Home RSS bangla কঙ্গনা রানাউত কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় বাবা-মাকে দায়ী করা কখনোই সমর্থন করেননি

কঙ্গনা রানাউত কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় বাবা-মাকে দায়ী করা কখনোই সমর্থন করেননি

3
0

কঙ্গনা রানাউত সম্প্রতি পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় মন্তব্য করেছেন। তিনি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, ‘আজকালকার দিনে পরিবারের দিকে তাকালে মনে হয়, বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের সবসময় সুশিক্ষা দেন বটেই, কিন্তু তাঁরা অনেক সময় জানতেই পারেন না যে, তাঁদের সন্তানকে কারা প্রভাবিত করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সন্তানেরা যাঁদের সঙ্গে মিশছে তারা, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নাকি সোশ্যাল মিডিয়া তাঁদের বাস্তব জীবনকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে।’ কঙ্গনা বলেন, ‘সন্তানদের সমস্ত কাজের জন্য বাবা-মাকে দোষারোপ করা যায় না কারণ সন্তানরা যে শুধু বাবা-মায়ের সঙ্গে মিশছেন এমনটা তো নয়! তাঁরা আরও অন্য অনেকের সঙ্গে মেশেন, বাবা-মায়ের বাইরে তাঁদের পৃথিবীটা অনেক বড়।’ তিনি শেষ করেন, ‘মানুষ নিজের এমনই একটা ইমেজ তৈরি করে, যেটা সে সবাইকে দেখাতে চায়। কিন্তু একজন সন্তানের কোনো কাজের জন্য, তার বাবা-মাকে দায়ী করা একেবারেই উচিত নয়।’

কঙ্গনার এই মন্তব্য সিয়া গোয়াল ও চেতন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেতন আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সিয়া ও চেতন সম্ভবত কেতনকে লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে খাদের মধ্যে ফেলে দেন, যার ফলে তাঁর মৃত্যু ঘটে। চেতন দাবি করেছেন যে, তিনি সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সিয়া মনে করতেন তাঁর প্রভাবশালী পরিবার কেতনের সঙ্গে বিয়ে ভাঙতে দেবে না। তাই কেতনকে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র উপায় ছিল বলে চেতন দাবি করেছেন।

কঙ্গনার মন্তব্যে বাবা-মায়ের ভূমিকা ও সন্তানদের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। তিনি মনে করেন, বাবা-মায়েরা সন্তানদের সুশিক্ষা দেন, কিন্তু তাঁরা সবসময় জানেন না যে, সন্তানদের জীবনকে কারা প্রভাবিত করছে। সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব, সোশ্যাল মিডিয়া, বা অন্যান্য বাহ্যিক প্রভাবও তাঁদের আচরণ ও সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, সন্তানের কোনো ভুলের জন্য শুধুমাত্র বাবা-মাকে দায়ী করা উচিত নয়।

এই ঘটনায় কঙ্গনার মন্তব্য সমাজে বাবা-মায়ের ভূমিকা ও সন্তানের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে বাবা-মায়ের দায়িত্ব অপরিসীম, তবে তাঁদের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিত্বের বিকাশেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সন্তানের জীবন ও সিদ্ধান্তে বাহ্যিক প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনা করে, বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন।