Source : BBC NEWS

ছবির উৎস, MUNIR UZ ZAMAN
৪২ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ে আশ্রয় নেওয় া রোহিঙ্গাদের মধ্য ে এ পর্যন্ত এক লাখ ৮০ হাজার জনক ে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেব ে চূড়ান্তভাব ে নিশ্চিত করেছ ে দেশটি । তাদের ফিরিয় ে নেওয়ার জন্য উপযুক্ত হিসেব ে বিবেচন া কর া হচ্ছে।
শুক্রবার থাইল্যান্ড ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্ত ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গ া বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমানের সঙ্গ ে বৈঠক ে বসেন মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্র ী উ থান শিউ।
মি. শিউ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।
ওই বৈঠকেই তিন ি বাংলাদেশের প্রতিনিধিক ে রোহিঙ্গাদের নিয় ে তথ্যট ি জানিয়েছেন বল ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উই ং এর তরফ ে জানান ো হয়েছে।
২০১৮ থেক ে ২০২০ সালের মধ্য ে আট লাখ রোহিঙ্গার একট ি তালিক া মিয়ানমারক ে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
ছয় ধাপ ে ওই তালিক া সরবরাহ কর া হয়।
আট লাখের তালিকার মধ্য ে এ পর্যন্ত এক লাখ আশ ি হাজার রোহিঙ্গার ব্যাপার ে নিশ্চিত হত ে পেরেছ ে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের জান্ত া সরকার জানিয়েছে, আর ো ৭০ হাজার জনের যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।
নাম ও ছব ি যাচাই হয় ে গেল ে তাদের চূড়ান্ত কর া হবে।
ব্যাংকক ে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইন ে এই বৈঠকের মাধ্যম ে প্রথমবারের মত ো এ ধরনের তথ্য সামন ে এলো।
এটিক ে রোহিঙ্গ া সংকটের সমাধান ে একট ি বড় ও একট ি দীর্ঘস্থায় ী পদক্ষেপ হিসেব ে বর্ণন া কর া হয়েছ ে বাংলাদেশ সরকারের বার্তায়।
প্রক্রিয়াধীন ৭০ হাজারের পর আট লাখের তালিকায় বাক ি থাকব ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার।
মিয়ানমারের পররাষ্টমন্ত্রীক ে উদ্ধৃত কর ে বল া হয়েছে, তাদের যাচাই কার্যক্রমও দ্রুততার সাথ ে সম্পন্ন কর া হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
রোহিঙ্গ া ইস্যুত ে এটিক ে একট ি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অগ্রগত ি বলেই চিহ্নিত করছেন বাংলাদেশের একজন সাবেক কূটনীতিক মুন্স ী ফয়েজ আহমদ।
তবে, এখনই কোন ো উপসংহার ে পৌঁছান ো উচিত হব ে ন া বল ে মন ে করছেন তিনি।
সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বিবিস ি বাংলাক ে বলেন,” নিঃসন্দেহ ে এট ি একট ি পজিটিভ ডেভেলপমেন্ট । কিন্তু, এর মধ্য দিয় ে কনক্লুসিভ ডেভেলপমন্ট ে পৌঁছান ো সহজ হব ে না ।”
কারণ হিসেব ে রোহিঙ্গাদের আবাসভূম ি রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টানছেন মি. আহমদ ।
” টাইমিংট া একট ু জটিল । রাখাইন এখন প্রধানত আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে । সেখান ে জান্ত া সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে । ফলে, জান্তার তৎপরতার পাশাপাশ ি অন্যদের সম্পৃক্তত া জরুর ি”, বলেন চীন ে দায়িত্ব পালন কর া সাবেক এই কূটনীতিক।
যেহেত ু এক লাখ আশ ি হাজার রোহিঙ্গার একট া আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত ি মিললো, আজ হোক কাল হোক প্রত্যাবাসনের জন্য একট া প্রামাণ্য দলিল হিসেব ে কাজ করব ে এই স্বীকৃতি।
তবে, রাখাইন ে জান্ত া নিয়ন্ত্রণ ফির ে ন া পেলে, সেগুল ো নিছকই দলিল হয়েও থেক ে যেত ে পারে।
” আর, যদ ি জান্ত া ব া কেন্দ্রীয় সরকার কখন ো নিয়ন্ত্রণ ফির ে পায়ও, স্থানীয় প্রশাসন ে রাখাইনদের আধিপত্য থাকবেই”, যোগ কর ে মুন্স ী ফয়েজ আহমদ বলেন,” সেক্ষেত্রে, তাদের সঙ্গেও একট া বোঝাপড় া কিংব া আলোচনার মাধ্যম ে সমঝোতার জন্য চেষ্ট া চালিয় ে যেত ে হবে ।”

