বেঙ্গালুরুর এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ করেছে, ক্রমবর্ধমান পারিবারিক অশান্তির জেরে এক ক্যাবচালক তার স্ত্রী এবং পরিবারের ছয় সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা অত্যন্ত সুচারুভাবে সাজিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সি ইন্দুশেখর (শেখর নামেও পরিচিত) কয়েক দিন ধরে এই হত্যাকাণ্ডগুলি চালানোর পর মৃতদেহগুলি নন্দী হিলস এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় ফেলে দেন।
—
## টানাপোড়েনের দাম্পত্য এবং বাড়তে থাকা ক্ষোভ
ইন্দুশেখর ও তাঁর স্ত্রী সুনীথার প্রায় দুই দশক আগে বিয়ে হয়েছিল। তাঁরা বেঙ্গালুরুর রাজাজিনগরে থাকতেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সুনীথার তাঁর মায়ের বাড়ির পরিবারের—মা ও ভাইদের—সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও বেড়ে যায়।
পুলিশের অনুমান, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলে মনে হওয়া বিষয়টি নিয়ে ইন্দুশেখরের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে তিনি শুধু স্ত্রীকেই নয়, পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ, কারণ তাঁর ধারণা ছিল, তাঁরা দাম্পত্য কলহে সুনীথাকে সমর্থন করতেন এবং তাঁর পক্ষ নিতেন।
—
## কথিত হত্যার পদ্ধতি
তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কথিত হত্যার পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত:
– প্রথমে তিনি মাটন দিয়ে খাবার তৈরি করতেন এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো মদ পরিবেশন করতেন। ভুক্তভোগীরা দুপুরে সেই খাবার খেয়ে গভীরভাবে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাঁদের শিলনোড়া দিয়ে হত্যা করা হতো।
– তরল পদার্থ বেরিয়ে আসা ঠেকাতে এবং পচনের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিটি মৃতদেহ আঠালো টেপের একাধিক স্তর—কখনও ১০টি পর্যন্ত—দিয়ে মুড়ে রাখা হতো। গন্ধ ঢাকতে রোজ ওয়াটার ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
– হত্যার পর রক্তের চিহ্ন মুছে ফেলতে তিনি রাসায়নিক দিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করেন এবং কথিতভাবে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, যার মধ্যে শিলনোড়াও ছিল, জীবাণুমুক্ত করেন।
—
## ঘটনাক্রম: কে এবং কখন
তদন্তে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত একটি সময়রেখা উঠে এসেছে:
1. সুনীথা ছিলেন প্রথম ভুক্তভোগী। অভিযোগ, ইন্দুশেখর তাঁকে শিলনোড়া দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন, কাপড় বা অন্য উপাদান দিয়ে মুড়ে তাঁর দেহ নন্দী হিলসের কাছে ফেলে দেন। প্রতিবেশীদের তিনি বলেছিলেন, সুনীথা বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও চলে গেছেন এবং তাঁর ফোন বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
2. পরবর্তী দিনগুলিতে তিনি ছলনার আশ্রয়ে তাঁর শ্যালক শিবকুমার ও শঙ্করকে ডেকে এনে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। তাঁদের স্ত্রী নলিনী ও দিব্যা, তাঁর শাশুড়ি রূপাবতী এবং শঙ্করের সাত বছর বয়সি ছেলে পুণীতকেও আলাদাভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
3. পুণীতের দেহ এর আগেই নন্দী হিলসের কাছে উদ্ধার হয়েছিল। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর সেলেম জেলার একটি জঙ্গলঘেরা এলাকা থেকে সুনীথা ও রূপাবতীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মৃতদেহগুলির সন্ধান এখনও চলছে।
—
## গ্রেফতার এবং তদন্ত
নিখোঁজ ব্যক্তির অভিযোগ দায়েরের পর ইন্দুশেখরকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ায় এক ভুক্তভোগীর মা শ্রীरामপুরা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন। পুলিশ তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায় এবং তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শারীরিক প্রমাণ উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকার করেন বলে জানা গেছে যে হত্যাকাণ্ডগুলি “১৫ থেকে ২০ দিন” ধরে চলেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও সেই সময়সীমা যাচাই করছে।
অপরাধস্থল থেকে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে:
– একটি Toyota Etios গাড়ি, যা মৃতদেহ পরিবহণে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সন্দেহ এড়াতে গাড়িটির পিছনের উইন্ডশিল্ডে “PRESS” স্টিকার লাগানো ছিল।
– তদন্তকারীদের ধারণা, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই শিলনোড়া।
—
## বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান পরিস্থিতি
কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ধীরে ধীরে চরমে পৌঁছনোর ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, ইন্দুশেখরের মনে হয়েছিল সুনীথার পরিবার বারবার তাঁকে অপমান করত এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে হস্তক্ষেপ করত। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এটি এমন এক মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে অপরাধটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল।
এই মুহূর্তে:
– সুনীথা ও রূপাবতীর দেহ-সহ মোট তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে; আরও চারটি নিখোঁজ।
– পুলিশ অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য এবং বাকি মৃতদেহগুলির সম্ভাব্য অবস্থান যাচাই করছে। দুর্গম জঙ্গল এলাকা এবং খাড়া ভূখণ্ড-সহ একাধিক জায়গায় দলগুলি তল্লাশি চালাচ্ছে, যেখানে পৌঁছনো কঠিন।
—
## সম্ভাব্য সহযোগিতা
ইন্দুশেখর প্রধান সন্দেহভাজন হলেও তদন্তকারীরা আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। অন্তত কয়েকটি মৃতদেহ সরিয়ে ফেলতে তাঁর মেয়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে পুলিশ এখনও এই দাবি নিশ্চিত করেনি।
এই তদন্তাধীন ঘটনা পারিবারিক অশান্তি, মানসিক ভেঙে পড়া এবং কথিত নৃশংস হিংসার গভীর দিকগুলি সামনে আনে। কর্তৃপক্ষ ফরেনসিক প্রমাণ, মৃত্যুর সময়রেখা এবং বাইরের কারও সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাবে। আরও মৃতদেহ উদ্ধার এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্তের ওপর পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।
This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.
