Home LATEST NEWS BANGLA যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং থেকে আরও ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ

3
0

Source : BBC NEWS

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও বিমানের রেপ্লিকা দেখা যাচ্ছে

ছবির উৎস, U.S. Embassy Dhaka

Published

পড়ার সময়: ৩ মিনিট

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

চুক্তি সাক্ষরের পর নিউইয়র্কের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যদিও বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আগে থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল।

বিশেষ করে, বাংলাদেশের সরকার যখন অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে তখন নতুন করে বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন অনেক বিশ্লেষক।

এদিকে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশে সম্পর্কের জন্য দারুণ অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়, “বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন! যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই।”

নিউইয়র্কের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়

ছবির উৎস, BSS

চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

এর আগে চলতি বছরেরই ৩০শে এপ্রিল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল।

যার আওতায় তখন বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার কথা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর তার বাংলাদেশ সফর শেষে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সেই তথ্যই বাস্তবে রূপ নিল। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

মাহদী আমিন বলেন, “বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।”

বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মি. আমিন জানান, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমান কেনার বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।

মি. আমিন বলেন, চাহিদা রয়েছে বলেই বোয়িং থেকে নতুন বিমান কিনছে বাংলাদেশ। বোয়িং এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলে জানান তিনি।

“বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন,” বলেন মি. আমিন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে চারজন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।

জানানো হয়, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মি. কবীর দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এ চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ বিমানের বহরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজই বেশি

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

সংবাদ সম্মেলনে বিমান কেনার চুক্তির বিষয়টি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়েও জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

এছাড়া গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মি. আমিন।

জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।