Home LATEST NEWS BANGLA ইরান কেন চীন, ভারত, ইরাকে আটকা শত শত কোটি ডলারের সম্পত্তি উদ্ধার...

ইরান কেন চীন, ভারত, ইরাকে আটকা শত শত কোটি ডলারের সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারছে না?

4
0

Source : BBC NEWS

বাম পাশে সাবেক আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির বড় খোদাইকৃত প্রতিকৃতিসহ একটি হালকা সবুজ রংয়ের ইরানি ব্যাংকনোট, যেখানে ফারসিতে কিছু লেখা রয়েছে। ডান পাশে বহু রঙের পণ্যবাহী কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজের আকাশপথ থেকে তোলা দৃশ্য।

ছবির উৎস, Getty Images

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা তাদের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সবচেয়ে বিতর্কিত ও জটিল ইস্যুগুলোর একটি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বিদেশে থাকা তহবিলে প্রবেশাধিকার পাওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে তেহরান। এসব অর্থের বড় অংশ নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো তাদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন, ইরাক, ভারতসহ অন্য কয়েকটি দেশে এসব সম্পদ জব্দ আছে, তবে এগুলোতে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে কি না- তা নির্ধারণে ওয়াশিংটনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অর্থের আংশিকও উন্মুক্ত করা গেলে বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষতিতে বিপর্যস্ত অর্থনীতির জন্য তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা।

তবে তাদের সতর্কবার্তা হলো, আইনি, আর্থিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে কোনো চুক্তিকে বাস্তব অর্থ স্থানান্তরে রূপ দিতে সময় লাগবে এবং প্রক্রিয়াটি হবে জটিল।

তাহলে এই অর্থ আসলে কী ধরনের এবং ইরান কতটা সহজে এতে প্রবেশ করতে পারে?

ইরানের বন্দর আব্বাসে একটি তেল শোধনাগারের ওপর উড়ছে ইরানের জাতীয় পতাকা। দূরে ধূসর পাহাড় দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তোলা ছবি।

ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images

এই সম্পদের মধ্যে কী কী রয়েছে?

ইরানের জব্দকৃত সম্পদের মোট মূল্য নিয়ে কোনো সরকারি হিসাব নেই, তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ২৭ বিলিয়ন বা দুই হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

এই অর্থ কোনো একক ও সহজলভ্য হিসাবে জমা নেই। বরং এর মধ্যে রয়েছে তেল বিক্রির আয়; তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ রপ্তানির অর্থ; বিদেশি ব্যাংকে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কয়েক দশক পুরোনো আইনি বিরোধে আটকে থাকা সম্পদ।

ইরান বিদেশে তেল বিক্রি করলে সাধারণত সেই ক্রেতা দেশের ব্যাংক হিসাবেই অর্থ জমা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান অনেক সময় এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি।

সম্পদ জব্দের প্রথম বড় ধাপ শুরু হয় ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর।

পরবর্তী একটি চুক্তির আওতায় কিছু সম্পদ মুক্ত করা হলেও, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু দাবি ও সম্পদের বিষয় এখনো নিষ্পত্তিহীন রয়ে গেছে।

দ্বিতীয় এবং আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার ঢেউ শুরু হয় ২০১১-১২ সালে, যখন পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার কিছু অংশ থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে ২০১৮ সালে সরে যাওয়ার পর এসব বিধিনিষেধ আরও জোরদার হয়।

ইরানের নিষেধাজ্ঞা বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি পরিমাণে রাজস্ব বিদেশে আটকে পড়ে। কিছু অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে জব্দ হয়, আবার কিছু অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতার আওতায় চলে যায়।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক স্নেইডারের মতে, ‘জব্দ’ হওয়ারও বিভিন্ন ধরন আছে। এর মধ্যে রয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে অবরুদ্ধ অর্থ, দেশে ফেরত আনা যায় না এমন রাজস্ব এবং চলমান আইনি বিরোধে আটকে থাকা অর্থ।

একটি মানচিত্রে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের প্রধান অবস্থানগুলো দেখানো হয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার, লুক্সেমবার্গে ২০০ কোটি ডলার, ইরাকে ১৫০০ কোটি ডলার, কাতারে ৬০০ কোটি ডলার, ওমানে ১০০ কোটি ডলার, ভারতে ৭০০ কোটি ডলার, চীনে দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার কোটি ডলার এবং জাপান ৩০০ কোটি ডলার।

অর্থগুলো কোথায় রাখা আছে?

ইরানের আটকে থাকা তহবিলের বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবরুদ্ধ আছে।

এর একটি বড় অংশ রয়েছে চীনে, যারা ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন বা দুই হাজার কোটি থেকে ৫০ বিলিয়ন বা পাঁচ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে।

আরেকটি বড় অংশ রয়েছে ইরাকে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ রপ্তানির অর্থ থেকে সৃষ্ট এই তহবিলের পরিমাণ আনুমানিক এক হাজার কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় অবরুদ্ধ ইরানি তেল বিক্রির প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ২০২৩ সালে কাতারের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরে ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দেয় যে, নিকট ভবিষ্যতে ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে কার্যত অর্থটি দোহাতেই স্থির অবস্থায় থেকে যায়।

ভারতে ইরানের ৭০০ কোটি ডলার আটকে আছে।

এছাড়া জাপান ও লুক্সেমবার্গসহ আরও কয়েকটি দেশে ইরানের অর্থ সংরক্ষিত বা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে থাকা অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০০ কোটি ডলার। এর বড় অংশ আদালতের রায় ও ক্ষতিপূরণ দাবির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তা মুক্ত করা বিশেষভাবে স্পর্শকাতর।

হোয়াইট হাউসে তিনটি মার্কিন পতাকার পাশে গাঢ় নীল স্যুট ও লাল টাই পরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডান হাতে থাম্বস-আপ দেখাচ্ছেন এবং বাম হাতে একটি কালো ফোল্ডার ধরে আছেন।

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী?

