২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে বিনোদন জগতের বহু মানুষ একত্রিত হয়ে প্রিয় চরিত্রাভিনেতা মুশতাক খানকে শেষ বিদায় জানান। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৬২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ইয়ারি রোড কবরস্থানে তাঁর শেষকৃত্যে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্র এবং তালাত আজিজ।
—
## মুম্বইয়ে শেষ বিদায়
মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন মুশতাক খান। তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তান—এক ছেলে ও এক মেয়ে—রয়েছেন। আজ মুম্বইয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে বহু বিশিষ্ট অভিনেতা ও ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী উপস্থিত হন।
শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন:
– রাজপাল যাদব ও সঞ্জয় মিশ্র—দু’জনেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহ-অভিনেতা।
– অভিনেতা ও গায়ক হিসেবে পরিচিত তালাত আজিজ।
– রাজত বেদি, যিনি *Jodi No. 1*, *Dhamkee* এবং *Kaaboo*-এর মতো ছবিতে খানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
– টেলিভিশন অভিনেতা শরদ মালহোত্রা ও শাহবাজ খান।
– প্রবীণ অভিনেতা সুলভা আর্য ও অনঙ্গ দেশাই, যাঁদের সঙ্গে খান *Hera Pheri*, *Aadmi* এবং আরও বেশ কিছু স্মরণীয় ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন।
– খানের বাসভবনে মনীশ বাধওয়া ও আহসান কুরেশিকেও দেখা যায়।
—
## ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে শ্রদ্ধার্ঘ্যের ঢল
খানের মৃত্যুর পর বলিউডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে থাকে। উল্লেখযোগ্যভাবে:
– **অনুপম খের** তাঁকে “খুবই সরল একজন মানুষ” হিসেবে বর্ণনা করেন, যাঁর রসবোধ ছিল অসাধারণ। কেরিয়ারের শুরুর দিকের তাঁদের একসঙ্গে কাজের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি খানের দয়া ও মমতার প্রশংসা করেন। খের বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনও খানকে রাগ করতে দেখেননি।
– **সানি দেওল** লেখেন, “কিছু মানুষ এমন স্মৃতি রেখে যান, যা আমাদের সবসময় হাসাবে।” তিনি খানকে একজন দক্ষ অভিনেতা ও উষ্ণ হৃদয়ের মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, তাঁর উপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে।
– **পরেশ রাওয়াল** খানকে “ভালোবাসায় ভরা একজন মানুষ এবং আকর্ষণীয় অভিনেতা” হিসেবে স্মরণ করে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন।
– **রাকুল প্রীত সিং** তাঁকে বহুমুখী প্রতিভার অভিনেতা ও প্রিয় মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি লেখেন, “আপনার উষ্ণতা, রসবোধ এবং উপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে।”
– **রবি কিষাণ** লেখেন, তাঁরা হারালেন “একজন বন্ধু, অসাধারণ এক মানুষ… সীমাহীন দক্ষতার বহুমুখী অভিনেতাকে।” তিনি খানকে “নিরীহ, অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ” হিসেবে অভিহিত করেন।
—
## কেরিয়ারের উল্লেখযোগ্য দিক ও উত্তরাধিকার
মুশতাক খান মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁকে প্রায়ই পার্শ্বচরিত্রে দেখা গেলেও, তিনি অভিনীত প্রতিটি চরিত্রে গভীরতা ও সূক্ষ্মতা এনে দিতেন। তাঁর কিছু স্মরণীয় কাজের মধ্যে রয়েছে:
– *Welcome* (2007), যেখানে তিনি এক প্রতিবন্ধী হকি খেলোয়াড়ের চরিত্রে অভিনয় করেন—এই ভূমিকাটি তাঁকে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
– অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবি হল *Hum Hain Rahi Pyar Ke* (1993), *Aashiqui* (1990), *Hera Pheri* (2000), *Jodi No. 1* (2001), *Mujhse Shaadi Karogi* (2004), *Khiladi 786* (2012), *Stree* (2018), *Badhaai Do* (2022), *Gadar 2* (2023), *Stree 2* (2024) এবং *Baby John* (2024)।
সহকর্মী ও দর্শক—উভয়েই তাঁর বহুমুখী প্রতিভা, বিনয় এবং প্রতিটি চরিত্রে নিয়ে আসা উষ্ণতার প্রশংসা করতেন।
—
## তাঁর কথা ও স্মৃতিতে
অনুপম খেরের স্মৃতিচারণে পর্দার বাইরেও মুশতাক খানের ব্যক্তিত্বের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসে। খের স্মরণ করেন, পেশাগত জীবনে নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও খান কখনও ক্ষোভ পুষে রাখতেন না বা রাগ প্রকাশ করতেন না। খেরের শ্রদ্ধার্ঘ্যে খান ও তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে—বিশেষ করে তাঁর ছেলে মোহসিনের কথা। খের বলেন, অসুস্থতার সময় মোহসিন “নিশ্চয়ই মুশতাক সাহেবের ভালোভাবে যত্ন নিয়েছে।”
যাঁরা খানের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁরা শুধু তাঁর অভিনয় দক্ষতার কথাই বলেননি, তাঁর মানবিকতার কথাও তুলে ধরেছেন। নিজের কাজের মাধ্যমে আনন্দ ও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর দর্শকদের জন্য চিরস্থায়ী উপহার হয়ে থাকবে।
—
## শেষ বিদায়
শেষকৃত্যটি একই সঙ্গে শোকের মুহূর্ত এবং অর্থবহ এক জীবনের উদ্যাপনে পরিণত হয়। সহকর্মী, বন্ধু ও ভক্তরা একত্রিত হয়ে এমন এক অভিনেতাকে শ্রদ্ধা জানান, যিনি শুধু অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না—তিনি তাঁর বড় মনের জন্যও সমানভাবে স্মরণীয়।
আজ বলিউড মুশতাক খানকে শুধু সেইসব চরিত্রের জন্য স্মরণ করছে না, যেগুলো মানুষকে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে কিংবা ভাবিয়েছে—তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবেও স্মরণ করা হচ্ছে, যাঁর উপস্থিতি ছোট্ট একটি দৃশ্যকেও উজ্জ্বল করে তুলত। হাসি, নাটকীয়তা এবং তাঁর কাজের অংশ হয়ে ওঠা অসংখ্য গল্পের মধ্যেই তাঁর উত্তরাধিকার বেঁচে থাকবে।
—
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.

