Home LATEST NEWS BANGLA তুরাগে আওয়ামী লীগের মিছিলকে ঘিরে ২২শে জুন কী ঘটেছিল?

তুরাগে আওয়ামী লীগের মিছিলকে ঘিরে ২২শে জুন কী ঘটেছিল?

3
0

Source : BBC NEWS

তুরাগে উদ্ধার নিহত সুমনের ফেইসবুকে পোস্টে মিছিলে অংশ নেয়ার ছবি

সম্প্রতি তুরাগ নদের আশুলিয়া ঘাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সাতজন নেতা-কর্মী গ্রেফতারের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজের অভিযোগ এবং পরবর্তীকালে ওই নদে একাধিক মরদেহ উদ্ধার বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম গুজব, সন্দেহ এবং সমালোচনা হয়েছে।

২২শে জুন ৬০-৬৫জন নেতাকর্মী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিছিল করে তুরাগ নদে ট্রলার নিয়ে আশুলিয়া ঘাটে যাওয়ার পর গ্রেফতার হয়। সেখানে হামলা ও ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে সাতজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এরপর তুরাগ থেকে চার দিনে তিনটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়।

আশুলিয়ায় কী ঘটেছিল, এ ব্যাপারে পরিস্কার ধারণা পেতে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, নিহতের পরিবার এবং মিছিলে অংশ নেয়া একজন আওয়ামী লীগ কর্মীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

আশুলিয়া পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাস্থল থেকে তুরাগ নদে পড়ে নিখোঁজ ও মৃত্যুর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।

কিন্তু ওই ঘটনার পর তুরাগের বিভিন্ন স্থানে চারটি লাশ উদ্ধার হওয়ায় পর তাদের পরিচয় নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ২২শে জুনের পর তুরাগ নদে যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়, তাদের অন্তত দুজন সেদিন মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি।

তুরাগে মিছিলে অংশ নেয়া একজন আওয়ামী লীগ কর্মী বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেছেন, তুরাগে উদ্ধার তিনজনের মধ্যে আরিফ এবং সুমন ২২শে জুনের মিছিলের পর তুরাগে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তার দাবি সুমন যুবলীগ এবং আরিফ ছাত্রলীগ করতেন।

আশুলিয়ায় গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের সঙ্গে মিছিল করা ওই আওয়ামী লীগ কর্মী নিরাপত্তার জন্য নিজের নাম পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। ঘটনাস্থল থেকে তিনি নিজেও পানিতে লাফিয়ে আত্মগোপন করেছেন। এখনো তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

২২শে জুন কী ঘটেছিল?

মিছিলে অংশ নেয়া ওই ব্যক্তি বলেন, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটা মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়। সে অনুযায়ী তুরাগ বেড়িবাধে পঞ্চবটি এবং রুস্তমপুর ঘাটের মাঝামাঝি এলাকায় মিছিল শেষ করে তারা নদী পথে ট্রলারে করে নিরাপদে সটকে পড়তে চেয়েছিলেন।

তার দাবি অনুযায়ী, সেদিন দুপুরের পর মিছিল শেষ করে ষাট থেকে পঁয়ষট্টি জন কর্মী একসঙ্গে তুরাগ নদে ট্রলারে উঠেছিলেন।

“আমরা রুস্তমপুর নামার চেষ্টা করছিলাম, পারি নাই সামনে গিয়ে চেষ্টা করি সেখানেও পারি নাই। মনে করছিলাম যে আশুলিয়া যে এলাকায় ট্রলার ভিড়াইছি ওই জায়গাটা সেইফ হবে।”

তুরাগের আশুলিয়া ঘাট

তার ভাষায় দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগে তাদের মিছিল কর্মসূচীকে ঘিরে তুরাগ থানার পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে ছিল, এমন একটি ধারণা তারা পেয়েছিলেন। এছাড়া সড়ক পথে তুরাগ থানা ও পুলিশের উপস্থিতি এড়িয়ে তারা নিরাপদ স্থানে নেমে যে যার গন্তব্যে চলে যেতে চেয়েছিলেন।

মিছিলের পর ট্রলারে উঠেছিলেন কেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন,

“যেহেতু মিছিল শেষ, পুলিশ টহল দিচ্ছে, বিএনপি জামায়াতসহ কর্মীরা আমাদের খোঁজ নিচ্ছে, তারা ধরতে পারলে আমাদের মারবে, ধাওয়া দিবে সেজন্য আমরা নদী পথে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, সেইফ এক্সিট নেয়ার জন্য। ওই স্থান ত্যাগ করার জন্য”।

আওয়ামী লীগ কর্মীর অভিযোগ, ২২শে জুন তুরাগ ও আশুলিয়া ঘাটের সঙ্গে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে।

