Source : BBC NEWS

বাংলাদেশে কোরবানিতে বেশিরভাগ সময়ই গরু কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে

ঈদ-উল-আযহ া ব া কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব । প্রতিবছর কোরবানির ঈদ ে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্ট ি অর্জনের লক্ষ্য ে পশ ু কোরবান ি কর ে থাকেন মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা।

প্রতিবছর ঈদুল আযহার দিন থেক ে পরবর্ত ী তিনদিন পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ই জিলহজ পর্যন্ত বিভিন্ন পশ ু কোরবান ি দিয় ে থাকেন মুসলমানরা।

সম্পদশাল ী ব্যক্তিদের কার ো কার ো একাধিক পশ ু কোরবান ি দিতেও দেখ া যায় । আবার মধ্যবিত্ত অনেক ে ভাগ ে উট, গর ু ব া মহিষের মতে া পশ ু কোরবান ি দিয় ে থাকেন।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদুল আযহায় পশ ু কোরবান ি সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর ওয়াজিব । কিন্ত ু অনেকেই জানেন না, ঠিক কত টাক া হল ে একজন মুসলমানের ওপর কোরবান ি ওয়াজিব হবে।

অর্থাৎ, যার কাছ ে কোরবানির দিনগুলোত ে তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর নির্দিষ্ট পরিমাণ ব া নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাক ে তাহল ে তাক ে কোরবান ি দিত ে হবে।

ঢাক া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বিবিস ি বাংলাক ে বলেন,” যে সম্পদ থাকল ে যাকাত ওয়াজিব হয়, সেই ধরনের সম্পদ যদ ি তার থাক ে তাহল ে ত ো তার কোরবান ি ওয়াজিব হব ে”।

অনেকের মাঝ ে প্রশ্ন আছে, যদ ি কারও কোরবান ি করার সামর্থ্য ন া থাক ে অথব া তিন ি ঋণগ্রস্ত থাকেন তার ক্ষেত্র ে কোরবান ি দেওয়ার বিধান কী?

ইসলাম ি গবেষকর া বলছেন, কেউ যদ ি ঋণের বোঝায ় জর্জরিত থাকেন, সেক্ষেত্র ে ঋণ কর ে কোরবান ি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছ ে ইসলামে।

বাংলাদেশে কোরবানির সময় ছাগলেরও চাহিদা থাকে অনেক

Sazzad Hossain/SOPA Images/LightRocket via Getty Images

কোরবান ি ওয়াজিব যাদের জন্য

ইসলাম ি শরিয়ত অনুযায় ী কোরবান ি একট ি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও আত্নিক ইবাদত । আরব ি বর্ষপঞ্জ ি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্ত ী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানর া কোরবান ি দিয় ে থাকেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকর া বলছেন, যাদের ওপর কোরবান ি দেওয় া ওয়াজিব তার া যদ ি ইচ্ছাকৃতভাব ে কোরবান ি ন া দেন তাহল ে গোনাহের ভাগীদার হত ে হবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন,” যে ব্যক্তির নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছ ে তাক ে অবশ্যই কোরবান ি দিত ে হবে । আর যদ ি ন া দেন তাহল ে তিন ি ওয়াজিব ভাঙল”।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ কোন ব্যক্তির কাছ ে সাড় ে সাত ভর ি পরিমাণ স্বর্ণ অথব া সাড় ে ৫২ ভর ি পরিমাণ রুপ া ব া এর সমমূল্যের নগদ টাক া অথব া সম্পদ থাকল ে তার জন্য কোরবান ি দেওয় া ওয়াজিব।

হাদিসের বর্ণন া অনুযায়ী, যেই ব্যক্তির সামর্থ্য রয়েছ ে কিন্ত ু স ে যদ ি পশ ু কোরবান ি ন া কর ে তাক ে ঈদগাহের কাছ ে ন া যেত ে বল া হয়েছে।

অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন, যাদের ওপর কোরবান ি ওয়াজিব তাদের অবশ্যই কুরবান ি দিত ে হবে । যাদের ওপর কোরবান ি ওয়াজিব, তার া যদ ি ত া পালন ন া করেন, তব ে তার া ওয়াজিব তরক করার গোনাহর ভাগীদার হবেন।

অন্যদিকে, ইসলামের বিধান অনুযায় ী যাদের সেই পরিমাণ সম্পদ ব া সম্পত্ত ি নেই তাদের জন্য পশ ু কোরবান ি বাধ্যতামূলক নয়।

ঢাকায় প্রতি বছর কোরবানির আগে জমে ওঠে পশুর হাট

ছবির উৎস, Getty Images

ঋণ কর ে ব া ঋণগ্রস্তের জন্য ক ী নিয়ম?

বাংলাদেশ ে প্রত ি বছর কোরবানিত ে ৯০ লাখ থেক ে এক কোট ি গর ু কোরবান ি হয় ে থাকে । যার মধ্য ে বেশিরভাগই গর ু এব ং ছাগল কোরবান ি দিয় ে থাকেন মুসলমানরা।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যার নেসাব ব া সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাক ে তার জন্য কোরবান ি দিত ে হবে।

তব ে বাংলাদেশ ে অনেক সময় দেখ া যায় আর্থিকভাব ে সামর্থ্য ন া থাকার পরও অনেকেই ঋণ কর ে কোরবান ি দিত ে চান।

ইসলামের গবেষকর া বলছেন, য ে ব্যক্তির উপর কোরবান ি ওয়াজিব, তিনিও যদ ি ঋণের টাক া দিয় ে কোরবান ি করেন, তাহল ে তার কোরবান ি আদায ় হয় ে যাবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বিবিস ি বাংলাক ে বলেন,” ঋণগ্রস্ত হল ে কোরবান ি দিব ে ন া বলেও এক ধরনের কথ া প্রচলিত আছে । কিন্ত ু এখান ে বিষয়ট ি হল ো জীবনযাত্র া যেখান ে একেবারেই চল ে না, কষ্ট হয় থাক া ও খাওয়ার জন্য অর্থ নেই এরকম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির কোরবানির দরকার নাই । তাদের জন্য কোরবান ি ওয়াজিব ন া”।

এর ব্যাখ্যায় তিন ি বলছিলেন, কোরবান ি ওয়াজিব হওয়ার শর্ত পূরণ হওয়ার পর, যদ ি কোন ো ব্যক্ত ি তার হাত ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ ন া থাকার কারণ ে ঋণ কর ে কোরবান ি করেন, তব ে তার এই ইবাদতট ি সহিহ হব ে এব ং ওয়াজিব আদায ় হব ে” ।

” তব ে এই ঋণের বোঝ া পরিশোধ করার সামর্থ্য তার থাকত ে হবে, যাত ে কর ে পরবর্তীত ে ত া তার জন্য বোঝ া ন া হয় ে দাঁড়ায ়”, বলছিলেন মি. রশীদ ।

য ে কারণ ে ঋণের টাক া পরিশোধের সামর্থ্য ব া উৎস ন া থাকল ে ঋণ কর ে কোরবান ি ন া দেওয়ার বিষয়টিত ে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

বিভিন্ন সময় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায় ী ব া মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন ে ব্যাংক থেক ে ঋণ নিয় ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্র ে কোরবানির বিধান ক ি সেট ি নিয়েও প্রশ্ন থাক ে অনেকের।

এক্ষেত্র ে অধ্যাপক রশীদ বলছিলেন”, মন ে করেন আমার জম ি আছে । কিন্ত ু একট া কাজের জন্য ঋণ করলাম কিন্ত ু তার অপজিট ে আমার সম্পদ আছে, তার ক্ষেত্র ে কোরবান ি দেওয় া ওয়াজিব । একইভাব ে হজের ক্ষেত্র ে স ে যদ ি ঋণগ্রস্ত হন তার জন্য হজ ওয়াজিব” ।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তির ঋণের অর্থ পরিশোধের সক্ষমত া থাকল ে তিন ি যদ ি ব্যাংকের কাছ ে ঋণগ্রস্ত থাকেন তাহল ে তার জন্য কোরবান ি দেওয় া ইসলামের বিধান অনুযায় ী বাধ্যতামূলক।