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোয় সব মিলিয় ে এখন রোহিঙ্গার সংখ্য া ১২ লাখেরও বেশি । এর মধ্য ে আট লাখ রোহিঙ্গ া ঢুকেছ ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেক ে পরবর্ত ী কয়েকমাসে।
এর পরেও বিভিন্ন সময় ে অল্প সংখ্যায় রোহিঙ্গ া অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
অন্তর্বর্ত ী সরকার ক্ষমত া নেয়ার পরও ত া অব্যাহত ছিল।
বিশেষ করে, রাখাইন ে আরাকান আর্ম ি ও সামরিক জান্তার মধ্য ে সংঘর্ষের জের ে গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধ ে এই প্রবণত া বেশ ি দেখ া যায়।
রোহিঙ্গ া সংকট সমাধান ে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচন া ও সমঝোতার চেষ্ট া হয়েছ ে একাধিকবার।
কিন্ত ু তাদের নিজ দেশ ে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাস ে মিয়ানমার ে ক্ষমতাসীন অ ং সান স ু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গ ে একট ি চুক্ত ি করেছিল, যার মধ্যস্থত া করেছিল চীন।
এর অংশ হিসেব ে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্য ে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিক ে মিয়ানমার ে নিয় ে যাওয়ার কথ া থাকলেও সেট ি আর বাস্তব ে আলোর মুখ দেখেনি।
এরপর ২০১৯ সাল ে অগাস্ট ে চীনের তরফ থেক ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকট ি উদ্যোগ নেয় া হয় । কিন্ত ু নাগরিকত্বের বিষয়ট ি সুরাহ া ন া হওয়ায় রোহিঙ্গার া স্বেচ্ছায় যেত ে চায়নি।

ছবির উৎস, Getty Images
এরমধ্যেই ২০২১ সাল ে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারক ে উৎখাত কর ে সামরিক শাসন জার ি কর ে সেনাবাহিনী।
এরপর থেক ে ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র বিদ্রোহ ে রূপ নেয়।
জান্ত া বিরোধ ী থ্র ি বাদারহুড অ্যালায়েন্সের একট ি হল ো আরাকান আর্মি । ২০২৩ সালের অক্টোবর ে এ জোট রাখাইন ে ব্যাপক হামল া শুর ু করে।
তাদের সঙ্গ ে জান্ত া বাহিনীর সংঘাত ে রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিত ি আর ো সংকটাপন্ন হয় ে ওঠে।
এ সংঘাতের কারণ ে গত বছরের শেষ কয়েকমাস ে অন্তত আশ ি হাজার রোহিঙ্গ া বিভিন্ন পথ ে বাংলাদেশ ে এসেছ ে বল ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেক ে দাব ি কর া হয়েছিল।
২০২৩ সালের মার্চ মাস ে রোহিঙ্গ া প্রত্যাবাসনের তালিক া যাচাই-বাছাই করত ে মিয়ানমারের একট ি প্রতিনিধ ি দল বাংলাদেশের কক্সবাজার ে আসে।
এরপর এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ চীনের মধ্যস্থতায় সেদেশের কুনমিংয় ে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের ত্রিপাক্ষিক একট ি বৈঠক হয়।
এর অংশ হিসেব ে রোহিঙ্গ া প্রত্যাবাসন ে ২০ জনের একট ি প্রতিনিধ ি দলক ে মিয়ানমার ে পরিদর্শন ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ কর া হয়।
রাখাইন ে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য মিয়ানমার সরকার য ে অবকাঠাম ো তৈর ি করছে, সেগুল ো পরিদর্শন কর ে তারা।
কিন্তু, টেকনাফ ে ফির ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ ে তার া সেখানকার পরিস্থিত ি নিয় ে অসন্তোষ প্রকাশ করে । ফেরত আসার পর বিশ জনের দলের অধিকাংশ রোহিঙ্গাই বলছিলেন য ে তার া এই ব্যবস্থায় ফির ে যেত ে চান না।