Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
সতর্কবার্তা: এই রিপোর্টে এমন কিছু বিবরণ রয়েছে যা কারও কারও জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
আর্জেন্টিনার আইকনিক ফার্স্ট লেডি ইভা পেরন, ১৯৫২ সালের জুলাই মাসে মারা যান। অনেকের কাছে তিনি ইভিটা নামেও পরিচিত ছিলেন।
তার মৃত্যুর ৬০ বছর পর, বিবিসি তার মরদেহের অদ্ভুত অন্তর্ধান এবং বিশ্বজুড়ে এর ১৬ বছরের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়েছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই এ প্রতিবেদন।
১৯৫২ সালের ২৬শে জুলাই ইভা পেরনের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর, কাজে নেমে পড়েছিলেন ডক্টর পেদ্রো আরা।
প্রখ্যাত এই স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট বা ব্যবচ্ছেদবিদকে আর্জেন্টিনার ফার্স্ট লেডির মরদেহ সেই একই উপায়ে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যেভাবে রুশরা তাদের নেতা লেনিন এবং স্ট্যালিনের দেহাবশেষ সংরক্ষণ করেছিল।
মৃত্যুর পর ইভিটার মরদেহ আর্জেন্টিনার শ্রম মন্ত্রণালয় ভবনে রাখা হয়েছিল।
সেখানে শ্রমিকদের একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথা ছিল, যার ভিত্তিপ্রস্তরে থাকবে একটি কাচের কফিন, যেটিকে ইভিটার চূড়ান্ত বিশ্রামের স্থান হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল।
কিন্তু তার তিন বছর পর, ১৯৫৫ সালের সেপ্টেম্বরে, তার স্বামী প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরন এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নির্বাসনে যান।
নতুন সরকার এসে ইভা পেরনের মরদেহ শহরের কেন্দ্রে থাকা স্মৃতিস্তম্ভ থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।
সে কারণে তারা কাচের কফিনে রাখা মরদেহটি চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয়, আর এর মাধ্যমেই শুরু হয় ১৬ বছরের এক করুণ সফর – নিজ ভূমিতে নিজের দেশে শেষ পর্যন্ত সমাধিস্ত হওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রা ইভিটার।
ছবির উৎস, Getty Images
মরদেহ চুরির পর ফের বুয়েনস আইরেসে ফেরার এই ১৬ বছরের যাত্রায় ইভা পেরনের মরদেহ কখনো রাখা হয়েছিল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সেন্টারে, কখনোবা একটি ভ্যানে রেখে ঘোরানো হয়েছিল পুরো শহর। এর মধ্যে একবার ইতালির মিলানে কবর দেওয়া হয়েছিল।
সবশেষে বুয়েনস আইরেসে এনে একটি সুরক্ষিত ক্রিপ্ট বা সমাধিগৃহে রাখার আগে ইভিটার মরদেহ স্পেনের মাদ্রিদে তার নির্বাসিত স্বামীর কাছেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মৃত্যুর পরেও মরেননি ইভিটা
জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইভা পেরন ৩৩ বছর বয়সে মারা যান। তার মরদেহ সংরক্ষণের পেছনে তার স্বামীর রাজনৈতিক কারণ ছিল।
দরিদ্র গ্রামীণ পটভূমিতে বেড়ে ওঠা এবং ফার্স্ট লেডি হিসেবে তার জনকল্যাণমূলক কাজ ইভাকে শ্রমজীবী মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছিল। এমনকি তার জনপ্রিয়তা আর্জেন্টিনায় এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।
“তাই স্ত্রীর শরীরটা সংরক্ষণ করে তার স্বামী ওই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে বা সেটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন,” ২০১১ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন পেরনিজম বিষয়ক ইতিহাসবিদ ফ্লাভিয়া ফিওরুচ্চি।
পেরনিজম বলতে হুয়ান পেরন ও ইভা পেরনের আদর্শের ওপর গড়ে ওঠা আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে বোঝায়, যার মূল ভিত্তি ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ এবং জনতুষ্টিবাদ।
“পেরন ও পেরনিজমের দিক থেকে বিভিন্ন প্রতীককে গুরুত্ব দেওয়ার যে বিষয়টি ছিল, এর সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল এটি, কারণ ইভিতাও তার দেশে এক প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।”
