ঘটনার পরপরই নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ
সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ব্রিফিংয়ে বলেন, “একজন মহিলা আইনজীবীর ওপর একটা
মামলায় কস্ট দিয়েছেন তারা। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। শেষ হওয়ার পর আমি প্রধান বিচারপতিকে
বিনয়ের সাথে বললাম যে- আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আসলে মামলা টামলা খুব একটা হচ্ছে
না আপিল বিভাগে। ল’ইয়ারদের ইনকাম কমে গেছে। একজন জুনিয়র ল’ইয়ার পাঁচ লাখ টাকা
কস্ট দেওয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাকে মাফ করে দেওয়া দরকার”।

মি. খোকন বলেন, “তখন উনি (প্রধান
বিচারপতি) বললেন যে, “আমি চিফ জাস্টিস হওয়ার পর ইনকাম কমে গেছে? আমি বললাম ইনকাম ওই
সেন্সে কমে গেছে”।

মি. খোকনের ব্রিফিংয়ের পরপরই অ্যাটর্নি
জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ওই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

মি. কাজল বলেন, “উনি (মাহবুব উদ্দিন
খোকন) যখন বললেন একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন। তখন চিফ জাস্টিস বললেন, আমরা সব
কিছু দেখেশুনে একটা আদেশ দিয়েছি। আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করবো না। কারণ ওনাদের বক্তব্য
অনুযায়ী ‘সিরিয়াস ফ্রড কমিট’ করা হয়েছে”।

“তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহাবুব উদ্দিন খোকন, তিনি একজন
জাতীয় সংসদ সদস্য.. তিনি বলে ফেললেন, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম
কমে গেছে”, যোগ করেন তিনি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “বিষয়টা
মাননীয় প্রধান বিচারপতি প্রথমে একটু লাইটলি নিলেন। তারপর বললেন আপনি কি এটা মিন করেন
কী-না? মাহাবুব উদ্দিন খোকন সাহেব একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেছেন… তখন মাননীয় প্রধান
বিচারপতি বলেছেন, আপনি যে কথাটা বলেছেন অ্যাবসুলেট আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি
এতবড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবো না। এ কথা বলেন
উনি উঠে গেছেন”।