Home LATEST NEWS BANGLA ইংল্যান্ড কীভাবে নিজের প্রথম রাজাকে ভুলে গেল?

ইংল্যান্ড কীভাবে নিজের প্রথম রাজাকে ভুলে গেল?

4
0

Source : BBC NEWS

ইংল্যান্ডের রাজা অ্যাথেলস্ট্যান

জীবদ্দশায় ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা ইউরোপজুড়ে সুপরিচিত ছিলেন। কিন্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে ইতিহাসে তিনি আজ বিস্মৃত এক শাসক।

এত বড় অর্জনের অধিকারী একজন শাসক হওয়া সত্ত্বেও অ্যাথেলস্ট্যান বিস্ময়করভাবে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবেই রয়ে গেছেন।

ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা হিসেবে অ্যাথেলস্ট্যানের অভিষেকের ১১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি ইতিহাসের বইগুলোতে আশ্চর্যজনকভাবে অনুপস্থিত।

আর তিনি নিজে আজ অনেকটাই বিস্মৃত হলেও, তার সময়কালে চালু হওয়া বহু আচার ও আনুষ্ঠানিকতা আজও পালন হচ্ছে যুক্তরাজ্যে।

তিনি শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন রাজ্যকে একত্রিত করে ইংল্যান্ড গঠন করেননি, বরং ইউরোপ মহাদেশের সঙ্গে গভীর ও জটিল সম্পর্কও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

দেশের ভেতরেও তিনি নানা সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এক বহুবৈচিত্র্যময় রাজ্যের শাসন করেছিলেন।

শৈলীর দিক থেকেও তিনি পথিকৃৎ ছিলেন।

তিনিই প্রথম ইংরেজ রাজা যিনি মুকুট পরেছিলেন। সে ঐতিহ্য আজও অব্যাহত রয়েছে।

তবু তার মৃত্যুর পর খুব দ্রুতই তিনি তার দাদা আলফ্রেড দ্য গ্রেটের উত্তরাধিকারের আড়ালে চলে যান।

এলিজাবেথীয় যুগে, ইংল্যান্ডের উৎসের বর্ণনা খোঁজার সময় তাকে উপেক্ষা করা হয়।

পরে ভিক্টোরীয় যুগেও, যখন ইতিহাসবিদরা সাম্রাজ্যবাদী ধারণাকে শক্তিশালী করতে অতীতের দিকে তাকান, তখনও তিনি কেবল প্রান্তিক এক সংক্ষিপ্ত উল্লেখ হিসেবেই রয়ে যান।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রবিনসন কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক এবং অ্যাথেলস্ট্যানের জীবনীকার ডেভিড উডম্যান বলেন, এখন সময় এসেছে এই রাজাকে আরও ভালোভাবে স্মরণ করার।

তিনি বলেন, তার অভিষেকের ১১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তার শাসনকালকে নতুন করে পর্যালোচনা করলে যারা “ইংরেজ হওয়ার” অর্থ বুঝতে চান, তারা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেতে পারেন।

উডম্যান বলেন, “অন্ততপক্ষে, অ্যাথেলস্ট্যানের কাহিনী এই কয়েক শতাব্দী পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায় যে ইংল্যান্ড শুরু থেকেই সাংস্কৃতিকভাবে এক রকম ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এটি এমন একটি ভুল ধারণা যা এখনও মাঝে মাঝে পুনরাবৃত্তি হয়। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে একটি প্রাচীন বই খুলে ধরে আছেন

অ্যাথেলস্ট্যান কে ছিলেন?

অ্যাথেলস্ট্যান ছিলেন সম্ভবত মধ্যযুগের শুরুর দিকের সবচেয়ে বিখ্যাত রাজা আলফ্রেড দ্য গ্রেটের নাতি।

নবম শতকে ভাইকিংদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ডেনিশদের বিপক্ষে বড় ধরনের বিজয়ের কারণে আলফ্রেড খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

ডেনিশদের সঙ্গে সংঘর্ষের মাধ্যমে তিনি পূর্বের মার্সিয়া রাজ্যের কিছু অংশে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন, যা ইংল্যান্ডের মধ্যাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। একই সঙ্গে তিনি তার রাজ্য ওয়েসেক্স থেকে উত্তর দিকে সম্প্রসারণ করেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রাইস্ট চার্চ কলেজের প্রধান এবং সাবেক রিজিয়াস প্রফেসর অব ইক্লেসিয়াস্টিক্যাল হিস্ট্রি সারা ফুট বলেন, “আলফ্রেডের ছেলে এডওয়ার্ড, যিনি অ্যাথেলস্ট্যানের বাবা, তিনিই ডেনিশদের কাছ থেকে ইস্ট অ্যাংলিয়া পুনর্দখল করেছিলেন।”

