Home LATEST NEWS BANGLA ভারতের প্রথম ‘ডিজিটাল’ আদমশুমারি নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

ভারতের প্রথম ‘ডিজিটাল’ আদমশুমারি নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর

4
0

Source : BBC NEWS

জনগণনা-সংক্রান্ত পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদমশুমারির কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের পহেলা অগাস্ট আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজ্যজুড়ে শুরু হলো জনগণনার কাজ।

পহেলা অগাস্ট থেকে অগাস্ট মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে জনগণনার গৃহ-গণনা (হাউসলিস্টিং) পর্যায়ের সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া। অনলাইনে মানুষ তাদের বাড়ি ও আবাসন সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার খুঁটিনাটি তথ্য জমা দিতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রী শনিবার জানান, “এবারের সেন্সাসে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা জানি। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল সেনসাস হচ্ছে। আর তার সাথে সাথে সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-গণনাও প্রথমবারের মতো হচ্ছে। আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজে করলাম। আমি গোটা রাজ্যের জনগণকে এই সেন্সাস কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্য আবেদন করছি।”

ভারতের ১৬তম আদমশুমারি নিয়ে তিনি আরো জানান, পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের পহেলা অগাস্ট থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত se.census.gov.in ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরিবারের তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।

“এই তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয়, আইনগত ভাবে সুরক্ষিত। শুধুমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হবে। এই ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার করার সুযোগ এ ক্ষেত্রে নেই।”

পশ্চিমবঙ্গে স্ব-শুমারির কাজ শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআরের কয়েক মাস পরেই। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জনশুমারি পরিচালনা করছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের মানুষকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার বা তার পিতামাতার নাম চিহ্নিত করে, অথবা নাগরিকত্ব প্রমাণ করার মাধ্যমে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের ভোটাধিকার প্রমাণ করতে হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় অন্তত ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের মানুষ বৈধ ভোটার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে গিয়ে যে মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন, আদমশুমারির প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে, যদিও এই দুটির পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।

একজন সরকারি কর্মচারী ২০২৭ সালের আদমশুমারির কাজ করছেন (প্রতীকী ছবি)

ছবির উৎস, ANI

আদমশুমারি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় বসবাসকারী একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বিবিসিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলছেন, “জনগণনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এই রাজ্যে একজন নাগরিক হিসেবে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য বারবার ফর্ম জমা দেওয়া আর নথিপত্র জোগাড় করা ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে। এসআইআরের কারণে আমাদের সকলের মনের মধ্যে নথি সংক্রান্ত অ্যাংজাইটি ঢুকে গেছে।”

মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের একজন স্কুল শিক্ষক, আখতার আলি, এসআইআরে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিলেন। এখনো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার আবেদন ট্রাইবুনালে বিবেচনাধীন। ভোটাধিকার হারানো সত্ত্বেও তাকে সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দানের দিন পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।

বিবিসিকে তিনি বলছেন, একজন ‘ডিলিটেড’ ভোটার হিসেবে তাকে জনগণনায় স্বীকার করা হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না।

“আমাদের পরিবার বংশসূত্রে একাধিক প্রজন্ম ধরে ভারতের নাগরিক। অনৈতিক ভাবে বাদ যাওয়া ভোটাররা, একটি বড়ো ষড়যন্ত্রের শিকার। সেন্সাসে কি হবে আমি জানি না। কিন্তু আমাদের দেশের সংবিধানের উপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”

রাজ্যের একটি সরকারি স্কুলে ইংরেজির শিক্ষিকা মধুমিতা মণ্ডল এসআইআরের সময়ে বুথ লেভেল অফিসার অর্থাৎ বিএলওর কাজ করেছিলেন।

বিবিসিকে তিনি বলছেন, ”পর পর এসআইআরের কাজ, নির্বাচন পরিচালনা করার কাজ, এবং এখন জনগণনার কাজের সিংহভাগ সরকারি শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপর এলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। “বার বার এই রকম কাজে টিচারদেরনিলে সব থেকে বেশি ভুগবে ছাত্র ছাত্রীরা।”

এখনো পর্যন্ত তার স্কুলে আদমশুমারির কাজের কোনো বিজ্ঞপ্তি বা চিঠি আসেনি। কিন্তু তিনি বলছেন, অন্যান্য জেলায় তার কয়েকজন সহকর্মী শিক্ষক শিক্ষিকাদের এই কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে।

“২০১১ সালের জনগণনাতে আমি গণনাকারী কর্মকর্তার কাজ করেছিলাম। তখন স্কুল থেকে একটু ছাড় পাওয়া যেত। এই বার হয়তো সেটা হবে না। এসআইআরেও আমাদের সারাদিন স্কুল করে তারপর বাড়ি বাড়ি যেতে হয়েছে এসআইআরের কাজে। একজন নারী হয়ে এই রকম কাজ সত্যিই আমাদের খুব সমস্যায় ফেলে। সারাদিন বাইরে থাকলে, সংসারের কাজ, রান্নাবান্না, সন্তানের দেখা শোনা কে করবে?”

