Home LATEST NEWS BANGLA নরওয়ের কাছে হারের পর ব্রাজিল ক্যারিয়ার ‘শেষ’, বললেন নেইমার

নরওয়ের কাছে হারের পর ব্রাজিল ক্যারিয়ার ‘শেষ’, বললেন নেইমার

4
0

Source : BBC NEWS

নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হারের পর আবেগাপ্লুত নেইমার

ছবির উৎস, Getty Images

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে দলের হারের পর আবেগাপ্লুত নেইমার বলেছেন, ব্রাজিলের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ‘শেষ’।

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার সময় ৬৭তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা, তবে সেলেসাওদের বিদায় ঠেকাতে পারেননি তিনি।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন নেইমার। তবে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সম্ভাব্য শেষ ম্যাচে এটি কেবল সান্ত্বনাসূচক গোল হিসেবেই থাকলো।

দল বাদ পড়ার পর টিভি গ্লোবোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি, আমি চেষ্টা করেছি। এখন সব শেষ। আমি এখানেই শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।”

২০১০ সালের অগাস্টে এই একই স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। সেই প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে গোলও করেছিলেন তিনি।

পরবর্তীতে তিনি ৮০ গোল নিয়ে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এছাড়া দেশের হয়ে ১৩০টি ম্যাচ খেলে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার তালিকায় কাফুর (১৪২ ম্যাচ) ঠিক পেছনেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের দলে ডাক পাওয়ার আগে, ইনজুরির সাথে লড়াইয়ের কারণে ২০২৩ সাল থেকে ব্রাজিলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ গ্রুপ ম্যাচে (৩-০ গোলের জয়) বদলি হিসেবে শেষদিকে মাঠে নেমেছিলেন তিনি এবং এবারের গ্রীষ্মের টুর্নামেন্টে তার একমাত্র অন্য ম্যাচটি ছিল নরওয়ের বিপক্ষে।

তিনি তার চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছিলেন – এর আগে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ সালের টুর্নামেন্টেও ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন তিনি।

আর্লিং হালান্ডের উদযাপন

ছবির উৎস, Getty Images

হালান্ডের নরওয়ে যেভাবে বিদায় করলো ব্রাজিলকে

রবিবার (৫ জুলাই) দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে চমকে দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নরওয়ে।

প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিসের কারণে আক্ষেপ করতে হয়েছে ব্রাজিলকে। ততক্ষণ পর্যন্ত কিছুটা নিষ্প্রভ থাকা হালান্ড, ৭৯তম মিনিটে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে আন্দ্রেয়াস শেলডারুপের ক্রসে পা ছুঁইয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন।

বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি দৃষ্টিনন্দন নিচু শটে ৯০তম মিনিটে নরওয়ের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।

লিও অস্টিগার্ড ক্যাসেমিরোকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছেন, রেফারি ইসমাইল এলফাথের এমন সিদ্ধান্তের পর স্টপেজ টাইমে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার।

কিন্তু গোলটি ছিল শুধুই সান্ত্বনাসূচক। এর কিছুক্ষণ পরই রেফারি ম্যাচের সমাপ্তি ঘোষণা করেন, এবং ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালের আগেই বিদায় নেয় ব্রাজিল।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই প্রাণবন্ত ম্যাচের মাত্র চার মিনিটের মাথায় নরওয়ের মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ বল জালে জড়ালেও, আলেকজান্ডার সরলথ অফসাইড হওয়ায় তাদের সেই উল্লাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শুরুর সেই ধাক্কা সামলে ওঠার পর, পেনাল্টি বক্সের ভেতর ক্রিস্টোফার আয়ের স্লাইডিং ট্যাকল করে ম্যাথিউস কুনিয়াকে ফেলে দিলে প্রথম গোল করার সুযোগ পায় ব্রাজিল।

তবে ১৫তম মিনিটে নিউক্যাসলের হয়ে খেলা ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টিটি ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ড, যিনি এই জয়ে হালান্ডের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি গোলও প্রতিহত করেন এই ৩৫ বছর বয়সী গোলরক্ষক।

খেলার ৫৮তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এন্ড্রিক এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি থ্রু পাস পেয়ে বলে প্রথম স্পর্শেই তিনি গোল করতে পারতেন। তবে নিলান্ডের সাথে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতেও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন এই ১৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।

কার্লো আনচেলত্তি এর দশ মিনিট পর নেইমারকে মাঠে নামান, কিন্তু ম্যাচের শেষ চতুর্থাংশে সেরা সুযোগগুলো তৈরি করে নরওয়ে। বেনফিকার এই উইঙ্গারের ক্রসে হালান্ডের হেড করে গোল দেওয়ার আগে, শেলডারুপের একটি শট ঠেকিয়ে দেন অ্যালিসন।

৮৬তম মিনিটে নিলান্ডকে আবারও পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়, যখন গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে আসা আপাতদৃষ্টিতে একটি নিরীহ শট তিনি পোস্টে প্রতিহত করেন। এর কিছুক্ষণ পরই হালান্ড ম্যাচে তার দ্বিতীয় গোলটি করেন, যার ফলে তার গোল সংখ্যা সাতে পৌঁছায় এবং গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সাথে একই সারিতে জায়গা করে নেন তিনি।