এডওয়ার্ড দ্য এল্ডার নামে পরিচিত এ রাজা এক নতুন ধরনের যুদ্ধকৌশল ব্যবহার করতেন, যার মধ্যে ছিল দুর্গনির্ভর শহর নির্মাণের মাধ্যমে শত্রুর ভূখণ্ড দখল ও ধরে রাখা।

সারা ফুট বলেন, “এবং মৃত্যুর সময় এডওয়ার্ডের রাজ্য হাম্বার নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।”

তখন তিনি তার পিতা আলফ্রেডের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া “অ্যাংলো-স্যাক্সনদের রাজা” উপাধি ধারণ করেছিলেন।

এডওয়ার্ডের কর্মকাণ্ড তার পুত্রের জন্য নতুন আর শক্ত পথ তৈরি করে দেয়।

৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে জন্ম নেওয়া অ্যাথেলস্ট্যান ছিলেন এই রাজবংশের পরবর্তী উত্তরাধিকারী এবং তিনি পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজ্য সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখেন।

একটি পাণ্ডুলিপির চিত্রাঙ্কিত পৃষ্ঠা, যেখানে রাজা অ্যাথেলস্ট্যানকে একটি বইয়ের সামনে নতজানু অবস্থায় দেখা যাচ্ছে এবং তার সামনে দাঁড়ানো এক যাজক তাকে আশীর্বাদ করছেন

অ্যাথেলস্ট্যান কীভাবে ইংল্যান্ড গড়ে তুলেছিলেন?

৯২৪ খ্রিস্টাব্দে বাবা এডওয়ার্ডের মৃত্যুর পর অ্যাথেলস্ট্যান সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, শুরুতে তার সৎভাই এলফওয়ার্ড ওয়েসেক্সের রাজা হয়েছিলেন, আর অ্যাথেলস্ট্যান মার্সিয়ার রাজা হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।

উডম্যান বলেন, “যাই হয়ে থাকুক, এলফওয়ার্ড অজানা পরিস্থিতিতে এক মাসের মধ্যেই মারা যান এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাথেলস্ট্যান স্বাভাবিকভাবেই অ্যাংলো-স্যাক্সন রাজ্যের একক শাসক হয়ে ওঠেন।”

তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ৯২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অভিষিক্ত হন।

এর পরের বছর, ৯২৬ সালে, তিনি তার বোনের বিয়ে দেন তার রাজ্যের উত্তরে অবস্থিত নর্থামব্রিয়ার ভাইকিং রাজার সঙ্গে।

এক বছর পর সেই ভাইকিং রাজা মারা যান এবং অ্যাথেলস্ট্যান নর্থামব্রিয়া দখল করেন।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যযুগীয় ইতিহাসের অধ্যাপক ক্লেয়ার ডাউনহ্যাম বলেন, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র ছিল বলে মনে করা সহজ, কিন্তু আমরা আসলে সে বিষয়ে কিছুই জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “ইংল্যান্ড রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”

ওয়েসেক্স, মার্সিয়া এবং নর্থামব্রিয়ার পৃথক রাজ্যগুলোকে একত্রিত করে অ্যাথেলস্ট্যান সমগ্র ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা হন।

ফুট বলেন, “তিনি জানতেন তিনি কী করছেন। তিনি জানতেন যে তিনি এক নতুন ধরনের রাজ্য গড়ে তুলছেন এবং ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে এমন এক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করছেন, যা রোমান যুগের পর আর দেখা যায়নি।”

এ ঐক্য তার নতুন প্রতিষ্ঠিত রাজ্যকে রক্ষার জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

উডম্যান বলেন, “তিনি বুঝতেন ভাইকিং আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষকে একত্রিত করার গুরুত্ব। তবে এতে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপাদানও ছিল। এটি ছিল তার কর্তৃত্ব বিস্তারের একটি পথ।”

তার জীবনের শেষ পর্যন্ত নবগঠিত ইংল্যান্ড রাজ্য টিকে ছিল। ৯৩৭ সালের ব্রুনানবুর্হ যুদ্ধে এ রাজ্য আরও শক্তিশালী হয়।

সেখানে তিনি ভাইকিং, স্কট এবং স্ট্র্যাথক্লাইডের ওয়েলশদের একটি জোটকে পরাজিত করেন, যারা ইংল্যান্ডের ওপর তার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছিল।

যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট স্থান জানা যায়নি, তবে তা সম্ভবত ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ছিল।

তার সময়ের ইংল্যান্ড কেমন ছিল?

অসংখ্য যুদ্ধ ও বিজয়ের মধ্যেও অ্যাথেলস্ট্যান তার নতুন রাজ্যে এক বিশ্বজনীন চরিত্র নিয়ে আসেন।

আজ বিশেষ করে উগ্র ডানপন্থীদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে প্রাচীন ইংল্যান্ডকে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সাংস্কৃতিকভাবে এক রকম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

বাস্তবে নবপ্রতিষ্ঠিত ইংল্যান্ড ছিল বহির্মুখী একটি সমাজ।

উডম্যান বলেন, “‘অ্যাংলো-স্যাক্সন’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছে। এতটাই যে আমাদের ক্ষেত্রের অনেক গবেষক এখন আর এ শব্দটি ব্যবহার করেন না। এর বদলে তারা ‘প্রারম্ভিক মধ্যযুগ’ শব্দটি ব্যবহার করেন, কারণ ‘অ্যাংলো-স্যাক্সন’ শব্দটি এখন উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যখন উগ্র ডানপন্থীরা এ শব্দটি ব্যবহার করে, তারা একে একমাত্রিকভাবে দেখে, যেন দশম শতকের ইংল্যান্ডে একটি নির্দিষ্ট পটভূমির একক জনগোষ্ঠী ছিল।”

বাস্তবে এটি সেই সময়ের অত্যন্ত ভুল চিত্র।

উডম্যান বলেন, “দশম শতকের শুরুটা ছিল সত্যিই অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এক সময়। আমি সব সময় অ্যাথেলস্ট্যানের রাজকীয় সমাবেশগুলোর কথা ভাবি। সেখানে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন রাজ্য, সমগ্র ব্রিটেন এবং ইউরোপ থেকে মানুষ উপস্থিত থাকত”।

“তারা নানা ভাষায় কথা বলত – প্রাচীন ওয়েলশ, প্রাচীন নর্স, পুরোনো ইংরেজি এবং লাতিন। আমার মনে হয় ‘অ্যাংলো-স্যাক্সন’ শব্দটি প্রায়ই দশম শতক সম্পর্কে যথাযথ চিন্তা ও বাস্তব বিবরণ ছাড়াই ব্যবহার করা হয়।”

চতুর্দশ শতকের শেষভাগ বা পঞ্চদশ শতকের শুরুর দিকে নির্মিত এক সমাধিসৌধের ওপর অ্যাথেলস্ট্যানের খোদাই করা প্রতিকৃতির ক্লোজ-আপ

ডাউনহ্যাম সম্মতি জানিয়ে বলেন, “আজ আমরা যাকে ইংল্যান্ড বলি, সেখানে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ছিল অনেক। ৫০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হওয়া কোনো একক ইংরেজ ঐক্য বলে কিছু ছিল না।”

অ্যাথেলস্ট্যান ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার পূর্বসূরিরা করেননি, এবং একটি সুসংগঠিত পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি গড়ে তোলেন।

উডম্যান বলেন, “তার সমসাময়িক ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ ছিল। তিনি তার কয়েকজন সৎবোনের বিয়ে তৎকালীন ইউরোপের শাসক পরিবারগুলোর সঙ্গে দেন এবং ইউরোপীয় পণ্ডিতদের ইংল্যান্ডে আসতে উৎসাহিত করেন।”

তার মৃত্যুর পর কী ঘটেছিল?

তার নেতৃত্ব সত্ত্বেও, ৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যুর পর তিনি যে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা টেকেনি এবং দ্রুত ভেঙে পড়ে।

এরপর নর্থামব্রিয়া আবারও পৃথক রাজ্য হিসেবে গড়ে ওঠে।

উডম্যান বলেন, “আমার মনে হয় এটি দেখায় যে তিনি যা নির্মাণ করেছিলেন তা কতটা ভঙ্গুর ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেখায় যে তার অর্জন কতটা যুগের চেয়ে অগ্রসর ছিল এবং কতখানি এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল।”

তিনি আরও বলেন, “এটি সত্যিই দেখায় তিনি রাজা হিসেবে কী ধরনের পথ অনুসরণ করছিলেন।”

তবে অ্যাথেলস্ট্যান যে বৃহত্তর রাজ্যের ধারণা তৈরি করেছিলেন, তা টিকে ছিল।

সারা ফুট বলেন, “৯৫৪ সাল থেকে আমরা আবার একটি ঐক্যবদ্ধ রাজ্য দেখতে পাই, যা এরপর আর কখনো স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়নি।”

কেন অ্যাথেলস্ট্যান বিস্মৃত হয়ে গেলেন?