এটি তার মৃত্যুর পরের সপ্তাহগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্প্যানিশ অ্যানাটমিস্ট ডক্টর আরা প্যারাফিন ও গ্লিসারিন ইনজেকশনের কৌশল ব্যবহার করে ইভিটার মৃত শরীরকে একদম তাজা আর স্বাভাবিক অবস্থায় সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন।
ইভা পেরনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ কংগ্রেস ভবনে ১৪ দিন ধরে রাখা তার কফিন দেখতে এসেছিলেন।
জীবিত অবস্থায় তিনি নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকে যে অগাধ সমর্থন ও অন্ধভক্তি অর্জন করেছিলেন ইভিটা, মৃত্যুর পরও তা অব্যাহত ছিল।
ছবির উৎস, Getty Images
আর ইভিটার মরদেহের এই প্রতীকী গুরুত্বই ছিল পরবর্তী ১৬ বছর ধরে তার দীর্ঘ যাত্রার মূল কারণ।
১৯৫৫ সালে যখন পেরন ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন জেনারেল পেদ্রো আরামবুরুর নেতৃত্বে চলা একনায়কতন্ত্র পেরনিজম বা পেরনের আদর্শের সমস্ত দিক নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েছিল, এবং তারা ভয় পেয়েছিল যে ইভিটার মরদেহ প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।
বুয়েনস আইরেসের প্রাণকেন্দ্র থেকে ইভিটার মরদেহটিকে সরানোর পর সেটিকে এক জায়গায় রাখতেন না আর্জেন্টিনার সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল কার্লোস মুরি কেনিগ। বরং শহরের চারপাশে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মরদেহটি সরিয়ে নিয়ে যেতেন।
কারণ তিনি আতঙ্কে ছিলেন যে পেরনপন্থিরা এটি উদ্ধার করার চেষ্টা করতে পারে।
বলা হয়ে থাকে, সেসময় ইভিটার মরদেহটি কখনো রাজধানীর রাস্তায় পার্ক করা একটি ভ্যানের ভেতরে, কখনো সিনেমা হলের স্ক্রিনের পেছনে এবং কখনো শহরের পানির সরবরাহের পাম্পের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
তবে, যেখানেই কফিনটি নেওয়া হতো, সেখানেই ফুল ও মোমবাতি দেখা যেত। যদিও কারা সেটি রাখত তা জানা যায় না।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কেনিগ এরপর মরদেহটি তার অফিসে নিয়ে যান, যেখানে তিনি কফিনটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখতেন এবং দর্শনার্থীদের দেখাতেন।
একটা সময় এমন হলো যে কেনিগ তার দায়িত্বে থাকা লাশটির প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে বলা হয়।
“আমি তাকে মিলিটারি স্কুল থেকে চিনতাম। সে একদম স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু (ইভিটার) মরদেহটি হাতে পাওয়ার পর সে পাগল হয়ে গিয়েছিল,” ১৯৯৭ সালে নির্মিত ডকুমেন্টারি ‘ইভিটা, লা তুম্বা সিন পাজ’, বাংলায় যার মানে ‘ইভিতা, শান্তিহীন কবর’ এ বলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা কর্নেল হেক্টর কাবানিয়াস।
ছবির উৎস, Getty Images
আর্জেন্টাইন শিক্ষাবিদ সেসিলিয়া মাকন ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন যে, এ বিষয়ে আসল সত্যিটা ঠিক কী তা উদঘাটন করা কঠিন, কারণ “ইভিটাকে ঘিরে থাকা গল্পগুলোতে মিথ এবং ইতিহাস ক্রমাগত মিশে গেছে”।
এর মধ্যে একটি প্রচলিত গল্প হলো, কেনিগ ১৯৫৭ সালে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আগে তার দায়িত্বে থাকা ইভিটার লাশের প্রতি মোহাবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন।
কর্নেল কাবানিয়াসকে তখন ইভা পেরনের দেহটি অদৃশ্য করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ১৯৫৭ সালে এটি ইতালিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
সে সময় ইভিটাকে ইতালির মিলানের এক কবরস্থানে মারিয়া মাজ্জি দে মাজিসত্রিস ছদ্ম নামে কবর দেওয়া হয়।
এদিকে, দেশে তার সমর্থকরা ইভাকে ভুলে যাননি। প্রায়ই বুয়েনস আইরেসের দেয়ালে দেয়ালে লেখা দেখা যেত – “ইভা পেরনের মরদেহ কোথায়?”
