Home rss world bengali হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে হামলার চেষ্টার পর ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা...

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে হামলার চেষ্টার পর ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালাল

4
0

মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাম্প্রতিক শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাবে, যার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির沿বর্তী ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে।

## মার্কিন প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত কীভাবে

সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে IRGC-এর হামলার চেষ্টার সরাসরি ফল হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল:

– হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ।
– প্রণালির নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্যরা।

এই হামলাগুলো একটি বৃহত্তর ধারাবাহিকতার অংশ। গত কয়েক সপ্তাহ ও মাসে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক নৌচলাচলের বিরুদ্ধে ইরানি বাহিনীর আগ্রাসন ক্রমশ বেড়েছে।

## হামলার লক্ষ্যবস্তু ও পরিধি

CENTCOM-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, **September 1, 2026**-এ ঘোষিত নতুন মার্কিন হামলাগুলো ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত সম্পদে আঘাত হানে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রধান লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল:

– আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও রাডার ব্যবস্থা
– মাইন পাতা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সামুদ্রিক সম্পদ ও অবকাঠামো
– সামুদ্রিক অভিযান সমন্বয়ের কাজে ব্যবহৃত যোগাযোগ কেন্দ্র ও স্থাপনা

CENTCOM জানিয়েছে, তাদের বাহিনী প্রস্তুত, প্রাণঘাতী সক্ষমতাসম্পন্ন এবং আরও আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০,০০০-এরও বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছেন এবং যেকোনও উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার জন্য তাঁরা বর্তমানে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছেন।

## হতাহত, পার্শ্বক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক মূল্য

ইরানের সরকারি সূত্র অনুযায়ী, একটি হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হরমোজগান প্রদেশের **Kuhestak**-এ একটি বাড়িতে চালানো হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে; আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ। ওই স্থানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল, ফলে বেসামরিক মানুষ সংঘর্ষের মধ্যে পড়ায় তীব্র আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব প্রতিবেদনে বেসামরিক হতাহতের কোনও বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের অভিযানকে নির্ভুল বলে উল্লেখ করেছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে লক্ষ্যবস্তুগুলো সামরিক প্রকৃতির ছিল।

## কৌশলগত প্রেক্ষাপট

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেখানে যেকোনও ধরনের বিঘ্নের সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

সরাসরি সামরিক তৎপরতায় স্বল্পস্থায়ী বিরতির পর এই সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। ওই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বা kinetic operations-এর পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি নির্ভর করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে ইরানের নতুন করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সেই নীতিগত পরিবর্তন আবারও উল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

## মার্কিন নীতির পরিবর্তন ও কৌশলগত উদ্ভাবন: “Tanker for Tanker”

একটি উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, এই অভিযানগুলোতে মার্কিন বাহিনী ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে—প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌ অবরোধ লঙ্ঘনের কারণে নয়, বরং জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে প্রচলিত সামরিক সম্পদের পরিবর্তে ট্যাঙ্ককে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা এটিই প্রথম। কখনও কখনও “Tanker for Tanker” কৌশল নামে পরিচিত এই পদ্ধতি সামুদ্রিক সংঘাতে বৈধ লক্ষ্যবস্তুর ধারণাকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যখন বেসামরিক জাহাজ জড়িত থাকে।

## আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

মার্কিন বিমান হামলার জবাবে:

– ইরান জর্ডানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে।
– স্থানীয় কর্মকর্তারা Kuhestak-এ চালানো হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
– আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন সংস্থাগুলো হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কার জাহাজে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে, যা আরও উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই সংঘর্ষগুলো একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বারবার সংঘর্ষের মধ্যেও চুক্তিটি এখন পর্যন্ত কোনওরকমে বজায় ছিল।

## এরপর কী হতে পারে

CENTCOM জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী এখনও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ইরানি হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের নির্দেশ কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দিয়েছে কমান্ড।

ওয়াশিংটনে নীতিনির্ধারণী আলোচনা সামরিক প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমন্বয়ে চাপ বজায় রাখার দিকেই কেন্দ্রীভূত বলে মনে হচ্ছে। একইসঙ্গে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জটিলতাও সামলাতে হচ্ছে।

এদিকে, সামুদ্রিক পরিবহন সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজের বিমা, রুট নির্ধারণ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা—সবকিছুই নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বহু বাণিজ্যিক সংস্থা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরও কোনও হামলা হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে, ব্যাহত হতে পারে জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্বজুড়ে বেড়ে যেতে পারে দাম।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.