“ট্রলার লাগানোর সাথে সাথে পুলিশ বিএনপি জামাতের লোকেরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা ছন্নছাড়া হয়ে যে যেভাবে পারে এদিক সেদিক পালিয়ে যায় এবং আমাদের সাতজন নেতাকর্মীকে আটক করে। এক পর্যায়ে কিছুকর্মী পানিতে লাফ দেয় এবং প্রাথমিকভাবে সাতজন কর্মী নিখোঁজ হয়।”

আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, বাকি চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও তারা জীবিত আছেন বলে তথ্য রয়েছে।

এদিকে আশুলিয়া ঘাট এলাকা থেকে যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারাও আইনজীবীর কাছে অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ এবং সাদাপোশাকের লোকজন ধাওয়া দেয়।

গ্রেফতার হওয়া সাতজনের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন আরিফ সরকার পাভেল। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ২৮ জুন রিমান্ড শুনানির দিনে গ্রেফতার সাতজনের সঙ্গে তার কথা হয়।

আইনজীবী মি.পাভেল আসামীদের বরাত দিয়ে বলেন, “তারা বলেছে, মিছিলের ইনফরমেশন লিক হয়ে যায়। আশুলিয়া ঘাটে যাওয়ার পরে তুরাগের নেতাকর্মীরা ফোনযোগে জানায় এবং আশুলিয়া ঘাটে যায়। আশুলিয়ার নেতাকর্মী এবং আশুলিয়ার পুলিশ যখন ঘাটে নৌকা ভিড়ায় তখনই ধাওয়া দেয়, হামলা করে। নৌকাতে হামলা করার পরে যে যারমতো পালাতে শুরু করে। এখান থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আর কিছু মানুষ নদীতে ঝাপায়ে পড়ে।”

আটকের সময় যারা নদীতে পড়েছেন, তাদের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছে- এমন অভিযোগ করেছেন গ্রেফতার হওয়া সাতজন। পরিচয় গোপন রেখে আশুলিয়া এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শীও জানিয়েছেন যে, ওইদিন আশুলিয়া ঘাটে কিছু মানুষকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তার নজরে এসেছিল। তবে পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কে তিনি দ্রুত সেখান থেকে বাড়ি চলে যান।

আরিফ সরকার পাভেল তুরাগ ঘাটে গ্রেফতার সাতজনের আইনজীবী

আইনজীবী মি. পাভেল বলেন, গ্রেফতার হওয়া সাতজনের অভিযোগ তাদেরকে আটক করার সময় সেখানে পুলিশের বাইরে সাদা পোশাকের লোকজন ছিল, যাদেরকে বিএনপি জামায়াতের কর্মী সমর্থক বলেই তাদের মনে হয়েছে।

তবে আশুলিয়ায় বিএনপির স্থানীয় দুজন নেতা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেউ সেখানে ছিল না।

আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর বলেন, “সেখানে আমাদের কোনো লোক যায় নাই। কাদের লোক গিয়েছিল জানতে চাইলে মি. গফুর বলেন, সেটা আমি বলতে পারবো না।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকার বলেন, “আমার জানামতে এমন কোনো ঘটনা নাই। আমি কর্মীদের অনেককে জিজ্ঞেস করছি, তারা বলে না এমন কোনো ঘটনা নাই।”

পুলিশের ভাষ্য

পুলিশ আশুলিয়া ঘাট এলাকা থেকে সাতজনকে আটকের বিষয়টি মামলার এজাহারে নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এবং কোনোরকম হামলার খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। নদীতে উদ্ধার হওয়া লাশের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও পুলিশ দাবি করেছে।

আশুলিয়া থানার এসআই রাশেদুদ জামানের দাবি, সেদিন ছয়জন পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের সাতজনকে আটক করেছিলেন।

আশুলিয়া ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০/৪৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

এসআই রাশেদুদ জামান মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বিশেষ অভিযানের ডিউটির সময় ২২শে জুন আনুমানিক বিকাল তিন ঘটিকার সময় আশুলিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতির খবর পান। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রলার ঘাটে মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় সাতজনকে হাতে নাতে গ্রেফতার করেন।

মি. জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, গ্রেফতার অভিযানের সময় কেউ নদীতে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে নিখোঁজ হয়নি। তবে পুলিশ সেখানে যাবার আগেই বাকী কর্মীরা পালিয়ে যায়।

“গরুর হাটের যে ঘাটটা ওইখানে ছিল সাতজন। আটকরা বলছে আপনাদের (পুলিশ) খবর পেয়ে ছোটাছুটি করে চলে গেছে। পরে তাদের নাম বলেছে। নামগুলো আমরা এজাহারে উল্লেখ করে দিয়েছি।”

