Home RSS national bangla শেখ হাসিনা বললেন, বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো

শেখ হাসিনা বললেন, বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো

3
0

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে একান্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান Bangladesh Nationalist Party (BNP) সরকারের সাম্প্রতিক দাবিগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, বাংলাদেশে তাঁর প্রত্যাবর্তন ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে। বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দাবি করেন, তাঁর প্রত্যাবর্তন এবং ভারতে সম্ভাব্য সম্পত্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর বাতিলের কোনও সম্পর্ক নেই।

## হাসিনার সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়গুলি

– হাসিনা **ডিসেম্বরের মধ্যে** দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে সঠিক তারিখ, সময় এবং প্রবেশপথ জানাবেন।
– তাঁর ৫ আগস্টের ভারতীয় সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষতি করেছে বা কূটনৈতিক সফরে প্রভাব ফেলেছে—এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, BNP-র চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে রাজনৈতিক বৈঠক করলেও, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পূর্ব প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কোনও বিদেশি সরকার আপত্তি জানায়নি।

## বাংলাদেশের উদ্বেগজনক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, দাবি হাসিনার

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা তাঁর দলের শাসনামলে অর্জিত অগ্রগতির সঙ্গে তার তুলনা করেন:

– অর্থনৈতিক সূচকের অবনতি হয়েছে: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে GDP বৃদ্ধির হার **৬.৮০%** থাকলেও তা কমে **২.২২%** হয়েছে। ৫৪ বছরে প্রথমবার শিল্পক্ষেত্রে **ঋণাত্মক বৃদ্ধি** দেখা গেছে।
– দারিদ্র্য ও কর্মহীনতা বেড়েছে। **২ কোটিরও বেশি মানুষ নতুন করে বেকার** হয়েছেন। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়ার সুযোগও কমেছে।
– তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে আইনব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে **৬০০-রও বেশি সাজানো মামলা** দায়ের করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বহু সদস্য নির্বাসনে রয়েছেন অথবা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

হাসিনা সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি শুধু অভ্যন্তরীণ সংকট নয়; এটি বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে এবং উগ্রপন্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

## প্রত্যর্পণের দাবি এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, BNP সরকার তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করেছে। তিনি এই যোগসূত্রকে জোরালোভাবে অস্বীকার করে বলেন, আদালত এবং কূটনীতিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত।

গ্রেফতার বা ক্ষতির আশঙ্কা তাঁর দেশে ফেরার সময়সূচিকে প্রভাবিত করেছে কি না, জানতে চাওয়া হলে হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি তাঁকে প্রভাবিত করছে না: “আমার প্রত্যাবর্তন ক্ষমতার জন্য নয়। এটি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”

## প্রতিরক্ষা, কূটনীতি এবং বিদেশি সহযোগিতা নিয়ে মতামত

চীনের সঙ্গে BNP-র সাম্প্রতিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সমালোচনা করেন হাসিনা। বিশেষভাবে তিনি **২.৩ বিলিয়ন ডলারের J-10CE যুদ্ধবিমান চুক্তির** উল্লেখ করেন। সমাজের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, বিদ্যুৎ এবং সারের ঘাটতির সঙ্গে তিনি এই চুক্তির প্রসঙ্গ যুক্ত করে বলেন, প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও তা জরুরি জনকল্যাণের বিষয়গুলিকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়।

তাঁর সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে হওয়া উন্নয়ন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন হাসিনা, বিশেষ করে তিস্তা নদী প্রকল্পের প্রসঙ্গে। তবে BNP-র বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকার করেন।

## নিরাপত্তা সতর্কতা: “আরেকটি পাকিস্তান”?

তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উগ্রপন্থার পুনরুত্থান নিয়ে প্রকাশ করা উদ্বেগের সঙ্গে একমত হন হাসিনা। তিনি স্পষ্ট করেন, “আরেকটি পাকিস্তান” বলতে কোনও সম্পূর্ণ দেশকে বোঝানো হচ্ছে না; বরং এর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, দুর্বল প্রতিষ্ঠান এবং ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মতো বিষয়।

তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ করে বলেন, উগ্রপন্থীরা বাংলাদেশে নিজেদের ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করতে পারে। Neo-Jamaat-ul-Mujahideen Bangladesh-এর মতো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সাম্প্রতিক বিস্ফোরক-সংক্রান্ত ঘটনাগুলি এই হুমকিকে আরও জোরালো করে।

## ব্যক্তিগত স্মৃতি: ক্ষতি, নির্বাসন এবং পুনঃসংযোগ

২১ আগস্ট, **২০০৪**-এ ঢাকায় একটি হত্যাচেষ্টার হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন হাসিনা। তাঁর সমাবেশে ছোড়া গ্রেনেডে ২৪ জন নিহত এবং ৩০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, নির্বাসন তাঁর কাছে অপরিচিত নয়, তবে এটি মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন: “জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা কখনও সহজ হয় না।”

তিনি গ্রামীণ বাংলাদেশের প্রতি নিজের আকুলতার কথা জানান—“সেখানকার মুখগুলি, ভাষা, সরল বিশ্বাস এবং গ্রামবাংলার মাটি”-র জন্য। শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও দলের কর্মী, প্রতিদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানান।

## আওয়ামী লীগের দৃঢ়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তাব

হাসিনা বলেন, তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৭ সালে যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা সবসময় গণতান্ত্রিক নীতি এবং জনসেবার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাঁর দল বেআইনি কাজ করেছে—এমন অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ—গণগ্রেফতার, বাড়িঘর ধ্বংস বা দলকে নিষিদ্ধ করা—নিয়ে সমালোচনার জবাবে হাসিনা বলেন, বৈধতা নির্বাচনের মাধ্যমে আসা উচিত। তাঁর বক্তব্য, বেআইনিভাবে দখল করা ক্ষমতা জনপ্রিয় সমর্থনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে সীমাবদ্ধ করার বৈধতা দেয় না।

## বাংলাদেশ ও অঞ্চলের জন্য তাৎপর্য

বাংলাদেশের যে আপসকৃত রাজনৈতিক কাঠামো এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলির কথা হাসিনা বলেছেন, সেগুলি দেশের সীমানার বাইরেও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন:

– রাজনৈতিক অস্থিরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ধারাবাহিক প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত যখন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে দুর্বল করে প্রভাব বাড়াচ্ছে।
– মানবিক ও আইনি উদ্বেগের সঙ্গে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কও জড়িত, বিশেষ করে যখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.