Home LATEST NEWS BANGLA ড্রোন, সাইবার হামলা, অপপ্রচার: ইউরোপে যে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে

ড্রোন, সাইবার হামলা, অপপ্রচার: ইউরোপে যে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে

4
0

Source : BBC NEWS

একটি যৌথ ছবিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেখা যাচ্ছে। পেছনে রয়েছে ভেঙে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা এবং ডিজিটাল কোডের নকশা।

ছবির উৎস, EPA

গত মাসে লেইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার জন্য জার্মানি সরাসরি মস্কোকে দায়ী করার পর রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, বিস্ফোরকবাহী একটি ড্রোন মোতায়েনের ঘটনা ছিল “ইউরোপে রাশিয়ার হাইব্রিড অভিযানের সুপ্রতিষ্ঠিত ধরন” অনুসরণ করে সংঘটিত; অর্থাৎ, প্রকাশ্য সংঘাতে না গিয়ে চাপ প্রয়োগের জন্য সামরিক ও অসামরিক কৌশলের ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।

এর প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি ও রাশিয়া পরস্পরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে বন শহরে রুশ কনস্যুলেটও রয়েছে।

লেইপজিগ/হালে বিমানবন্দর, যা কিয়েভকে সহায়তার জন্য লজিস্টিক কার্যক্রমে জড়িত ছিল, সেখানে হামলার ঘটনাকে ইউরোপে দেখা “আরও উদ্বেগজনক হাইব্রিড কর্মকাণ্ডগুলোর একটি” হিসেবে বর্ণনা করেন নেটোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার।

তিনি আরও বলেন, “এটি যে গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা তা মেনে নেব না, তা জোরালোভাবে প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আরও বিস্তৃত একটি ধারার অংশ, যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপজুড়ে ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে।

লেইপজিগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো এবং জার্মানির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আগের ঘটনাগুলো নিয়েও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা।

পশ্চিমে ‘বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে মস্কো

চলতি বছরের শুরুর দিকে ব্রাতিস্লাভাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবসেক জানায়, তারা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ১৫১টি কর্মকাণ্ড শনাক্ত করেছে, যদিও তাদের ধারণা প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এর মধ্যে ছিল হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, ভাঙচুর এবং জনঅস্থিরতা।

তারা বলেছে, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশে এ ধরনের হামলার ধরন “দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত করে যে ইউক্রেনকে সমর্থন করাই” এসব ঘটনার পেছনে “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক কারণ”।

অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের একটি প্রতিবেদনে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার হামলার অভিযোগের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে ছিল “হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তার, সাইবার হামলা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনসহ অন্যান্য ঘটনা” যার মধ্যে রেলপথ ও সমুদ্রতলের কেবলে হামলার ঘটনাও ছিল।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা রুসির এমিলি ফেরিস বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে হামলার ঘনত্ব ও পরিসর বেড়েছে।

তার মতে, মস্কো “পশ্চিমে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা” সৃষ্টি করতে এবং ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার জন্য “নেটোর ব্যয় বাড়াতে” চায়, তবে একই সঙ্গে “যুদ্ধের সীমার নিচে” থাকতে চায়।

গ্লোবসেকের অ্যাসোসিয়েট ফেলো ম্যাকসিম বেজনোসিউক বলেন, ক্রেমলিন “নেটোর প্রস্তুতি পরীক্ষা করছে, মিত্রদের মধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি বিভাজনকে কাজে লাগাচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে”।

বেজনোসিউকের মতে, রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধের বাড়তি ব্যবহার মূলত ইউক্রেনে “হতাহতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি রাখা”, সোভিয়েত যুগের সরঞ্জামের ক্ষয়, বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ এবং যুদ্ধে প্রচলিত সামরিক উপায়ে নির্ণায়ক সাফল্য অর্জনের জটিলতারও প্রতিক্রিয়া।

তিনি বলেন, “ইউরোপের বিরুদ্ধে হাইব্রিড অভিযান ক্রমশ এমন একটি কৌশলে পরিণত হচ্ছে, যার লক্ষ্য কম খরচ ও কম ঝুঁকিতে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তার পথে বাধা তৈরি এবং ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকে দুর্বল করা। একই সঙ্গে সংহতি নাশ ও রাজনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করা।”