মিজ. মণ্ডল বলছেন, ২০১১ সালে জনগণনায় তার দায়িত্ব পড়েছিল ভাঙড়ের কাছে একটি গ্রামে।

“সকালে যেতাম, রাত্রে বাড়ি ফিরতাম। একবার গেলে কাউকে পাওয়া যেত না। সবাই সংসার চালানোর জন্য কোনো না কোনো কাজ করেন। সারাদিন বাড়িতে কাউকে পাওয়া যেত না। দুই তিন বার করে যেতে হতো এক একটা বাড়িতে। একজনের বাড়িতে প্রায় ৪০টি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর নোট ডাউন করতে হতো। বাড়িতে কজন সদস্য আছে, সেই তথ্য থেকে শুরু করে, রেডিও আছে কি না, গরু বাছুর আছে কি না, সব রকম তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হতো। এই কাজটি বেশ সময়সাপেক্ষ।”

সরকারি কর্মীরা আদমশুমারির কাজে বাড়ি-বাড়ি যাচ্ছেন (প্রতীকী ছবি)

ছবির উৎস, ANI

তার মতে, ডিজিটাল সেন্সাসে তাদের কাজ আরো বাড়বে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একজন নাগরিক আগেই অনলাইনে তার স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও, গণনাকারী কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া বাধ্যতামূলক।

“আগের বারের মতন এই বারও বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। তার উপর, তথ্য সংগ্রহ করে সেটি আপলোডও করতে হবে। দেখতে গেলে, ডিজিটাল সেন্সাসে গণনাকারীদের কাজ বেশি আগের থেকে।”

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়ে বুথ লেভেল অফিসারদের একাংশ প্রতিবাদ করেছিলেন অনলাইন এসাইয়ারের ফর্ম আপলোড করার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি ছিল, আলাদা করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিযুক্ত করা হোক।

স্কুলে পড়ানোর কাজ শেষ করে, সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটারদের ফর্ম সংগ্রহ করে, তারপর ফর্মগুলি অনলাইন পোর্টালে আপলোড করতে তাদের সারা রাত কেটে যাচ্ছিল বলে তাদের অভিযোগ। মিজ. মণ্ডলের মতে, জনগণনার কাজের ভার যদি পুরোপুরি শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিতে হয় স্কুলের কাজের পাশাপাশি, তাহলে পুনরায় আন্দোলন হতে পারে।

আদমশুমারি বা জনগণনার উদ্দেশ্য হলো জনসংখ্যার একটি আনুষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত গণনা এবং বয়স, লিঙ্গ, পেশা, আবাসন, কর্মসংস্থানের মতো খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের জনসাধারণের একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায়। পাশাপাশি যেকোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।

জনগণনা ডিরেক্টরেটের তথ্য অনুযায়ী, আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন অর্থাৎ নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক আসনের সংখ্যা পরিমার্জনাও করা হয়। বর্তমানে ভারতে প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

এই প্রতিবেদনে এই চলতি আদমশুমারি সংক্রান্ত কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর :

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী 'সেলফ-এনুমারেশন' বা স্ব-গণনাভিত্তিক আদমশুমারির সূচনা ঘোষণা করছেন 

ছবির উৎস, ANI

স্ব-শুমারিতে কী কী নথি জমা দিতে হবে?

“ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই জনশুমারি নিয়ে যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, অনলাইন স্ব-শুমারি প্রক্রিয়ায় কোন নথি বা পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে না।”

সেখানে বলা হয়েছে, কিন্তু, অনলাইনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিভিন্ন স্তরে মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওয়ান-টাইম-পাসওয়ার্ড অর্থাৎ ওটিপি জমা দিতে হবে। অর্থাৎ স্ব-গণনার সময় একটি সচল মোবাইল নম্বর এবং ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে।

প্রথম ধাপে একজন নাগরিককে একটি অনলাইন ম্যাপে তার বাড়িটি খুঁজে বের করতে হবে এবং তার জিওলোকেশন নিশ্চিত করতে হবে। এই ম্যাপ ধরেই সরকারি কর্মকর্তারা একজন নাগরিকের বাড়ি যাবেন গণনার কাজ সম্পূর্ণ করতে।

জনগণনার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, যারা কোনো ইনস্টিটিউশনে বসবাস করছেন বা গৃহহীন, তারা অনলাইন স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে পারবেন না। স্ব-শুমারি করা থাকলে জনগণনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মচারীদের সশরীরে যাচাইকরণের কাজটি আরো তাড়াতাড়ি এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে, এমনটাই জানা যাচ্ছে সরকারি তথ্যসূত্রে।

গণনাকারীকে কোনো নথিপত্র দেখাতে হবে?

না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গণনাকারী আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য লিখে নেবেন।

জনগণনার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আলাদা করে কোনো প্রমাণপত্র দেখানোর প্রয়োজন নেই। তবে, গণনাকারীকে অবশ্যই সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করতে হবে।

কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সি. আর. পাতিলের বাসভবন থেকে জাতীয় আদমশুমারি কার্যক্রমের সূচনা করছেন সরকারি কর্মকর্তারা 

ছবির উৎস, ANI

স্ব-শুমারিতে কী তথ্য দিতে হবে?