লাশের প্রত্যাবর্তন সেসময় আর্জেন্টিনার পেরনপন্থিদের জন্য একটি বড় দাবি হয়ে ওঠে।
লাশের প্রত্যাবর্তন
ইতিহাসবিদ ফিওরুচ্চি বিশ্বাস করেন যে, সামরিক বাহিনী ইভিটার লাশ গায়েব করে দেওয়ার পর বিষয়টিকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলেছিল।
“ইভিটার মৃতদেহের ওপর যে আঘাত হানা হয়েছিল, তা দেশটির শ্রমজীবী শ্রেণীর মানুষের ওপর আঘাতেরই প্রতীক ছিল।”
১৯৭১ সালে আরেকটি নতুন সরকার আর্জেন্টিনায় গণতান্ত্রিক শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছিল এবং পেরনপন্থিদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে হুয়ান পেরনের কাছে ইভিটার মরদেহ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়।
সেসময় সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হুয়ান পেরন তার তৃতীয় স্ত্রী ইসাবেলকে নিয়ে মাদ্রিদের এক শহরতলির ভিলায় নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন, সেখানেই একদিন একটি রূপালী কফিনে করে ইভিটার দেহ পৌঁছে দেওয়া হয়।
হুয়ান পেরনের তৎকালীন ঘনিষ্ঠ সহযোগী কার্লোস স্পাদোনি ২০১২ সালে বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনিই প্রথম মরদেহটি দেখেছিলেন।
“জেনারেল পেরন, মালী এবং আমি মিলে কফিন থেকে দেহটি বের করি,” তিনি বলেছিলেন।
“আমরা এটিকে একটি মার্বেল পাথরের টেবিলের ওপর রাখি এবং আমাদের হাত মাটিতে নোংরা হয়ে যায়। তাই শরীরটা পরিষ্কার করতে হয়েছিল। ইসাবেল তুলা আর পানি দিয়ে খুব সাবধানে সেই যত্নটা নিয়েছিলেন… আর কিছুই না।
ইসাবেল তার (ইভার) সোনালী চুলগুলো আঁচড়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো বেশ লম্বা ছিল এবং তিনি চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করে চুলগুলো ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে দিয়েছিলেন।”
ছবির উৎস, Getty Images
এরপর কী ঘটেছিল তা নিয়ে ফের নানা গল্পগাঁথা ছড়িয়ে পড়ে, যা মূলত পেরন সরকারের সাবেক মন্ত্রী হোসে লোপেজ রেগার অলৌকিক বিশ্বাসের ওপর কেন্দ্র করেই ছড়িয়েছিল।
একটি গল্প এরকম – ইসাবেলকে ইভা পেরনের লাশের পাশে শুয়ে পড়তে বলেন রেগা যাতে ইভিটার রাজনৈতিক জাদু বা ক্যারিশমা তার ওপর প্রভাব ফেলে।
এমন বিশ্বাস ইভিটার প্রতি তার অনুসারীদের যে প্রায় ধর্ম বিশ্বাসের মতো অগাধ শ্রদ্ধা ছিল সেই ব্যাপারটিকেই প্রতিফলিত করে।
এক সময়ের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ইভিটা, যিনি তার স্বামীর সাথে ক্ষমতায় এসেছিলেন, নিজের অনুসারীদের কাছে তিনি এক সময় যেন আধ্যাত্মিক নেতা হয়ে উঠেছিলেন।
যে কারণে ইভা পেরনের মরদেহ তার অনুসারীদের কাছে পবিত্র হয়ে উঠেছিল, যদিও পেরন বিরোধীরা তাকে চরম ঘৃণা করত।
