Home LATEST NEWS BANGLA তিস্তা ব্যারাজ বছরের এই সময়ই কেন খুলে দেওয়া হয়?

তিস্তা ব্যারাজ বছরের এই সময়ই কেন খুলে দেওয়া হয়?

3
0

Source : BBC NEWS

বর্ষাকালে ভারত পানি ছাড়লে আকস্মিক বন্যা ও ভাঙন দেখা দেয়া তিস্তা পাড়ে

ছবির উৎস, ABUL KALAM AZAD/BBC

উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল সামাল দিতে বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটের সবগুলোই খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বেড়ে বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে।

প্রতি বর্ষায় ভারতের অংশে তিস্তা নদীর ওপর বাঁধ খুলে দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশও তিস্তা ব্যারাজের গেট খুলতে বাধ্য হয়। ফলে নদনদীর পানি হঠাৎ করেই বেড়ে বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এবারও ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বেড়েছে।

তিস্তা নদীর পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমার কয়েক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বুধবার দুপুর পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় পানি প্রবেশ না করলেও বন্যার শঙ্কা থাকায় তিস্তা ব্যারাজ সংলগ্ন নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

“পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে উত্তরের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন জেলার নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিস্তার ৪৪টি গেটই খোলা রয়েছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী রেজাউল করিম মানিক।

প্রতিবছর এই সময়, বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসের দিকে, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যার কবলে পড়ে, যার মূল কারণ হিসেবে বৃষ্টি ও উজান থেকে হঠাৎ করেই নেমে আসা পানির ঢলের কথা বলা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের যে মাত্রায় বৃষ্টি হয়, তাতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হওয়ার শঙ্কা কম। কিন্তু উজানের দেশ ভারতের সঙ্গে থাকা আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোতে তৈরি করা বাঁধ খুলে দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে প্রতিবছরই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ অংশে নদীর নাব্য কমে যাওয়া বা নদী দখল হওয়াও বন্যার পেছনে ভূমিকা রাখে বলেও তারা জানান।

উজান থেকে আসা পানি নিয়ে সংকট কাটাতে আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন এবং বন্যা পূর্বাভাসসহ নানা তথ্য লেনদেনের বিষয়ে যৌথ নদী কমিশনের তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলছেন নদী গবেষক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরিয়া।

“একটা যৌথ নদী কমিশন আছে শুনি, কিন্তু তার কোনো কার্যক্রম তো দেখি না। নেপাল, ভারত, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ এই চারটা দেশের মধ্যে নদী ইস্যুতে একটা সমঝোতা থাকতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

এদিকে, বন্যার পূর্বাভাসসহ নদী সংক্রান্ত নানা তথ্যের লেনদেন বাড়াতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, “তারা (ভারত) আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদের এলাকাকে তারা বন্যায় প্রভাবিত করবে না। আমাদের যৌথ নদী কমিশনের টিম এবং মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।”

তিস্তা নদী তীরবর্তী অনেক গ্রামই প্রতিবছর বন্যা কবলিত হয়

ছবির উৎস, Water Development Board

এবার বন্যার শঙ্কা কতটা?

বাংলাদেশে মূলত বর্ষাকালে, বিশেষ করে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে বন্যার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

ভৌগোলিক অবস্থান এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই সময়ে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

বিশেষ করে, মে ও জুন মাসের দিকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। আবহাওয়া অফিসও জানিয়েছে, চলতি বছরে এরইমধ্যে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে শুরু করেছে, যার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলা এবং ময়মনসিংহ ও সিলেটের দিকে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।

চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে বলেই বিবিসি বাংলাকে জানান আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির।

তবে অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা খুব একটা নেই বলেই মনে করেন এই আবহাওয়াবিদ।

“আমাদের দেশের যে বন্যাগুলো হয় সেটি মূলত আপার স্ট্রিম অর্থাৎ উপরের দিকে ভারতের যে রাজ্যগুলো আছে সেখানকার পানির প্রভাবে। আমাদের ভূখণ্ডের বৃষ্টি থেকে যদি হয়, সেটিতে খুব দ্রুতই পানি নেমে যায়,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বা এফএফডব্লিউসি এর নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, বর্তমানে বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি সতর্ক সীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

“আগামী তিন দিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকায় নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এরপর থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশ এবং উজানের দেশে নদীর পানি বাড়তে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. রায়হান।

তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক যে তথ্য ভারত সরবরাহ করেছে তাতে দেশটির গজলডোবা এবং ডৌমুহুনি পয়েন্টে নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী তিনদিন ভারতের তিস্তা নদী সংলগ্ন অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।

“তিনদিন পর বৃষ্টি বাড়তে পারে, যার ফলে নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে দেশের কিছু সাত অথবা দশদিন পর বিভিন্ন জায়গায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে,” বলেও জানান তিনি।

তিস্তা নদীর তীরবর্তী একটি প্লাবিত গ্রাম

ছবির উৎস, Water Development Board

বাঁধ ও ব্যারাজ খোলা হয় কেন

বাংলাদেশের ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত বা অভিন্ন নদী রয়েছে, যার মধ্যে ৫৪টি ভারত এবং তিনটি মিয়ানমারের সাথে যৌথভাবে প্রবাহিত।

ফলে উজানের দেশগুলোর আবহাওয়া তথা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উজানের দেশ হওয়ায় ভারত, মিয়ানমার কিংবা নেপালের নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেলে সেটি ভাটিতে থাকা বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়ে।