ইসলাম ি গবেষকদের মতে, শরিয়ত অনুযায় ী সুদভিত্তিক যেকোন ো লেনদেন সম্পূর্ণরূপ ে নিষিদ্ধ, আর কোরবান ি একট ি বিশুদ্ধ ইবাদত, য া সুদের মত ো অপবিত্র অর্থ দ্বার া সম্পন্ন কর া যায ় না।

বাংলাদেশের পশুর হাটে উটের বেচাকেনাও দেখা যায়

ছবির উৎস, Getty Images

কোরবানির ক্ষেত্র ে য ে নিয়ম জান া জরুরি

বাংলাদেশ ে প্রতিবছর ঈদুল আযহায় য ে পরিমাণ গবাদিপশ ু কোরবান ি ব া জবাই কর া হয় তার মধ্য ে বেশিরভাগই গর ু ও ছাগল কোরবান ি হয় ে থাকে।

এর বাইরেও বর্তমান ে বাংলাদেশ ে মহিষ, ভেড়া, দুম্ব া উটও কোরবান ি হয় ে থাকে । এক্ষেত্র ে মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকের পক্ষেই এক া একট ি গর ু কোরবান ি দেওয় া সম্ভব হয় না । সেক্ষেত্র ে ভাগ ে কোরবান ি দিয় ে থাকেন।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, গরু, মহিষ ও উট ে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হত ে পারেন । তব ে ছাগল, ভেড় া ব া দুম্বায় একাধিক শরিক হওয় া জায়েজ নয়, এট ি একজনের নামেই হত ে হবে।

ইসলাম ি গবেষকর া বলছেন, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায় ী গর ু ও মহিষের ক্ষেত্র ে অন্তত দুই বছর, উটের ক্ষেত্র ে পাঁচ বছর এব ং ছাগল, ভেড় া ও দুম্বার ক্ষেত্র ে অন্তত এক বছর পূর্ণ হত ে হবে । তব ে ভেড় া ব া দুম্ব া যদ ি ছয় মাসের হয় কিন্ত ু দেখত ে এক বছরের মত ো বড় লাগে, তব ে ত া দিয় ে কোরবান ি জায়েজ।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলছিলেন”, আমাদের দেশ ে অনেক সময় কোরবান ি লোক দেখান ো বিষয় হয় । নিয়ম অনুযায় ী একজনের জন্য একট া বকর ি ব া ছাগল যথেষ্ট । একট া গরুর সাত ভাগের এক ভাগ যথেষ্ট । কিন্ত ু দেখ া যায় কেউ কেউ ২০ট া গরুও কোরবান ি দিচ্ছ ে” ।

” যদ ি কেউ গরীব লোকক ে দেওয়ার জন্য অনেক প্রয়োজনের অতিরিক্ত পশ ু কোরবান ি দিয় ে সেট ি স্বাভাবিক । কিন্ত ু সেট ি যেন লোক দেখানে া ন া হয়”, যোগ করেন তিনি।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবান ি ব্যক্তিভিত্তিক ইবাদত । পরিবারের একাধিক সদস্য ( যেমন বাবা, মা, ছেলে ) যদ ি প্রত্যেক ে পৃথকভাব ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তব ে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাব ে কোরবান ি ওয়াজিব হবে।

অনেক ে আবার প্রশ্ন কর ে থাকেন কোরবানির জন্য সমপরিমাণ টাক া ক ী দান কর া যাব ে ক ী -না।

এর জবাব ে ইসলাম ি গবেষক ও লেখকর া বলছেন, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হল ো আল্লাহর নাম ে পশ ু রক্ত প্রবাহিত করা । পশুর বদল ে টাক া দান করল ে ওয়াজিব কোরবান ি আদায় হব ে না । তব ে নফল হিসেব ে দান কর া যেত ে পারে।