Home LATEST NEWS BANGLA ইরানে আবারও ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে আবারও ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

3
0

Source : BBC NEWS

এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লো

ছবির উৎস, Reuters

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেল ট্যাংকারে হামলার জবাবে ইরানের ওপর আবারও “শক্তিশালী” হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে।

এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে থাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এর ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, তেহরান “চূড়ান্ত ব্যবস্থা” গ্রহণ করবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

যদিও যে তিনটি ট্যাংকারে হামলার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে, তার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি ইরান।

সেন্টকম জানিয়েছে, ৬০টি ছোট নৌযান ছাড়াও তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কমান্ড সেন্টারগুলোতে আঘাত করেছে। তবে তারা লক্ষ্যবস্তুগুলোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছিল যে, তিনটি ট্যাংকারে হওয়া “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” হামলার জন্য পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সেন্টকমের ভাষ্যমতে, “আন্তর্জাতিক জলপথে সাধারণ ব্যক্তিদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানকে চড়া মূল্য দিতে” এই হামলা চালানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার যে ছাড় দিয়েছিল এই হামলার আগে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। যেটি গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারকের অংশ ছিল।

এই পদক্ষেপকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, এটি মার্কিন সরকারের “অসৎ উদ্দেশ্য, অসামঞ্জস্যতা এবং অবিশ্বস্ততা” প্রমাণ করে।

মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে যে, তেহরান তাদের “জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সেই পদক্ষেপই নেবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

সেন্টকমের হামলার ঘোষণার আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানের সাথে চূড়ান্ত চুক্তিতে যেতে “সদিচ্ছা” নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।

কাতার ও সৌদি আরবও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। উভয় দেশই জানিয়েছে যে, তাদের একটি করে ট্যাংকার প্রণালিতে বা এর কাছাকাছি এলাকায় আক্রান্ত হয়েছে এবং এজন্য ইরানকে দায়ী করেছে তারা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে ‘আল-রেকাত’ নামক একটি জাহাজে উদ্দেশ্যমূলক হামলার জন্য তারা ইরানকে “সম্পূর্ণ দায়ী” মনে করে।

“আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন সমস্ত কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা” এবং “স্বার্থসিদ্ধির জন্য বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পদকে ঝুঁকির মুখে ফেলা থেকে বিরত থাকতে” ইরানকে আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেওয়া পোস্টে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি ট্যাংকার ‘ওয়াদিয়ান’-কে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই হামলাগুলো ছিল “আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তার ওপর একটি আক্রমণ।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কাতারের অভিযোগকে “প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী” বলে বর্ণনা করেছেন।

টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি যোগ করেন, যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের সাথে সমন্বয় না করে রুট ব্যবহার করে অথবা জাহাজের ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় কারচুপি করে, তারা সংঘর্ষের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

হরমুজ প্রণালিতে “নিরাপদ যাতায়াত সহজ” করার জন্য ইরান প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হরমুজ প্রাণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও বন্ধ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে

ছবির উৎস, Reuters

সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি ট্যাংকারের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগার খবর দিয়েছে ইউকেএমটিও।

সংস্থাটির তথ্য মতে, মঙ্গলবার আরও দুটি পৃথক ঘটনায়, একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার সময় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানালেও সেটি গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

অন্য একটি ট্যাংকার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর সামান্য কাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয় বলে জানানো হয়।

গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করা হয়েছিল।

১৪ দফার এই চুক্তিতে বলা হয়, সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটবে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং ইরানের “পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের” জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে- যদিও এই তহবিলে অর্থ দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য নয়।

চুক্তির অংশ হিসেবে ওমান ও ইরান- উভয় দেশই হরমুজ প্রণালির সীমান্ত সংলগ্ন- অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে প্রণালির “ভবিষ্যৎ প্রশাসন এবং সমুদ্র পরিষেবা নির্ধারণের” জন্য আলোচনায় বসতে বাধ্য থাকবে।

উল্লেখ্য, ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করেছিল ইরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করার চেষ্টা করেছিল ইরান, যার অংশ হিসেবে তারা “পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ” গঠন করে। এই কর্তৃপক্ষ “নিরাপদ চলাচলের অনুমতি” প্রদান করবে বলেও জানানো হয়েছিল।

ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রণালিটি শেষ পর্যন্ত ওমানের সাথে সমন্বয় করে ইরান দ্বারা পরিচালিত হবে, যার মধ্যে জাহাজ যাতায়াতের জন্য সম্ভাব্য “টোল” নির্ধারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।