Home RSS national bangla আজ শেখ হাসিনা কথা বলবেন: ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের নেত্রীর বক্তব্যে কী থাকতে পারে

আজ শেখ হাসিনা কথা বলবেন: ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের নেত্রীর বক্তব্যে কী থাকতে পারে

5
0

শেখ হাসিনা, সহিংস বিক্ষোভের জেরে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, দুই বছর পর প্রথমবার বিদেশে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে চলেছেন। এই ভাষণে তাঁর ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত মিলতে পারে। ক্ষমতা থেকে তাঁর নাটকীয় পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর আগে এই বিরল ও বহুল প্রত্যাশিত ভাষণ হতে চলেছে।

## দুই বছর নির্বাসনের পর আকস্মিক প্রকাশ্য উপস্থিতি

৭৮ বছর বয়সি Hasina একটি নৃশংস দেশব্যাপী অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট, ২০২৪ থেকে New Delhi-তে স্বেচ্ছানির্বাসনে বসবাস করছেন। সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নীতিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এবং তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। পরবর্তী দমন-পীড়নে আনুমানিক **১,৪০০ জন নিহত** এবং ২০,০০০-এরও বেশি মানুষ **আহত** হন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের একটি আদালত তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে **অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড** দেয়—যে অভিযোগ তিনি “আইনগতভাবে বাতিল” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার একটি Foreign Correspondents’ Club অনুষ্ঠানে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। India থেকে ভার্চুয়ালি এই ভাষণ দেওয়া হবে। এতে তাঁর ছেলে **Sajeeb Wazed Joy** এবং Awami League-এর অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতা, যার মধ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী **Mohibul Hasan Chowdhury Nowfel**-ও রয়েছেন, বক্তব্য রাখবেন।

## বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ কী করছে

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার বার্তা দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো আটকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিকে তাঁর আসন্ন ভাষণ সম্প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে।
তাঁর সহযোগী **Abu Obaidha Arin** এই পদক্ষেপের নিন্দা করে বলেছেন, “মতবিরোধের কণ্ঠরোধে ঢাকার প্রচেষ্টা দেশের সীমানার বাইরে থাকা কণ্ঠগুলিকে স্তব্ধ করতে পারবে না।”

অতীতে বিভিন্ন বক্তব্যে শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে হাসিনার অভিযোগ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জানুয়ারিতে New Delhi থেকেই দেওয়া এক ভাষণে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান **Muhammad Yunus**-কে “খুনি ফ্যাসিস্ট” বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই রেকর্ড করা ভাষণটি FCC-তে ১০০,০০০-এরও বেশি অনলাইন শ্রোতার সামনে সম্প্রচার করা হয়েছিল।

## যে বিষয়গুলি ভাষণে উঠতে পারে

তাঁর ভাষণে বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে:

– **৫ আগস্ট, ২০২৪-এর স্মরণ**: হেলিকপ্টারে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে India চলে যাওয়ার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মরণ।
– **নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন**: তিনি এর আগে ডিসেম্বর মাসে Bangladesh-এ ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন, যদিও সেখানে তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। তিনি AFP-কে বলেছিলেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে। আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আমাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।”
– **Awami League-এর সমর্থকদের পুনরুজ্জীবিত করা**: দলীয় নেতৃত্ব ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অনুগতদের দিকনির্দেশ ও উৎসাহ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে তাঁর ভাষণকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে।
– **শাসক সরকারের প্রতিক্রিয়া**: বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা প্রত্যাশিত। বিশেষ করে Yunus-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং Bangladesh Nationalist Party (BNP)-কে নিশানা করা হতে পারে। বর্তমানে সংসদে BNP-র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

**Smruti Pattanaik**-এর মতো বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনার প্রত্যাবর্তন Awami League-কে দেখাতে সাহায্য করবে যে দলটি আইনি অভিযোগের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না এবং এখনও জনসমর্থন সংগঠিত করতে সক্ষম। লেকচারার **Sreeradha Datta** মনে করেন, ভাষণটি মূলত অনুপ্রেরণামূলক হতে পারে এবং যেসব দলীয় সদস্যের আস্থা নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এটি দেওয়া হতে পারে।

## আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে হাসিনা এখনও মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি। অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায় সত্ত্বেও তিনি নিজের নির্দোষিতা বজায় রেখেছেন। বিক্ষোভ সামলানোর পদ্ধতি এবং জোরপূর্বক গুমের অভিযোগের জন্য তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনার বৃহত্তর সরকারি প্রচেষ্টার অংশ ছিল এই সাজা—সরকারি তদন্তে তাঁর ১৭ বছরের শাসনকালে অন্তত **১,৫০০টি গুমের ঘটনা** চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অনেকগুলির সঙ্গে বিরোধী দলের সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।

তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রতীকী এবং ঝুঁকিপূর্ণ—দুই-ই হতে পারে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে, তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা করতে পারে অথবা কারাদণ্ড দিতে পারে। তবু তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, ঝুঁকি নিয়ে ফিরে আসা সার্থক, কারণ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাঁর দলকে বাইরে রাখা হয়েছিল। **Tarique Rahman**-এর নেতৃত্বাধীন BNP সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতেছে, আর Awami League-কে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়।

## India-র ভূমিকা ও প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ বারবার India-র কাছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। India এখনও সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি এবং আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছে—পাশাপাশি ইঙ্গিত দিয়েছে যে অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে প্রত্যর্পণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।

New Delhi-র কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ভাষণ অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছে এবং ভারত সরকার “এর সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয়… একইভাবে এই মঞ্চে প্রকাশিত হতে পারে এমন কোনও মতামতকেও তারা সমর্থন করে না।”

**Rahman-এর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর** India ও Bangladesh-এর সম্পর্কের উন্নতি ঘটলেও, হাসিনার ভাষণ Dhaka এবং বিদেশে কীভাবে দেখা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

## এর পরবর্তী তাৎপর্য

হাসিনার ভাষণ আগামী মাসগুলিতে বিরোধী Awami League নিজেদের কীভাবে позициониর করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে। তাঁর নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন নিজের রাজনৈতিক উদ্যোগ পুনরুদ্ধার এবং গতি ফেরানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে—শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য নয়, নির্বাচনী কণ্ঠস্বর হারানো একটি দলের জন্যও।

কিছু পর্যবেক্ষক সতর্ক করেছেন, এই পদক্ষেপের ফলে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। গত গ্রীষ্মের বিক্ষোভ এবং রাষ্ট্রের পদক্ষেপের স্মৃতি এখনও বহু বাংলাদেশির মনে তাজা। দেশের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেবে কি না—অথবা তা আটকাবে কি না—তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.