জনশুমারির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আদমশুমারির প্রথম পর্যায়ে স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় প্রধানত আবাসন এবং সেই সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা যেমন বাড়ির নির্মাণের ধরন (মাটির বাড়ি, পাকা বাড়ি ইত্যাদি), বাড়ির মালিকানা (নিজস্ব না ভাড়া নেওয়া), শৌচাগার, রান্নাঘর, রান্নার জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, টেলিযোগাযোগের সুবিধা ইত্যাদির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই তথ্য নেওয়া হচ্ছে একজন গৃহ-কর্তা বা কর্ত্রীর নামে।

অনলাইনে এই তথ্য জমা দেওয়া হয়ে গেলে ইংরেজির ‘এইচ’ (H) অক্ষর দিয়ে শুরু একটি ১১ অক্ষরের স্ব-শুমারি আইডি (এসি আইডি) স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। সেটি ইমেইল এবং এসএমএসেও পাঠানো হবে। এই নম্বরটি যত্নসহকারে রাখতে হবে। জনগণনার কর্মকর্তা বাড়িতে এলে তাকে এই নম্বরটি দিতে হবে।

যদি অনলাইন স্ব-শুমারির মাধ্যমে আগেই এই তথ্য জমা দেওয়া থাকে, তবে যাচাইকরণের জন্য জনগণনা কর্মকর্তাকে ‘এসই আইডি’ জানাতে হবে। গণকারী কর্মকর্তা আরও কিছু তথ্য, যেমন বাড়ির নম্বর, গৃহের ব্যবহারের ধরণ ইত্যাদি সংযুক্ত করবেন। তথ্যাদি যাচাই করার পর তিনি চূড়ান্তভাবে সেই তথ্য আপলোড করবেন।

স্ব-শুমারি আইডি হারিয়ে গেলে কী হবে?

এসি আইডি হারিয়ে ফেললে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে স্ব-শুমারির পোর্টালের মাধ্যমে এই এসি আইডি পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে। এছাড়া, গণনাকারী যখন বাড়িতে আসবেন, তখনও তার সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।

এমনটাই বলা হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত জনশুনানির ওয়েবসাইটে।

জনগণনা কর্মকর্তাকে যদি সঠিক এসি ইডি না দেওয়া হয়, তবে তিনি ব্যক্তির পরিবার এবং আবাসন সংক্রান্ত সব প্রশ্ন আবার জিজ্ঞাসা করে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করবেন।

পশ্চিমবঙ্গে পহেলা অগাস্ট থেকে অগাস্ট মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলবে জনগণনার গৃহ-গণনা (হাউসলিস্টিং) পর্যায়ের সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (প্রতীকী ছবি)

ছবির উৎস, ANI

স্ব-শুমারির পর তথ্য সংশোধন করা যাবে?

অনলাইন পোর্টালে তথ্য প্রদানের অগ্রগতি ‘ড্রাফট’ হিসেবে ‘সেভ’ করে রাখার সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ফর্মটি ভরে জমা দিতে হবে।

এ সংক্রান্ত সরকারি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ফর্মটি চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়া পর্যন্ত অথবা আপনার রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে স্ব-শুমারির শেষ দিন পর্যন্ত তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যেতে পারে।

ফর্ম জমা দেওয়ার পর কিংবা স্ব-শুমারির সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে, শুধুমাত্র বাড়ি যাচাইকরণের সময় ফর্মে গণনাকারী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় পরিমার্জনা করতে পারবেন।

এই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই কাজ হচ্ছে

ছবির উৎস, censusindia.gov.in

অনলাইন স্ব-শুমারির সময় কীভাবে বাড়ির সঠিক স্থান চিহ্নিত করতে হবে?

ভারতের সরকারের এ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এ জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে জেলার নাম বেছে নিতে হবে এবং সঠিক পিন কোড লিখতে হবে।

এরপর গ্রাম, এলাকা, রাস্তা বা নিকটবর্তী কোনো উল্লেখযোগ্য ল্যান্ডমার্ক সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে ‘সার্চ’ বোতামে ক্লিক করলে এলাকার ম্যাপটি লোড হবে। ম্যাপে আলাদা আলাদা বাড়ি যতক্ষণ না পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ জুম-ইন করতে হবে।

নিজের বাড়ি চিনতে পারলে ম্যাপের মার্কারটি ঠিক সেই বাড়ির ওপর এনে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে রাস্তার নিকটবর্তী ল্যান্ডমার্কগুলোর সাথে মিল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করা যেতে পারে।

মার্কারটি নিশ্চিত করার সময় সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই একজন গণনাকারী অফিসার নিযুক্ত করা হবে। মার্কারটি ভুল স্থানে স্থাপন করলে গণনাকারীর মোবাইল অ্যাপে আপনার পরিবারের তথ্য পাওয়া না-ও যেতে পারে।