Home RSS national bangla কর্ণাটকে ভিখারির মৃত্যু, বাড়িতে ৩০টি বস্তায় মিলল ৮.৪০ লক্ষ টাকা

কর্ণাটকে ভিখারির মৃত্যু, বাড়িতে ৩০টি বস্তায় মিলল ৮.৪০ লক্ষ টাকা

5
0

কর্ণাটকের মান্ড্য জেলায় এক ৬৮ বছর বয়সি মহিলার মৃত্যুর পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ওই মহিলার নাম শুধু হুর হিসেবে জানা যায়। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতেন। ২৩ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে বয়সজনিত স্বাভাবিক কারণে ভাড়া বাড়িতে হুরের মৃত্যু হয়।

## লুকিয়ে রাখা বিপুল অর্থের সন্ধান

প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে ঢোকার পর একটি অস্বাভাবিক সঞ্চয় দেখে হতবাক হয়ে যান। বাড়ির ভিতরে ৩০টিরও বেশি বস্তায় ভরা ছিল হাজার হাজার ভারতীয় নোট ও কয়েন। ₹১০, ₹২০ এবং ₹৫০-এর মতো ছোট অঙ্কের নোটে সঞ্চিত এই অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ₹৮,৪০,০০০।

একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র খুঁজে দেখা এবং টাকা গোনার দৃশ্য দেখা যায়। এই ঘটনা সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন তোলে: কোনও পারিবারিক সম্পদ বা নিয়মিত আয় না থাকা এক ভিক্ষুক কীভাবে এত টাকা জমালেন?

## পারিবারিক সম্পর্ক ও সম্পত্তি

হুর তাঁর বোনের সঙ্গে ওই সাধারণ বাড়িতে থাকতেন। তাঁর বোন অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁরও কোনও স্থায়ী আয় ছিল না। প্রায় দুই বছর আগে তাঁর বোনের মৃত্যু হয়। বোনের মৃত্যুর পর হুর ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। দুই বোনের কেউই বিবাহিত না হওয়ায় তাঁদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কে হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

## পরবর্তী ঘটনা: টাকা নিয়ে কী করা হলো

টাকার সঞ্চয় গোনা ও যাচাই করার পর কর্তৃপক্ষ হুরের জীবিত দুই ভাইয়ের মধ্যে অর্থ বণ্টন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক ভাই পান ₹৬,০০,০০০, আর অন্য ভাই গ্রহণ করেন ₹২,৪০,০০০। উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় ভাই তাঁর অংশটি একটি স্থানীয় মসজিদে দান করার সিদ্ধান্ত নেন, যা ঘটনাটিতে এক চমকপ্রদ মোড় এনে দেয়।

## যে বৃহত্তর প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে

### তিনি কীভাবে এই সম্পদ জমালেন?

হুরের ঘটনা এই বিষয়টির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সাধারণত সামান্য অর্থই আসে বলে মনে করা হলেও, কখনও কখনও এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা হতে পারে—বিশেষ করে বহু বছর ধরে অনুদান পাওয়া গেলে। বহু বস্তায় টাকা লুকিয়ে রাখা থেকে বোঝা যায়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সম্পদ গোপনে সঞ্চয় করেছিলেন।

### উত্তরাধিকারের আইনি প্রক্রিয়া

দুই বোনই অবিবাহিত ছিলেন এবং তাঁদের কোনও সন্তান না থাকায় ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তাঁদের ভাইদের উত্তরাধিকার অধিকার আসে। এই বণ্টন এমন পরিবারগুলিতে সম্পত্তির মালিকানা এবং আইনি নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যেখানে কোনও আনুষ্ঠানিক উইল থাকে না।

### স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ময় ও কৌতূহল প্রকাশ করেন। কেউ কেউ জানতে চান, এত টাকা কখনও ব্যাংকে জমা করা হয়নি কেন। আবার অনেকে হিসাববহির্ভূত বিপুল নগদ অর্থ সামলানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ ধরনের ঘটনা সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা মানুষের জীবনের নানা দুর্বলতার দিকটি তুলে ধরে।

## এক নজরে

– ব্যক্তি: হুর, 68-years-old, অবিবাহিত, কর্ণাটকের মান্ড্যতে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতেন।
– পরিবার: তাঁর বোনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বসবাস করতেন; তাঁর বোন দুই বছর আগে মারা যান।
– উদ্ধার: তাঁর বাড়িতে ৩০টিরও বেশি বস্তায় কয়েন ও ছোট অঙ্কের নোট পাওয়া যায়।
– মোট পরিমাণ: ₹৮,৪০,০০০।
– বণ্টন: এক ভাইকে ₹৬,০০,০০০ দেওয়া হয়; অন্য ভাইকে ₹২,৪০,০০০ দেওয়া হয়, যিনি নিজের অংশ একটি মসজিদে দান করেন।

## পর্যালোচনা

উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ হুরের আর কোনও কাজে আসবে না। তবে তাঁর ঘটনা দারিদ্র্য, অনানুষ্ঠানিক সঞ্চয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা মানুষের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতার দিকটি তুলে ধরে। যাঁদের দেখে মনে হয় তাঁদের কিছুই নেই, তাঁদের কাছেও কখনও কখনও এমন গোপন সম্পদ থাকতে পারে—যা প্রচলিত ধারণাকে অস্বীকার করে এমন উপায়ে সঞ্চিত থাকে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.