ইউরোপের একটি মানচিত্র, যেখানে লাল বিন্দুর মাধ্যমে ইউরোপে রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন হাইব্রিড যুদ্ধের হামলাগুলো দেখানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ওপর দায় চাপানো অধিকাংশ কর্মকাণ্ড সীমিত ক্ষতি করেছে, তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে এগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য সম্পদ ব্যয় করিয়েছে।

ইউক্রেনে সরবরাহ পাঠানোর ক্ষেত্রে নেটোর লজিস্টিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ড এর একটি উদাহরণ। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পোল্যান্ড সরকার সরবরাহ ব্যবহৃত একটি রেলপথে বিস্ফোরণের ঘটনাকে “অভূতপূর্ব নাশকতা” বলে বর্ণনা করে এবং বলে যে সবকিছুই রাশিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে।

রাশিয়া জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনাটি পোল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে একটি সামরিক অভিযান শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করে। এবং জানুয়ারিতে দেশটির পূর্ব সীমান্তে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষর করে।

জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন ড্রোন তৎপরতার খবরও পাওয়া গেছে।

তবে হাইব্রিড কর্মকাণ্ড কেবল ভৌত নাশকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ইউরোপীয় সরকারগুলো রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনেছে, যেখানে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, বানোয়াট প্রতিবেদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সন্দেহজনক রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট প্রভাব বিস্তার অভিযানের তদন্ত করেছে।

জার্মানিতে কর্মকর্তারা আঞ্চলিক ভোটের আগে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা দুর্বল করার প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

বেজনোসিউক বলেন, “মৌলিক লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়নি। বিপুলসংখ্যক ভোটারকে সরাসরি প্রভাবিত করার প্রয়োজন নেই মস্কোর। তারা বিদ্যমান বিভাজনকে কাজে লাগাতে পারে, রাশিয়ার সমালোচক রাজনীতিকদের বদনাম করতে পারে, রাজনৈতিক মেরুকরণকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ক্ষয় করতে পারে।”

আংশিক কাটা ফসলের মাঠে মাটিতে পড়ে থাকা একটি ধ্বংসাবশেষের টুকরার কাছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে আছেন। পেছনে গাছের সারি দেখা যাচ্ছে এবং আকাশ কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন।

ছবির উৎস, Reuters

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া তার বৈরী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বজায় রাখার নতুন পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছে।

ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইউরোপীয় সরকারগুলো এই উপসংহারে পৌঁছায় যে রুশ কূটনৈতিক মিশনগুলো ব্যাপকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা কূটনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করছে বলে সন্দেহ করা কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এরপর থেকে মস্কো ইউরোপীয় পাল্টা গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে অনলাইনে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের নিয়োগে অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে।

ফেরিস বলেন, “এগুলো আর দূতাবাসের মাধ্যমে হচ্ছে না। এগুলো হচ্ছে এই প্রক্সিদের মাধ্যমে।”

তিনি আরও বলেন, বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহার, যারা সাধারণত মতাদর্শের চেয়ে অর্থের দ্বারা বেশি প্রভাবিত, বৈরী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ক্রেমলিনের যোগসূত্র প্রমাণ করা কঠিন করে তোলে।

জানুয়ারিতে লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার জিআরইউ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে তারা ২০২৪ সালে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জন্য রেডিও ওয়েভ স্ক্যানার সরবরাহকারী একটি কারখানায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল।

স্পেন, কলম্বিয়া, কিউবা, রাশিয়া ও বেলারুশের ছয়জন নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

গ্লোবসেকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট হামলায় জড়িত ১৭২ জন ব্যক্তির ৯৫ শতাংশই ছিলেন “রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই এমন সাধারণ নাগরিক”।

ফেরিস বলেন, “এর ফলে রাশিয়া থেকে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়,” এবং উল্লেখ করেন যে এতে দায় নির্ধারণ ধীর ও আইনগতভাবে জটিল হয়ে পড়ে।

“এসব তথ্য প্রকাশ পেতে সত্যিই অনেক সময় লাগে, তাই বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে যায়,” বলেন তিনি।

বেজনোসিউক রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর পরিবর্তিত ভূমিকাও তুলে ধরেন।

এটি তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের একটি নেটওয়ার্ক, যা মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিদেশি পতাকা ও বিদেশে নিবন্ধিত শেল কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হয়।

২০২৪ সাল থেকে এই বহরের জাহাজগুলোর সঙ্গে সমুদ্রতলের কেবল ও পাইপলাইনের ক্ষতি, এবং বাল্টিক ও উত্তর সাগর অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাছে নজরদারি ও ড্রোন তৎপরতার মতো সন্দেহভাজন ঘটনার যোগসূত্র ক্রমশ বেশি তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যান্য অভিযোগের মতোই রাশিয়া এটিও অস্বীকার করেছে।

কী করা যেতে পারে?

