Home LATEST NEWS BANGLA যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টাল ব্যালট সীমিত করতে ট্রাম্পের চেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টাল ব্যালট সীমিত করতে ট্রাম্পের চেষ্টায় সুপ্রিম কোর্টের বাধা

3
0

Source : BBC NEWS

মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ভবন

ছবির উৎস, Getty Images

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোট (মেইল-ইন ব্যালট) দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার যে পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটি খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

আদালতের এই সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিচারকরা ফেডারেল বিচারকের একটি আদেশ বহাল রেখেছেন, যার ফলে মার্কিন পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএস-কে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখছে।

তবে এটিই এ বিষয়ে শেষ কথা নাও হতে পারে। কারণ এই রায়ের সাথে একমত পোষণ করলেও, রক্ষণশীল বিচারক ব্রেট কাভানাভ এটিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই মামলার আইনি লড়াইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তিনি পরবর্তীতে ট্রাম্পের পক্ষেও রায় দিতে পারেন।

নির্বাচনী জালিয়াতি রোধে এই নিয়মগুলো সহায়ক হবে বলে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প মার্চ মাসে একটি নির্বাহী বিলে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে ইউএসপিএস-কে কেবল নাগরিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের কাছেই ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, এই পদক্ষেপটি নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

বিচারক কাভানাভ তার মতামতে লিখেছেন যে, “চূড়ান্ত নিয়মটি পোস্টাল সার্ভিসের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ার অন্তত একটি ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।”

তবে তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, “২০২৬ সালের নির্বাচনে এই নিয়ম প্রয়োগ করাটা নির্বিচার এবং অযৌক্তিক হবে।”

অন্য দুই রক্ষণশীল বিচারক স্যামুয়েল অ্যালিতো এবং ক্লেরেন্স থমাস এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তারা লিখেছেন যে, ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে করা এই আইনি চ্যালেঞ্জটি ছিল একটি ‘হেইল মেরি পাস’ বা খুব ক্ষীণ আশার শেষ চেষ্টা, যা শেষ পর্যন্ত সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল।

“মেইল বা চিঠি আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার পোস্টাল সার্ভিসের রয়েছে,” তারা আরও যোগ করেন।

এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

হোয়াইট হাউসে ফেরত আসার পর থেকেই ডাকযোগে ভোটদান সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

তিনি দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছেন যে, এর মাধ্যমে অনাগরিকরা ভোট দিতে পারে এবং এখানে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে।

এর আগে, মার্চ মাসে এক নির্বাহী আদেশে ইউএসপিএস-কে পোস্টাল ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

পাশাপাশি, রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও মেইল ব্যালট পাওয়া ভোটারদের সম্পর্কে একটি অনলাইন পোর্টালে তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছিল।

ট্রাম্পের এই আদেশ রুখতে ২৩টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করেছিল।

পোস্টাল শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়াও সম্ভব হয়নি।

আদালতে দাখিল করা নথিতে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইউএসপিএসের নতুন নিয়মগুলো সাংবিধানিক।

এতে বলা হয়েছে যে, রাজ্যগুলো “তাদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য ফেডারেল ডাক ব্যবস্থা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তবে এই দাবি করতে পারে যে, তাদের নির্বাচন-সংক্রান্ত ডাক কোনোভাবে কংগ্রেস প্রদত্ত ডাক বিভাগের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত”।

নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে

ছবির উৎস, Bloomberg via Getty Images

বোস্টনভিত্তিক বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি চৌঠা সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের আদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি রায় দেন যে, নভেম্বরের নির্বাচনের খুব কাছাকাছি সময়ে এই ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

গত সপ্তাহে একটি মার্কিন আপিল আদালত বিচারক তালওয়ানির আদেশ স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়।

রোববার অন্য এক ফেডারেল বিচারক, বিচারক কার্ল নিকোলস, ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে রায় দেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কিছু অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যেই মেইল-ইন ব্যালট বিতরণ করা শুরু করে দিয়েছে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে।

পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের এটিই প্রথম ধাক্কা নয়।

এর আগে জুন মাসে বিচারকরা রায় দিয়েছিলেন যে, রাজ্যগুলো নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট গণনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের দিন শেষ হওয়ার পর ভোট পৌঁছালে তা গণনা করা থেকে বিরত রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাম্প এর আগে ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন যে, ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির কারণেই তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।