Home RSS national bangla লন্ডনে CEC জ্ঞানেশ কুমার ও SIR-এর বিরুদ্ধে ভারতীয় ছাত্রগোষ্ঠীর বিক্ষোভ, সরকারি সমর্থকদের...

লন্ডনে CEC জ্ঞানেশ কুমার ও SIR-এর বিরুদ্ধে ভারতীয় ছাত্রগোষ্ঠীর বিক্ষোভ, সরকারি সমর্থকদের পাল্টা প্রতিবাদ

6
0

২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর, শনিবার, লন্ডনের Parliament Square-এ মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে শত শত মানুষ জড়ো হন। ভারতীয় শিক্ষার্থী এবং বিরোধী দলের সদস্যদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভে Chief Election Commissioner (CEC) Gyanesh Kumar-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়। বিক্ষোভের পাল্টা হিসেবে সরকারপন্থীদের একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

—

## বিক্ষোভের সূত্রপাত

“Stop Vote Chori” নামে এই কর্মসূচির আয়োজন করে Indian Overseas Congress-এর Youth wing। Students’ Federation of India (SFI) UK, South Asia Solidarity Group এবং Save Democracy-সহ প্রবাসী সংগঠনগুলি এতে সমর্থন জানায়। বিক্ষোভকারীরা Gyanesh Kumar-কে অপসারণ এবং SIR বাতিলের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট মুছে ফেলা হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, লন্ডনে ভারতের High Commission-এর বাইরে একটি ছোট আকারের বিক্ষোভ ও পাল্টা-বিক্ষোভ শনিবারের বৃহত্তর সমাবেশের আবহ তৈরি করে। “Stand in Solidarity” ব্যানারে SFI UK-এর নেতৃত্বে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে ভোটার তালিকা সংশোধনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দাবি জানানো হয়। একই সময়ে সরকারপন্থীরা নির্বাচনী সংস্কারের সমর্থনে সমাবেশ করেন।

—

## সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

শনিবার Parliament Square-এ কর্মী Dhruv Rathee হিন্দিতে শিক্ষার্থী এবং Non-Resident Indians-দের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি “vote chori” এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, Chief Election Commissioner-এর পরিবর্তে এমন একজনকে নিয়োগ করতে হবে, যাঁর বিষয়ে সরকার এবং Leader of the Opposition—উভয়ের সম্মতি রয়েছে।

“আমরা কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপ চাই না। আমি Parliament Square-এ ভারতীয় এবং NRIs-দের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে এসেছি,” বলেন Rathee। “সরকার এবং Leader of the Opposition-এর সম্মতিতে নির্বাচিত কোনও প্রার্থীকে Chief Election Commissioner-এর পদে নিয়োগ করা হলেই এই বিক্ষোভ থেমে যাবে।” বক্তব্যের পর তিনি “Inquilab Zindabad” এবং “Vande Mataram”-এর মতো স্লোগানে নেতৃত্ব দেন এবং ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করান।

অন্যদিকে, India Diaspora (ID) UK-এর আহ্বানে সরকারপন্থীরা Students’ group-এর বিপরীত দিকে জড়ো হন। তাঁদের পাল্টা-বিক্ষোভে “Modi, Modi” স্লোগান দেওয়া হয় এবং Prime Minister Narendra Modi-র নেতৃত্ব ও তাঁর ভাবনার প্রতি সমর্থন জানানো হয়। ID UK-এর প্রতিষ্ঠাতা Hirdesh Gupta বলেন, ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে প্রবাসী ভারতীয়রা Modi এবং তাঁর সরকারের সঙ্গে “কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে” রয়েছেন।

—

## পুলিশের ভূমিকা ও পরিবেশ

দুই পক্ষই একে অপরের স্লোগানকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে Metropolitan Police দুই দলকে আলাদা রাখে, বিশেষ করে গান্ধীর মূর্তির আশপাশে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।

সংবিধান পাঠ, দেশাত্মবোধক স্লোগান এবং পতাকা ওড়ানোর মধ্য দিয়ে ঘটনাস্থলে তীব্র প্রতীকী আবহ তৈরি হয়। এগুলি ছিল নির্বাচনী ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে এক আবেগপূর্ণ আবেদন।

—

## বিক্ষোভকারীদের দাবি ও প্রতিক্রিয়া

Cockroach Janata Party (CJP) এবং অন্যান্য বিরোধী কণ্ঠের সঙ্গে যুক্ত বিক্ষোভকারীদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে:

– Gyanesh Kumar-কে Chief Election Commissioner-এর পদ থেকে সরিয়ে এমন একজন প্রার্থীকে নিয়োগ করা, যাঁর বিষয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সম্মতি রয়েছে।
– ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা উল্লেখ করে Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়া বন্ধ করা।
– ভোটার তালিকায় কথিত পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনা—এর মধ্যে নাম বাদ দেওয়া এবং সন্দেহজনক সংশোধন অন্তর্ভুক্ত।

Election Commission SIR-এর পক্ষে সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, মৃত ও একই ব্যক্তির একাধিক নামের এন্ট্রি বাদ দেওয়া, পরিবর্তিত ঠিকানার বিষয়টি সমাধান করা এবং অন্যথায় অযোগ্য এন্ট্রিগুলি সরিয়ে দেওয়াই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য।

—

## প্রেক্ষাপট: দেশে ও বিদেশে বিক্ষোভ

লন্ডনের এই বিক্ষোভ ভারতে চলমান বৃহত্তর বিক্ষোভেরই অংশ। CJP, Congress-এর ছাত্র শাখা এবং নাগরিক সমাজের মতো যুব-অধিকারকর্মী সংগঠনগুলির নেতৃত্বে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ চলছে। Gyanesh Kumar-এর আমলে কথিত নির্বাচনী অনিয়ম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাই তাঁদের মূল বিষয়।

ভারতজুড়ে SIR-এর ফলে ইতিমধ্যে ১৩০ মিলিয়নেরও বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দল এবং অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের দাবি, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা অসমানভাবে বেশি।

—

## আগামী দিনের দিক

শনিবারের লন্ডন বিক্ষোভ এবং শুক্রবারের কর্মসূচি ভারতীয় প্রবাসী সমাজের মধ্যে নির্বাচনী ও গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সংহতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। ভারতের বাইরে উত্থাপিত দাবিগুলি ভারতের বিভিন্ন শহরে ওঠা দাবিরই প্রতিফলন: Gyanesh Kumar-এর পদত্যাগ এবং SIR-ভিত্তিক ভোটার তালিকা সংশোধন বন্ধ করা বা তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার।

এই বিক্ষোভগুলি আগামী দিনে সরকারি নীতি বা আইনি চ্যালেঞ্জে প্রভাব ফেলে কি না, তা পর্যবেক্ষকরা গভীরভাবে নজরে রাখবেন—বিশেষ করে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে। এদিকে, ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া হিসেবে SIR-এর ভূমিকার পক্ষে সরকারি অবস্থান বজায় রয়েছে।

—

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.