পাথুরে উপকূলের বাইরে সমুদ্রে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি সহায়ক জাহাজ। পেছনে দুটি পালতোলা নৌকা দেখা যাচ্ছে।

ছবির উৎস, Finnbarr Webster/Getty Images

বেজনোসিউক মনে করেন, নেটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এই হুমকিকে কেবল “বাগাড়ম্বরপূর্ণ স্বীকৃতি” দেওয়ার পর্যায় থেকে এগিয়ে যাওয়া এবং রুশ নাশকতাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত ও মোকাবিলা করা হবে তা আরও স্পষ্ট করা।

তার মতে, নাশকতার ঘটনাগুলোকে রাষ্ট্রীয় বৈরী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি কূটনৈতিক চলাচলে আরও কঠোর বিধিনিষেধ, রাশিয়ার শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নির্বাচনের আগে গণমাধ্যম বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে অধিক বিনিয়োগের পক্ষে।

নেটো ও ইইউভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে যে তারা গোয়েন্দা সহযোগিতা জোরদার করছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সুরক্ষা বাড়াচ্ছে এবং রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ করছে।

তবে কর্মকর্তারা বলছেন, হাইব্রিড হুমকির ধরন পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে।

ফেরিস ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের স্যালিসবারিতে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর হত্যাচেষ্টার পর সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ দেন, যখন ইউরোপীয় দেশগুলো “একসঙ্গে হয়েছিল” এবং “সংহতির অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল”।

তার মতে, এই পদক্ষেপ “ইউরোপে রুশ গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে বেশ সফলভাবে ব্যাহত করেছিল”।

‘ভুল বোঝাবুঝির অনেক সুযোগ রয়েছে’

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দুই বিশেষজ্ঞই বলছেন, নেটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করার সম্ভাবনা রাশিয়ার কম।

ফেরিস উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ যখনই শেষ হোক না কেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগবে।

বেজনোসিউকের মতে, “আরও সম্ভাব্য দৃশ্যপট” হলো নেটোর পূর্ব প্রান্তে রাশিয়ার “সীমিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট রাজনৈতিক-সামরিক উসকানি”।

তবে উভয় বিশ্লেষকই ধারণা করছেন, রাশিয়ার হাইব্রিড যুদ্ধের ব্যবহার আরও বাড়বে।

বেজনোসিউকের মতে, উন্মুক্ত সংঘাত শুরু না করে নেটোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে রাশিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত নাশকতা, সাইবার অভিযান এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের মতো কৌশল ব্যবহার করে হাইব্রিড তৎপরতা বাড়াতে পারে।

তিনি বলেন, “যতদিন এসব অভিযান কম ব্যয়বহুল থাকবে, দ্রুত দায় নির্ধারণ করা কঠিন হবে এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্রার বিঘ্ন ও রাজনৈতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে, ততদিন মস্কোর জন্য ইউরোপের দুর্বলতা ও সীমারেখা পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার শক্তিশালী প্রণোদনা থাকবে।”

তবে ফেরিস ও বেজনোসিউক সতর্ক করেছেন যে অনিচ্ছাকৃত উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।

বেজনোসিউক বলেন, “দুর্ঘটনা, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা এমন গুরুতর উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যা কোনো পক্ষই চায় না।”

এই কারণেই ফেরিসের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উন্নত যোগাযোগ অপরিহার্য, যদিও তা “অজনপ্রিয়” হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নেটো-রাশিয়া কাউন্সিল পুনরায় চালু করা, যার সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালের জানুয়ারিতে।

তিনি বলেন, “এটি উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়, তোষণের নয়। ভুল বোঝাবুঝি এবং মৃত্যুর অনেক আশঙ্কা রয়েছে।”