সারা ফুট বলেন, “সমগ্র ইংল্যান্ডের প্রথম রাজা হিসেবে সমষ্টিগত স্মৃতিতে তার অবস্থান অনেক উঁচুতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আলফ্রেডের আড়ালে চলে গেছেন।”

আলফ্রেডের জীবন সম্পর্কে প্রচুর তথ্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তার জীবদ্দশায় ওয়েলশ সন্ন্যাসী অ্যাসারের লেখা একটি জীবনী।

এসব উৎস আলফ্রেডের এমন একটি জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে “যার ভিত্তিতে একজন বাস্তব ব্যক্তিকে নিয়ে কথা বলা যায়।”

অ্যাথেলস্ট্যানের প্রথম একাডেমিক জীবনী রচয়িতা সারা ফুট যোগ করেন, “অ্যাথেলস্ট্যানের ক্ষেত্রে তা সম্ভব ছিল না।”

উডম্যান বলেন, “এটি এমন একটি কারণ, যার জন্য অ্যাথেলস্ট্যান আজও এতটা অপরিচিত। তার দাদার মতো তার জীবনকাহিনি লিপিবদ্ধ করার জন্য সমসাময়িক কোনো জীবনীকার ছিল না।”

কেন ছিল না, তা স্পষ্ট নয়।

ডাউনহ্যাম বলেন, “সম্ভবত তিনি কিছুটা তার দাদার খ্যাতির ওপর নির্ভর করেছিলেন।”

আবার এমনও হতে পারে যে এমন কোনো রচনা ছিল, কিন্তু তা আজ পর্যন্ত টিকে থাকেনি।

তিনি বলেন, “অনেক লেখা হারিয়ে গেছে, অগণিত বই আগুন, বন্যা বা ইচ্ছাকৃত ধ্বংসের কারণে নষ্ট হয়েছে। ফলে একসময় কী কী ছিল তা জানা কঠিন।”

ফুট বলেন, “তার মৃত্যুর পর দশম শতকেই তার একটি জীবনী লেখা হয়েছিল, কারণ পরবর্তী একটি লেখায় তার উল্লেখ আছে। কিন্তু মূল লেখাটি টিকে নেই।”

ডাউনহ্যাম বলেন, “তার শাসনামল থেকে আমাদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে, যেমন সনদ, আদেশ এবং চুক্তি।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এটি অনেকাংশেই সম্ভব হয়েছে কারণ অ্যাথেলস্ট্যানের সময়ে শাসনব্যবস্থা অনেক বেশি সংগঠিত ও কার্যকর হয়ে উঠেছিল।

তবে তিনি যোগ করেন, “কিন্তু এগুলো একজন ব্যক্তির জীবনীভিত্তিক আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক বর্ণনার মতো আকর্ষণ সৃষ্টি করে না।”

একটি পাথরের চারপাশে গোল করে গাছপালা লাগালো। আকাশ থেকে তোলা ছবি

ইমন্ট ব্রিজের কাছে অবস্থিত প্রাচীন মেবার্গ হেঞ্জ, যেখানে অ্যাথেলস্ট্যান ইংরেজদের প্রথম রাজা হিসেবে তার নতুন মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন

যদিও তার জীবদ্দশায় তার কোনো জীবনী রচিত হয়নি, বর্তমানের ইতিহাসবিদরা তার জীবন ও উত্তরাধিকার পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।

অ্যাথেলস্ট্যান শুধু সামরিক শক্তিই ছিলেন না। ভূখণ্ড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কঠোর ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। একই সঙ্গে তিনি নিজের চেহারা ও উপস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিতেন।

সারা ফুট বলেন, “অ্যাথেলস্ট্যান ছিলেন এমন একজন রাজা, যিনি নিজের জনসম্মুখের ভাবমূর্তি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। নিজেকে কেমন দেখাচ্ছে এবং মানুষ তাকে নিয়ে কী ভাবছে, তা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

উডম্যান বলেন, “অনেক দিক থেকেই অ্যাথেলস্ট্যান তার সময়ের চেয়ে অগ্রসর এক শাসক ছিলেন। তার বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল ছিল, তিনি প্রশাসনের কেন্দ্রীয় তদারকির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং রাজকীয় ক্ষমতার একটি ধারণা গড়ে তুলতে শুরু করেন।”

ফুট বলেন, অ্যাথেলস্ট্যানের আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতীকের প্রতি ঝোঁকের কিছু দিক এখনও টিকে আছে।

রাজা তৃতীয় চার্লসের অভিষেক অনুষ্ঠানের বহু প্রার্থনা ও আচার পালন করা হয়েছে, যার মধ্যে অভিষেকের তেল প্রয়োগ এবং মুকুট পরানোর অনুষ্ঠানও রয়েছে, সেসবই ১১০০ বছর আগে অ্যাথেলস্ট্যানের সময়ে পালন করা হতো।

তিনি বলেন, “এ ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে অসাধারণ ধারাবাহিকতা রয়েছে।”

সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিত্রটি হলো একজন ইংরেজ রাজার প্রথম পাণ্ডুলিপিভিত্তিক প্রতিকৃতি, যেখানে অ্যাথেলস্ট্যানকে মাথায় মুকুট, হাতে বই নিয়ে সেন্ট কাথবার্টের সামনে নতজানু অবস্থায় দেখা যায়।

উডম্যান বলেন, “এটি ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিত্র।”