Home RSS national bangla ঘৃণাত্মক ভাষণ মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল...

ঘৃণাত্মক ভাষণ মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল বঙ্গের আদালত

4
0

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার একটি আদালত তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মামলায় বারবার সমনের পরও হাজির না হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৯ আগস্ট, ২০২৬-এ কৃষ্ণনগর আদালতের জারি করা আদেশে ২৮ আগস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকরের অগ্রগতি-রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

## অভিযোগ ও উপেক্ষিত সমন

মৈত্রের বিরুদ্ধে মামলাটি নারীদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। কৃষ্ণনগরের তৃতীয় বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে জারি করা কগনিজ়্যান্স-পূর্ব সমন মেনে না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে পরের দিন, অর্থাৎ বুধবার, হাজির হতে বলেছিল। কিন্তু তিনি অনুপস্থিত থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

## আদালতের কঠোর মন্তব্য ও উদ্বেগ

পরোয়ানা জারি করার সময় আদালত মৈত্রের বারবার নির্দেশ অমান্য করার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত তাঁর আদালতের আদেশের প্রতি “গা-ছাড়া মনোভাব”-এর সমালোচনা করে জানায়, এই ধরনের অব্যাহত অবজ্ঞার কারণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আদালতের আর কোনও উপায় ছিল না।

শুনানির সময় মৈত্রের আইনজীবী জানান, তিনি আদালতে একেবারেই হাজির হবেন না। বিচারক এই অবস্থানকে “আইনের আদালতের প্রতি কোনও সম্মান নেই” বলে মনে করেন। আইনজীবী আরও জানান, মৈত্র আদালতে হাজির হলে বাইরে জমায়েতের দ্বারা তাঁকে হেনস্থা বা হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে।

## আইনি ভিত্তি: প্রয়োগ করা ধারাগুলি

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার আধিকারিকেরা অভিযোগে উল্লেখ করা একাধিক আইনি ধারার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এগুলি হল:

– ধারা ৭৯: কোনও নারীর শালীনতাকে অপমান করা
– ধারা ১৯৬: গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা
– ধারা ২৯৯: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা
– ধারা ৩৫১: অপরাধমূলক ভয় দেখানো
– ধারা ৩৫৩(২): ঘৃণাত্মক বক্তব্য

## সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের কার্যক্রম

আগস্টের শুরুতে মৈত্র সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেন। ওই নির্দেশে তাঁকে পৃথক একটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মামলায় ১৫ আগস্টের মধ্যে পুলিশ আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে।

ওই শুনানিতে মৈত্রের হয়ে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন ভার্চুয়ালি হাজির হওয়ার অধিকার দাবি করেন। তিনি মৈত্রের বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগও তুলে ধরেন—প্রথমে ডিম ছোড়ার হুমকি এবং পরে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সত্যিই হামলা চালানোর ঘটনা।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং শীল নাগুর সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। আদালত প্রশ্ন করে, “আপনি একজন সাংসদ। রাজনীতিতে পা রাখার পর ডিমকে ভয় পাচ্ছেন?” বিচারপতিরা আরও বলেন, “যখন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি নিয়েছেন? এই ধরনের আবেদন আদৌ এই আদালতে আসা উচিত নয়।” এরপর মৈত্রের আইনি দল আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিষয়টি খারিজ হয়ে যায়।

## সাময়িক সুরক্ষা ও মৈত্রের অবস্থান

২১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মৈত্রকে একটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মামলায় ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেয়। এই সুরক্ষা শর্তসাপেক্ষ ছিল: তাঁকে চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু বিচারবিভাগীয় নির্দেশ মেনে চলতে হবে।

মৈত্র ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি “মনগড়া”। নদিয়া জেলার হোগলবেড়িয়া থানায় নথিভুক্ত একটি মামলার কার্যক্রমও বাতিল করার আবেদন করেছিলেন তিনি। হাইকোর্ট তাঁকে ১৪ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে নির্দেশ দিলেও স্পষ্ট করে জানায়, তিনি আইনি প্রয়োজনীয়তাগুলি মেনে চললে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

## আগামী পদক্ষেপ

তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য কৃষ্ণনগর আদালতের নির্দেশ এই মামলায় উল্লেখযোগ্য মাত্রায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ২৮ আগস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। মৈত্র সাড়া না দিলে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মামলা শুধু এর আইনি তাৎপর্যের জন্যই নয়, বাক্‌স্বাধীনতা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং আইনের অধীনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.