Home rss world bengali ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতেই চান, বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতেই চান, বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

3
0

Donald J. Trump এই সপ্তাহে বলেছেন, তিনি “ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতেই বেশি আগ্রহী”—যা তেহরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থায় তাঁর প্রশাসনের বর্তমান কৌশলের ইঙ্গিত দেয়। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি গত কয়েক মাসের তাঁর কঠোর বক্তব্যের সঙ্গে তীব্রভাবে contrast তৈরি করেছে এবং ইরান নিয়ে আমেরিকার বিদেশনীতি কোন দিকে বদলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

## ট্রাম্পের নতুন সুর: চুক্তিকে অগ্রাধিকার

ট্রাম্পের “আগে চুক্তি” বার্তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি তাঁর পছন্দ স্পষ্ট করেন: সংঘাত বাড়ানোর বদলে সম্ভব হলে তিনি আলোচনার পথ বেছে নেবেন। তবে ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না—এ নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের দাবি তিনি প্রত্যাহার করেননি। তিনি বলেন, “এটাই একমাত্র বিষয়, যা নিয়ে আমি আগ্রহী।”

এই বক্তব্য তাঁর আগের কিছু অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও, তাঁর নীতির মূল স্তম্ভগুলোর সঙ্গে এটি এখনও যুক্ত রয়েছে: ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতির সুযোগ থাকলেও কঠোর সীমারেখাগুলোতে কোনও আপস করা যাবে না।

## প্রেক্ষাপট: পরিস্থিতি এখানে কীভাবে পৌঁছাল

কূটনীতির দিকে এই ঝোঁক মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়ে চলা উত্তেজনার পর এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে—গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি সম্প্রতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আমেরিকা ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের দাবি, জলপথটির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। নির্ভরযোগ্য নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা তাই বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এদিকে, ইরান পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বেসামরিক ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে সীমিত করা এবং প্রক্সি সংঘাতে সমর্থন কমানোর প্রস্তুতি প্রকাশ করেছে। এসব পদক্ষেপ কিছুটা মার্কিন দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু উন্নয়নের অধিকার সংরক্ষিত থাকতে হবে।

## পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ: অনড় সময়সীমা

পুরো প্রেসিডেন্ট পদে থাকাকালীন ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে এসেছেন: ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা মজুত করতে পারবে না। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা “ইরান পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না”—এই ধারাবাহিক বার্তাটি তুলে ধরতে ৭০টিরও বেশি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেছেন।

Axios-এর সঙ্গে আলোচনায় তিনি আবারও এই বার্তা জোরালো করেন। তিনি বলেন, তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য শর্তে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেও, ট্রাম্প পরমাণু অস্ত্র প্রতিরোধকে আপসহীন বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়: “ইরান নিয়ে আমি যখন কথা বলি, তখন একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তারা পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না।”

## পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা

ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় আলোচনায় যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও, ইরানের কর্মকর্তারা Washington-এর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন। পরিবর্তে, Oman-এর মতো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা।

মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে মার্কিন সরকার ইরানকে এমন একটি “ভালো” চুক্তিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং রাষ্ট্রের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তেহরানকে গ্রহণযোগ্য শর্তে সম্মত হওয়ার জন্য ট্রাম্প এটিকে তাঁর ভাষায় “শেষ সুযোগ” হিসেবে তুলে ধরেছেন।

## তাৎপর্য: কী ঝুঁকিতে রয়েছে

### কূটনৈতিক ফলাফল

চুক্তি হলে উত্তেজনা কমতে পারে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা উন্নত হতে পারে এবং ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের ওপর পুনরায় যাচাই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সফলতা U.S.-Iran সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি রূপরেখা দিতে পারে।

### নীতির ধারাবাহিকতা

ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না—ট্রাম্পের এই জোরালো অবস্থান একদিকে আগের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে আলোচনার পরিসরও সীমিত করছে। প্রয়োগ ও স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ থাকায় যেকোনও চুক্তিকে ব্যাপক আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

### মার্কিন অভ্যন্তরীণ উপস্থাপনা

আলোচনার দিকে এই মোড় রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করছে। ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে স্বল্পমেয়াদি কূটনৈতিক ছাড় মেনে নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে—যার সঙ্গে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ভারসাম্য রক্ষা করাও প্রয়োজন হতে পারে।

## এরপর কী

– মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা পরমাণু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ভাষা চূড়ান্ত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
– তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর শর্তগুলো—পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কমানো—মেনে না নেওয়া পর্যন্ত U.S. নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থা ও সামরিক প্রস্তুতি কঠোর থাকবে বলে ট্রাম্প পুনরায় জানিয়েছেন।
– মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। তাদের অনেকেই হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।

সারকথা, ট্রাম্পের বক্তব্য—“ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতেই আমি বেশি আগ্রহী”—কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সীমারেখায় কোনও ছাড় নয়। কূটনীতি ও প্রতিরোধের পারস্পরিক ভারসাম্য মধ্যপ্রাচ্যে U.S. কৌশলের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে রয়েছে। এই মুহূর্ত শান্তির পথে অগ্রগতির সোপান হবে, নাকি অসমাপ্ত সংঘাতের আরেকটি পর্যায়—তা সময়ই বলে দেবে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.