এই তহবিলগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেও, তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি স্যাংশনস’ বা দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

এই ব্যবস্থাগুলো শুধু ইরানকেই নয়, বরং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি ব্যাংক, কোম্পানি ও সরকারগুলোকেও লক্ষ্য করে।

ইরানের অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করা কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানো বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

ফলে ইরানের অর্থ সংরক্ষণকারী দেশগুলো স্পষ্ট মার্কিন অনুমোদন ছাড়া সাধারণত অর্থ ছাড় বা স্থানান্তর করতে অনিচ্ছুক থাকে।

কোনো চুক্তি হলে ইরান কী পেতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি ইরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহায়তার দুটি প্রধান দিক উল্লেখ করা হয়েছে–

  • ইরানকে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির জন্য ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত শিপিং, বীমা ও ব্যাংকিং সুবিধা;
  • পাশাপাশি জব্দ বা সীমাবদ্ধ তহবিলে প্রবেশাধিকার, যাতে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি) বৃহত্তর পুনর্গঠন কর্মসূচির কথা। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা সরাসরি ইরানকে অর্থ দেবে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এটি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে স্পষ্টত ভিন্ন। বরং অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তেহরানে ভবনগুলোর মাঝখান থেকে ধোঁয়া উঠছে। দূরে পাহাড়ের সারি।

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

অর্থ কি ইরানের হাতে পৌঁছাবে?

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বোর্স অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এসফানদিয়ার বাতমাঙ্গেলিদজ বলেন, বাস্তবে এই তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বহাল থাকতে পারে।

বিবিসিকে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থার সামনে “অত্যন্ত জটিল প্রতিবন্ধকতা” রয়েছে। ফলে ইরান হয়তো কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভেতরে অর্থ ব্যয় করতে পারবে, কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে তা স্থানান্তর করতে সমস্যায় পড়বে।

স্নেইডার আরও গভীর একটি সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন, কোনো চুক্তি কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞা কংগ্রেসের আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সেগুলো পুরোপুরি বাতিল করতে পারেন না; কেবল অস্থায়ী ছাড় দিতে পারেন।

এ কারণে যে কোনো শিথিলতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে তিনি জানান।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পরও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল, যখন ইরান কিছু অর্থে পুনরায় প্রবেশাধিকার পায়।

তবে অনেক ব্যাংক সতর্ক অবস্থান বজায় রাখে এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

গত সপ্তাহে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ১২ বিলিয়ন ডলার জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এটি নিশ্চিত করেনি।

এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোকে হওয়া ক্ষতির খেসারত হিসেবে ইরানের কিছু সম্পদ সেসব দেশে ব্যবহার করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জুনের শুরুতে এক্সে লিখেছিলেন, এ ধরনের ক্ষতির অর্থ “ইরানি হিসাব থেকে নেওয়া অর্থ দিয়েই” পরিশোধ করা হবে।

তবে ইরান এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, ইরানের সম্পদ “ওয়াশিংটনের জন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নয়, কিংবা তার মিত্রদের অর্থ দেওয়ার তহবিলও নয়”।

ইরানের অর্থনীতির জন্য এর অর্থ কী?

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইরানের অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন বা ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলার বলে অনুমান করেছেন এবং চলতি বছরে অর্থনীতি প্রায় ১০ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন।

ফলে, তাদের অর্থের অন্তত কিছু অংশও যদি মুক্ত করা যায়, তবে তা স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

ইরানের চেম্বার অব কমার্সের এক সদস্য বিবিসিকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি “এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু আমদানি আদেশ বন্ধ হয়ে গেছে বা দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়েছে এবং কার্যত, আমদানি কেবল মৌলিক পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে”।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত শত কোটি ডলারে প্রবেশাধিকার ইরানের মুদ্রা রিয়ালকে স্থিতিশীল করতে, প্রয়োজনীয় পণ্যসহ আমদানি অর্থায়নে সহায়তা করতে এবং আর্থিক বাজারের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এতে অর্থনীতির গভীর কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না।

তেহরানের ইমাম সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক কামরান নেদরি মনে করেন, “যেকোনো পুনর্গঠন কর্মসূচির আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, সংস্কার ছাড়া শুধু আর্থিক সম্পদ প্রবাহিত করা হলে এর সম্ভাব্য সুফল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে প্যারিস থার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মেহরদাদ ভাহাবি বলেন, গত দুই দশকে “বিনিয়োগের তীব্র পতন এবং শিল্পখাতের অচলাবস্থা” উল্টে দেওয়াই ইরানের আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। প্রকৃত বিনিয়োগকারী ছাড়া ইরানের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে না এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন থমকে যাবে।”

জার্মানির লাইপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক রেজা তালেবিও এ মতের সঙ্গে একমত।

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের এই আস্থা দিতে হবে যে তাদের অর্থ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবে, আর সে জন্য ইরানকে উত্তেজনা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, “যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যবর্তী অনিশ্চিত অবস্থা অর্থনীতিতে পুঁজি প্রবেশের সবচেয়ে বড় বাধা।”