তুরাগে যাদের মরদেহ পাওয়া গেছে, তারা সেখানে ছিল না বলে দাবি করছে পুলিশ।

এসআই রাশেদুদ জামান বলেন, “গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা তাদের নামতো বলে নাই। তাদের নামতো তাহলে এজাহারে পলাতক হিসেবে থাকতো।” যদিও মামলার এজাহারে ৪০-৪৫ জন অজ্ঞাত আসামীর কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, আশুলিয়া ঘাটে রাজনৈতিক দলের লোকজন হামলা বা ইট পাটকেল ছুড়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মি. জামান বলেন, “আমরা ওদেরকে দেখি নাই। আমরা এই সাতজনকে পেয়েছি পরে নিয়ে এসে মামলা দিয়েছি।”

নিহতদের পরিবার যা বলছে

তুরাগে ২২শে জুনের পর উদ্ধার হওয়া লাশের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পরিবারগুলোর সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরিফের পরিবারের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

নিহত সুমনের বাবা মা ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।পরিবারের পক্ষে তার খালু জুয়েল বাবু গণমাধ্যমে কথা বলেছেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে এটা তারা আগে জানতেন না। তবে ২২ তারিখ সুমনের নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের কর্মীদের কাছ থেকে জেনেই থানায় যোগাযোগ এবং নদীতে তল্লাসী শুরু করেন।

তুরাগে নিখোঁজের পর উদ্ধার নিহত সুমন

ছবির উৎস, JUEL BABU

জুয়েল বাবু বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ফোন মিছিলে থাকা অন্যান্য কর্মীদের ছিল বলে দাবি করেন বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেয়া আওয়ামী লীগের কর্মী।

ওই কর্মীর দাবি, “ওর পকেটে তিনটা মোবাইল দেয়া হয়েছিল। মিছিলের সময় ভিডিও করা বা যে ভিডিও করছে, তার কাছ থেকে আনার জন্য মোবাইলগুলি দেয়া হয়েছিল। বাকী দুটি তার ফোন।”

সুমনের পরিবার জানায়, আশুলিয়া ব্রিজের গোড়ায় তার মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তাদের খবর দিয়েছে। ঘটনার চারদিন পর উদ্ধার হওয়া মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল যেগুলো আঘাতের চিহ্ন বলে সন্দেহ পরিবারের। এছাড় মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না।

সুমনের মৃত্যুতে পরিবার একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে। যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে আশুলিয়ায় পানিতে ডুবে মারা গেছে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুয়েল বাবু বলেন, “পুলিশ বলছে একটা মামলা হবে। কার নামে মামলা করবেন, বিএনপির নামে, আওয়ামী লীগের নামে বা পুলিশের নামে করবেন? আমরা কইছি না। আমাদের লাশটা আমাদের দিয়ে দেন। পরে পুলিশ বলে যেকোনো একটা মামলা করতে হবে। তখন লাশটা আমরা অপমৃত্যু মামলা করি ওর সৎ ভাই সালাউদ্দিনকে আমি বলি সাইন করো।”

এদিকে সুমনের নাম ও ছবি সম্বলিত ফেইসবুকে একটি অ্যাকাউন্ট ছিল সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে মিছিলের একাধিক পোস্ট দেখা গেছে। ছবিতে সুমনের থাকার বিষয়টি পরিবার নিশ্চিত করেছে। যদিও ওই ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট এখন গত সোমবার থেকে ডিজেবল হয়ে আছে।

জুয়েল বাবু বলেন, “সে মিছিলে গেছিল এটা সত্য। মিছিল থেকেই পরে এ ঘটনাটা ঘটছে। আমরা কাউকে দোষী করি না। কারো প্রতি আমাদের অভিযোগ নাই। পানিতে ডুবে মারা গেছে আমরা ওইটাই বলছি।”

নূর খান লিটন

এদিকে ২২জুনের পর তুরাগে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সবকটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তবে সুমন ও আরিফ আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

কিন্তু জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ঠতা নেই। আর হত্যা মামলা না হওয়ায় এসব মৃত্যু নিয়ে অনুসন্ধান হবে না।

তুরাগের ঘটনা নিয়ে যেহেতু ব্যাপক আলোচনা গুজব ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে এবং একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন।

তিনি বলেন, “যেহেতু সাতজনকে আটক করেছে, তাহলেতো কিছু মানুষতো সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। এবং পিছু ধাওয়া করাটাই স্বাভাবিক পুলিশের। তারপর তারা পানিতে ডুবে মারা যেতে পারে- এটা যেমন সত্য, আবার এই সন্দেহ করারও যথেষ্ট কারণ আছে যে তাদেরকে পানিতেও পেটানো হয়েছে। অথবা তাদেরকে ওখান থেকে ধরে নিয়ে অন্যত্র নেয়ার পর টর্চারে তারা মারা গেছে এবং পরে পানিতে ফেলা হয়েছে- এই সবকটা জিনিসই কিন্তু বিবেচনার দাবি রাখে। এটার কোনটা সত্য, এটা পরিস্কার করতে হবে পুলিশকে বা স্বাধীন একটা তদন্তের মধ্য দিয়ে।”