Home LATEST NEWS BANGLA সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

সোভিয়েত আমলের যে হ্রদে এখনো ভেসে ওঠে মানুষের হাড়গোড়

6
0

Source : BBC NEWS

একটি কোলাজে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন কিশোর একটি সৈকতে দাঁড়িয়ে ও বসে মানবদেহের হাড় একটি হ্রদে নিক্ষেপ করছে। সেখানে একটি আঁকা “সাঁতার নিষিদ্ধ” চিহ্ন রয়েছে, আর একটি কাটআউটে বালুর নিচে আরও হাড় দেখা যাচ্ছে।

ছবির উৎস, BNK/VK MO “Knyazhpogostsky”/BBC

কারও কাছে ইয়েমভার সাঁতারের হ্রদটি একটি “চমৎকার জায়গা”, রাজহাঁসে ভরা এক মনোরম জলাধার, গরমের দিনে ঠান্ডা পানিতে ডুব দেওয়ার জন্য আদর্শ।

আবার অন্যরা একে বলে কবরস্থান।

রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের কোমি প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত এই কৃত্রিম সৈকতের একটি ছবির নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে, “পুরো শহর জানে, সেখানে শুধু হাড়ের ওপর হাড় রয়েছে।”

দশকের পর দশক ধরে স্থানীয়রা এই হ্রদে সাঁতার কাটছেন। কিন্তু এটি তৈরি করা হয়েছিল এমন একটি স্থান খনন করে, যা একসময় সোভিয়েত গুলাগ ব্যবস্থার যারা শিকার হয়েছেন, তাদের গণকবর ছিল। গুলাগ ছিল জোরপূর্বক শ্রমশিবিরের একটি কুখ্যাত নেটওয়ার্ক।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত তীরে মানবদেহের হাড় খুঁজে পান।

মৃতদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ বা ফলক নেই, যা সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারত। কর্তৃপক্ষ কখনোই স্থানটিকে চিহ্নিত করেনি।

এমনকি সম্প্রতি ওই দেহাবশেষ নিয়ে কী করা উচিত তা নিয়ে বিতর্কের সময়ও তারা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যে হাড়গুলো গুলাগ বন্দিদের।

একটি কোলাজে রঙিন একটি শান্ত হ্রদের দৃশ্যের সঙ্গে সাদাকালো ছবিতে দেখা যাচ্ছে কয়েক ডজন মানুষ একটি দড়ি বা তার টানছেন।

ছবির উৎস, TASS/BBC

১৯৮০-এর দশকে একটি স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি কৃত্রিম হ্রদ ও সৈকত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে ছিল সূর্যছাতা ও পোশাক পরিবর্তনের কক্ষও।

খননের সময় একটি এক্সকাভেটর শুধু মাটিই নয়, মানুষের দেহাবশেষ এবং কফিনের কাঠের টুকরাও তুলে আনে।

তবু মস্কো থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ওই স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।

ভূগর্ভস্থ ঝরনার পানি গর্তে প্রবাহিত করা হয় এবং প্রায় ১৫ হাজার জনসংখ্যার ইয়েমভার বাসিন্দারা তখন থেকেই সেখানে সাঁতার কাটছেন।

তবে পাঁচ বছর আগে ওই এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ড এবং একদল গবেষকের আগমন হাড়গুলো নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো এলাকা আবার খুঁড়ে সব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করা উচিত।

অন্যরা সেখানে একটি ক্রুশ স্থাপনের আহ্বান জানান।

আবার কেউ কেউ বলেন, এত হইচইয়ের প্রয়োজন নেই। গুলাগগুলো এতটা ভয়াবহ ছিল না এবং সেখানে ছিল শুধু অপরাধীরা।

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিছুই করেনি।

এই নিষ্ক্রিয়তা রাশিয়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে ওই সময়কার গণকবরগুলো সচরাচর চিহ্নিত করা হয় না।

যারা ভুক্তভোগীদের নিয়ে গবেষণা বা তাদের স্মরণ করার চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর গুলাগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ক্রমশ নিষিদ্ধ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

একটি কোলাজে একটি আধুনিক রেলস্টেশন ভবনের আঁকা ছবি এবং তার সঙ্গে রেললাইন ও কাঠ ব্যবহার করে রেলপথ নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকদের একটি পুরোনো দৃশ্য দেখানো হয়েছে

ছবির উৎস, NA Komi /USTR/BBC

মস্কোর গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের হিসাব অনুযায়ী, (যা কর্তৃপক্ষ এ বছর বন্ধ করে দেয়), ১৯৩০ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সোভিয়েত শ্রমশিবির, দণ্ড উপনিবেশ ও কারাগারের মধ্য দিয়ে গেছে।

তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ লাখকে রাজনৈতিক কারণে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

স্টালিনের আমলে এবং তার পরপরই পরিচালিত এই দমন-পীড়নের সময়ে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে দুই মিলিয়নের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