সম্প্রতি উজানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় ভারতের গজলডোবা বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পানির চাপ সামলাতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটও খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এতে করে তিস্তা নদীর পাশাপাশি দেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ নদীর পানি বাড়ছে এবং কোনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বিবিসি বাংলাকে জানান, তিস্তা নদীর ওপর ভারতীয় অংশের বাঁধের দুয়েকটি গেট বছরজুড়েই খোলা থাকে। তবে কোনো চুক্তি না থাকায় তারা তাদের ইচ্ছামতো পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বর্ষার শুরুতে পানির চাপ বাড়লে তারা সবগুলো গেট খুলে দেয়।

সাধারণত, বন্যা ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে তথ্য লেনদেন ও সমন্বয় করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং যৌথ নদী কমিশন।

বন্যার আগাম বার্তার বিষয়ে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি তথ্য সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। যেখানে তিনদিন থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত বার্তা দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

চলতি বছরেও দেশের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

তিস্তা কিংবা গঙ্গা নদী অববাহিকায় ভারতের ব্যারাজ নির্মাণের আগেও বাংলাদেশের প্রাকৃতিক এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বন্যা হতো।

কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পর নদীর গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষাকালে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি, এর তীব্রতা ও নদীভাঙন আরও বেড়েছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা এটাও বলছেন, ভাটির দেশ হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু উজানের দেশ ভারত তিস্তা অববাহিকায় বাঁধ নির্মাণ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে নদী ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া, নিয়মিত ড্রেজিং না করাসহ নানা কারণে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা আরও বাড়ছে বলেই মনে করেন নদী বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নদী গবেষক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরিয়া বলছেন, ভারতের সঙ্গে থাকা আন্তঃসীমান্ত নদীর উজানে ড্যাম বা বাঁধ নির্মাণই বাংলাদেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যার কারণ। এছাড়া বাংলাদেশের নদীগুলোর গভীরতা কমে যাওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতাও কমেছে।

“যখন আপস্ট্রিমে (উজানে) বৃষ্টি হয় তখন তো আর পানি ধারণ করে রাখতে পারে না, বাঁধ খুলে দেয়। যখন উপর থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে তখন বন্যা হচ্ছে। আবার যখন পানি থাকে না, তখন আমাদের নদীগুলো ভরাট হচ্ছে, দখল হচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

একদিকে উজানের দেশগুলো বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখায় শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার বৃষ্টির মৌসুমে বাঁধ খুলে দিচ্ছে যার ফলে হঠাৎ বন্যা দেখা দিচ্ছে।

মি. কিবরিয়া বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “আমাদের বৃষ্টির প্রবণতা কিন্তু খুব একটা বদলে যায়নি। কিন্তু আমাদের যে ড্রেনেজ সিস্টেম- খাল, নদী, নালা এগুলো কিন্তু সংকুচিত হয়ে গেছে, নদীর গভীরতা কমেছে, দখল হয়েছে।”

এক্ষেত্রে যৌথ নদী কমিশনের কথা বলছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলছেন, নদীর উজানে থাকা দেশ ভারত এবং নেপালের সঙ্গে সমঝোতা করেই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি অমীমাংসিত ইস্যু

ভারতের সঙ্গে তথ্য লেনদেন

অতিবৃষ্টির কারণে যখন অতিরিক্ত পানির চাপ তৈরি হয়, তখনই নিজেদের বন্যা পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে বাঁধের গেট খুলে দেয় উজানের দেশগুলো।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উজানে থাকা ভারতও বৃষ্টির সময় বা বন্যা পরিস্থিতি হলে বাঁধ খুলে দেয়; আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট কমাতে তা বন্ধ রাখে।

ফলে বর্ষা মৌসুমে আকস্মিক বন্যায় ভাসে বাংলাদেশ, আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়এবং সেচের পানি সংকটসহ স্থানীয় জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

মূলত এই জটিলতা কমাতে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণসহ নানা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই যৌথ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ-ভারত।

যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে নানা তথ্য লেনদেনে করে থাকে দুই দেশ। কিন্তু আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ দেওয়া এবং পানি বণ্টন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস এবং নদীর বাঁধ খুলে দেওয়াসহ নানা তথ্য সময়মতো দেওয়া হয় না বলে বাংলাদেশের অভিযোগ থাকলেও তা অস্বীকার করে আসছে ভারত।

সাধারণত, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিষয়ে ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন এবং বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ড সরাসরি তথ্য বিনিময় করে থাকে।

বাংলাদেশের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী বছরের মে মাস থেকে উজানের ১৪টি পয়েন্টের তথ্য বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন করে ভারত।

কিন্তু বাংলাদেশকে যে তথ্য ভারত দেয়, সেটি পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করেন যৌথ নদী কমিশন বাংলাদেশের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শহীদুর রহমান।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, ভারতের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। “আমরা ভারতের কাছে আরও বেশি তথ্য চাচ্ছি। কিন্তু আমাদের যে প্রত্যাশা সে অনুযায়ী বিপরীত পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা বলা হচ্ছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলছেন, নদীর পানি বণ্টন ও তথ্য লেনদেন ইস্যুতে সহায়তা বাড়াতে ভারতে সঙ্গে আলোচনা চলছে।

“বিগত দিনে যেভাবে তারা বাঁধের গেটগুলো খুলে দিত, এই বিষয়গুলো আমরা এখন টাইম টু টাইম মনিটর করছি। তাদের সঙ্গেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।