এরপর ১৯৭৩ সালে হুয়ান পেরন আর্জেন্টিনায় ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তখন ইসাবেল ছিলেন তার ভাইস প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, ইভিটার দেহ স্পেনেই থেকে গিয়েছিল।
কিন্তু ১৯৭৪ সালে হুয়ান হঠাৎ মারা যাওয়ার পর ইভিটার মরদেহ বুয়েনস আইরেসে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইভিটার মরদেহের ক্ষতি মেরামত করার জন্য যখন প্রথম যোগাযোগ করা হয়, তখন দোমিঙ্গো তেইয়েচিয়া রাজধানীর একটি বারে বসে ছিলেন।
“কালো পোশাক পরা দুই লোক ভেতরে ঢোকে,” ২০১২ সালে তিনি বিবিসিকে বলেন।
“তারা দরজা খুলে আমাদের দিকে তাকায়। এটি বিপজ্জনক ছিল, কারণ সেই দিনগুলোতে মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং ‘গায়েব’ করে দেওয়া হতো, তাদের আর কখনো দেখা যেত না।”
তেইয়েচিয়া ছিলেন শিল্পকর্ম, প্রত্নবস্তু এবং মানুষের দেহাবশেষের রেস্টোরার বা পুনরুদ্ধারকারী, যিনি ক্ষতি বা বিকৃতি সারিয়ে তাকে পূর্বাবস্থায় ফেরত আনেন।
সরকারের ডেথ স্কোয়াডের ভয়ে আতঙ্কিত হলেও, যখন জানতে পারেন লোক দুটি কেবল ড্রাইভার, তখন স্বস্তি পান তেইয়েচিয়া।
ছবির উৎস, Getty Images
তারা মরদেহকে ইভা পেরনের সাবেক ব্যক্তিগত চিকিৎসক অস্কার ইভানিসেভিচের কাছে নিয়ে যায়।
“তিনি আমাকে বললেন, ‘আমাদের কাছে তোমার জন্য একটা কাজ আছে। তোমাকে ইভা পেরনের শরীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে’।”
ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও তেইয়েচিয়া কাজটিতে রাজি হন।
“কাজটি করা মানে ছিল সেই সমস্ত লোকদের বিরুদ্ধে যাওয়া, যারা দেহটি গায়েব করে দিয়েছিল এবং অনেকেই সত্যি চেয়েছিল ইভিটা যেন আর কখনো ফিরে না আসেন। আমি জানতাম এটি আমার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে,” তিনি বলেছিলেন।
“হুমকি আসত, ফোনে হুমকি। একবার আমার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছিল।”
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনায় একের পর এক সরকারের অধীনে রাষ্ট্রীয় বর্বরতা ও নির্যাতন নিয়মিত হয়ে উঠলে এই পুনরুদ্ধারকারীকে নির্বাসনে যেতে হয়।
অবশেষে ১৯৭৬ সালের অক্টোবরে যখন ইভিটাকে চূড়ান্ত বিশ্রামে রাখা হয়, তার দাফনের সাক্ষী ছিল খুব ছোট একটি দল।
তার দেহাবশেষ যেন আর কখনো চুরি বা এমন কোনো প্রতিকূলতার মধ্যে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য মরদেহ রাখা হয় অতি-সুরক্ষিত ক্রিপ্টে, মানে পাথরের ভল্টে।
মার্বেল পাথরের সমাধির মেঝেতে একটি গোপন দরজা ছিল, যা নিচে একটি লুকানো ঘরের দিকে নিয়ে যেত।
আর সে ঘরে ছিল দ্বিতীয় আরেকটি গোপন দরজা, যা দিয়ে ইভিটার কফিনের মূল কক্ষে নিয়ে যেত।
মৃত্যুর ২৪ বছর পরও, ইভিটার প্রতীকী শক্তির কারণে তার দেহ মাটির পাঁচ মিটার গভীরে সমাহিত করতে হয়েছিল।