আরও ৬০ লাখ মানুষকে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জোরপূর্বক পুনর্বাসনের শিকার হতে হয়।

কোমি ভাষায় “বিশুদ্ধ পানি” অর্থে ব্যবহৃত ইয়েমভা শহরের উৎপত্তি ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি শ্রমশিবির থেকে।

এলাকাটির অধিকাংশ বাসিন্দাই গুলাগ বন্দি অথবা প্রহরীদের বংশধর।

পুরো কোমি অঞ্চলেই চিত্রটি প্রায় একই।

এখনও ইয়েমভায় একটি সাজাপ্রাপ্ত পুরুষদের কলোনি চালু রয়েছে।

উত্তরের উপ-আর্কটিক চিরসবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা শিবিরগুলোর জীবন ছিল নিষ্ঠুর।

বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ছিল না।

এমনকি শীতকালে তাপমাত্রা যখন মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেত, তখনও অনেককে মাটির গর্ত বা তাঁবুতে থাকতে হতো।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা বন কেটে রেলপথ নির্মাণ করত।

তাদের দৈনিক খাদ্য ছিল ৪০০ গ্রাম রুটি এবং এক বাটি স্যুপ।

একটি কোলাজে দুইটি অর্থোডক্স ক্রুশ দেখা যাচ্ছে, একটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এবং অন্যটি খুলে মাটিতে রাখা হয়েছে

ছবির উৎস, T.me/Officially_vorkuta/BBC

ইতিহাসবিদদের ধারণা অনুযায়ী, কোমির শিবিরগুলোর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক উভয় ধরনের মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি বন্দি গেছে। তবে সেখানে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নেই।

২০২১ সালে নিকটবর্তী একটি ঘাসের আগুন নেভাতে গিয়ে দমকলকর্মীরা অন্তত তিনজন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান।

তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে দেহাবশেষগুলোর বয়স অন্তত ১৫ বছর এবং সেখানে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

“অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অনুপস্থিতির কারণে” তারা কোনো মামলা শুরু করেনি।

তদন্তকারীদের সিদ্ধান্তে বলা হয়, যেখানে হাড় পাওয়া গেছে, সেটি ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে গুলাগ বন্দিদের একটি “অনানুষ্ঠানিক গণকবরস্থল” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যেত, যদি না ছয় মাস পরে গুলাগ ইতিহাস নিয়ে কাজ করা একদল গবেষক আঞ্চলিক রাজধানী সিক্তিভকার থেকে সেখানে যেতেন।

লেখক ও স্থানীয় ইতিহাসবিদ গ্রিগরি স্পিচাক বিবিসি নিউজ রাশিয়ানকে বলেন, “আমরা খনির জায়গাটিতে গিয়েছিলাম এবং কিছু খুঁজতেও হয়নি, হাড় আমাদের সামনে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেখা দেয়।”

একটি চিত্রে দুইটি প্রতিকৃতি রয়েছে। একটি রঙিন ছবিতে ধূসর জ্যাকেট ও লিপস্টিক পরা এক নারী, অন্যটি সাদাকালো ছবিতে কোট ও টাই পরা এক পুরুষ।

ছবির উৎস, TSGALI SPB/BBC

তখন গবেষক দলের আরেক সদস্য ইগর সাজিন বলেন, “আমরা পাঁজরের হাড় এবং শ্রোণিচক্রের হাড় পেয়েছি। এগুলোকে পশুর দেহাবশেষ বলে ভুল করার উপায় নেই।

“এভাবে ফেলে রাখা নিছক অমানবিক।

“অতীতের এই ভয়াবহ স্মৃতিচিহ্নকে স্বীকার না করেই ইয়েমভা তার জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছে।”

রুশ আইনে নবআবিষ্কৃত সমাধিস্থল, যার মধ্যে “গণদমন-পীড়নের শিকারদের কবর”ও রয়েছে, কর্তৃপক্ষকে নিবন্ধন ও চিহ্নিত করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করতে হয়।

সাজিন সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রায় এক বছর পরে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও গির্জার কাছে অন্তত হ্রদের পাশে একটি ক্রুশ স্থাপনের অনুরোধ জানান।

কিন্তু প্রশাসন কৌঁসুলির দপ্তরকে জানায় যে, আঞ্চলিক কারা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি স্থানীয় ইতিহাস জাদুঘরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও তারা এটিকে গুলাগের কবরস্থান হিসেবে প্রমাণ পায়নি।

তবে অন্যরা এ বিষয়ে অনেক বেশি নিশ্চিত।

একটি কোলাজে রঙিন ছবিতে দেখা যাচ্ছে একজন নারী একটি ঘোড়াকে নিয়ে একটি কফিন টেনে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। দুপাশে সাদাকালো ছবিতে কয়েকজন নারী শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন।

ছবির উৎস, Getty Images/BBC

গবেষক ওরেস্ট রোমাঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এগুলো অবশ্যই গুলাগের ভুক্তভোগীদের দেহাবশেষ, কারণ তাদের পোশাক ও জুতা ছাড়া, কোদালের ফলার সমান গভীরতায় সমাহিত করা হয়েছিল।”

রাশিয়ায় গণদমন-পীড়নের ইতিহাস একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় এবং গণকবর শনাক্ত করার চেষ্টা করেছেন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পশ্চিম রাশিয়ার একটি গুলাগ ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক নিকোলাই আরাকচিয়েভকে অনুমতি ছাড়া একটি খুলি উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করা হয়।

ঐতিহাসিক সংগঠন মেমোরিয়ালের পার্ম শাখার প্রধান রবার্ট লাতিপভের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছিল, কারণ তিনি এবং পাঁচজন লিথুয়ানীয় স্বেচ্ছাসেবক একটি পরিত্যক্ত কবরস্থান পরিষ্কার করেছিলেন এবং একটি কবরের ওপর একটি ক্রুশ স্থাপন করেছিলেন। কবরস্থানটি একসময় জোরপূর্বক পুনর্বাসন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

২০১৯ সালে রাশিয়ার মানবাধিকার পরিষদের এক বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিনকে বিষয়টি জানানো হলে পরদিনই সেই মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে ওই একই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সোভিয়েত আর্কাইভে “অবাধ প্রবেশাধিকার”-এর বিরোধিতা করেন।

পুতিন বলেন, “আমরা জানি ১৯৩০-এর দশকে এনকেভিডি (সোভিয়েত গোপন পুলিশ) কীভাবে কাজ করত এবং আত্মীয়স্বজনদের জন্য তাদের পূর্বপুরুষদের নথি উন্মুক্ত হওয়া সবসময় সুখকর নাও হতে পারে।”

সাঁতার নিষিদ্ধ

২০২৫ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আর্কাইভ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তিদের নথিকে “শুধু সরকারি ব্যবহারের জন্য” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা শুরু করে।

এ বছর কোমির স্বাধীন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রিভল্ট সেন্টারকে উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা ও প্রচার করত।

একই সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয় মেমোরিয়ালকেও, যা সোভিয়েত আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

মস্কোর কর্তৃপক্ষ গুলাগ জাদুঘরের স্থানে, যা অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অজুহাতে দুই বছর বন্ধ ছিল এবং যার পরিচালক রোমান রোমানভকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, “মিউজিয়াম অব মেমোরি” প্রতিষ্ঠা করে। নতুন জাদুঘরটি নাৎসি আগ্রাসনের সময় প্রাণ হারানো সোভিয়েত নাগরিকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।

২০২২ সালের গ্রীষ্মে সরকারি কৌঁসুলি ইয়েমভার হ্রদে সাঁতার নিষিদ্ধ করেন।

একটি স্থানীয় আদালত কর্তৃপক্ষকে এলাকা জরিপ করে বছরের শেষ নাগাদ সব দেহাবশেষ পুনরায় সমাহিত করার নির্দেশ দেয়।

কিন্তু কোমি সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে জানায়, এটি সত্যিই “গণদমন-পীড়নের শিকারদের সমাধিস্থল” কি না, তা নির্ধারণ করতে আগে এলাকা পরীক্ষা করা উচিত।

‘গভীর লজ্জাবোধ’

গত বছরের শেষ দিকে সেখানে পাওয়া দেহাবশেষ পরীক্ষা করতে কর্মকর্তাদের বাধ্য করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা সঙ্গে সঙ্গেই স্থগিত হয়ে যায়।

বিবিসি নিউজ রাশিয়ান প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং আদালত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পায়নি।

স্বাধীন আঞ্চলিক প্রকাশনা কোমি ডেইলি-এর প্রধান সম্পাদক লানা পিলায়েভা বিবিসি নিউজ রাশিয়ানকে বলেন, স্টালিন আমলের দমন-পীড়ন এখনও একটি নিষিদ্ধ বিষয়।

তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়।

“দমন-পীড়নের শিকারদের বংশধরদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সত্য। সম্ভবত ‘জনগণের শত্রু’ তকমার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্তর্গত লজ্জাবোধ এখনও রয়ে গেছে।

“আর যারা নির্যাতনকারীদের বংশধর, তারাও এই বিষয়টি অনুসন্ধান করতে খুব আগ্রহী নন।”

এই গ্রীষ্মে কর্তৃপক্ষ হ্রদের তীরে একটি “সাঁতার নিষিদ্ধ” চিহ্ন স্থাপন করেছে।

কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ এখনও সেখানে সাঁতার কাটে।

পিলায়েভা বিবিসি নিউজ রাশিয়ানকে বলেন, “যা বিস্ময়কর, তা হলো মানুষ হাড়ের মাঝখানে সাঁতার কাটতে কোনো দ্বিধা বোধ করে না।”

ওলগা ইভশিনার অতিরিক্ত প্রতিবেদনের সহায়তা রয়েছে।