Source : BBC NEWS

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বারের মতো এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে কোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

ছবির উৎস, CA Press wing

৩৩ মিনিট আগে

বাংলাদেশে অগাস্টে শেখ হাসিনার শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ব্যাংককের স্যাংগ্রিলা হোটেলে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার এই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

“বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পন, ভারতে বসে উনি (শেখ হাসিনা) বিভিন্ন ইনসেনডিয়ারি (আক্রমণাত্মক) মন্তব্য করছেন, সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন।”

“এছাড়া সীমান্ত হত্যা, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এবং তিস্তা নদীর পানিবন্টন নিয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে,” জানিয়েছেন মি. আলম।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশী দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের গণমাধ্যমে আলোচনা ছিল।

বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দেয়া হয়েছিল বলে জানানাে হয়েছিল ঢাকায় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হলেও, ভারতীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি বিষয়টি।

ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল বৈঠকটি নিয়ে।

শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

আরও পড়তে পারেন
 বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ছবির উৎস, CA Press wing

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার ভারতে আশ্রয় নেয়াকে ঘিরে দুই দেশের মধ্য অস্বস্তি শুরু হয়।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে – এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায় ভারতের গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে – মূলতএ ধরনের পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের অস্বস্তি বাড়ে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে চাইছে।

কিন্তু শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানাের ইস্যুতে ভারতের অবস্থান পরিষ্কার নয় বলে অভিযােগ করে আসছে বাংলাদেশ।

এছাড়া ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয় নিয়েও ঢাকা আপত্তি জানিয়েছে একাধিকবার। এ নিয়ে দুই দেশই একে অন্যের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এর আগে।

সেই সাথে গত বছরের জুলাই থেকেই বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের ভিসা দেওয়া প্রায় বন্ধ রয়েছে।

সেইসাথে সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গ তো আছেই।

আর সবশেষ সম্প্রতি চীন সফরের সময় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্য সম্পর্কে অধ্যাপক ইউনূসের বক্তব্য নিয়ে আরো সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায় বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

সেখানে তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে ‘ল্যান্ডলকড” বা ভূ-বেষ্টিত বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ড. ইউনূস বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ হলো সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক।

তার এই মন্তব্য ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ড. ইউনূসের কথার সূত্র ধরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিমসটেকে ভারতের কৌশলগত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

তিনি মূলত দেশটির ৬৫০০ কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং বিমসটেকের ৫টি সদস্য দেশের সঙ্গে ভৌগোলিক সংযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বৈঠক

ছবির উৎস, CA Press wing

এমন নানা ইস্যুতে গত আট মাস ধরে দুই দেশের সম্পর্কে আস্থার ঘাটতি দেখা দেয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যাংককে ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যকার বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ড. ইউনূস ও মোদীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সে সময় দুই নেতার সফরসূচির মধ্যে ভিন্নতার কারণে বৈঠক হয়নি।

ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশ সফর করেছেন।

এছাড়া পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন একাধিকবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।