Source : BBC NEWS

শহরের আকাশে রঙিন সূর্যাস্ত

ছবির উৎস, Getty Images

ঢাকার ইস্কাটনের বাসিন্দ া ও একজন বেসরকার ি চাকরিজীব ী ইয়াসমিন ইসলাম মাসের খরচের হিসাব মিলাত ে গিয় ে দেখেন, নিত্যপণ্য থেক ে শুর ু কর ে প্রায় সবকিছুর দামই এখন বাড়তি । এর মাঝ ে নতুন কর ে বিদ্যুতের দাম বাড়ার খবর তাক ে আরও উদ্বিগ্ন কর ে তুলেছে।

” এমনিতেই মাস শেষ ে নান া ধরনের বিল দিত ে শেষ আমরা । এখন যদ ি আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ে, তাহল ে এই হিসাবের টাকায় সংসার চালান ো আরও কঠিন হব ে”, বলছিলেন তিনি।

শুধ ু মিজ ইসলাম নন, বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির খবর ে অনেক পরিবারই চিন্তিত।

যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালান ি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্র ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধ ি প্রসঙ্গ ে বিবিস ি বাংলাক ে জানিয়েছেন, যদ ি শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ান ো হয়-ও, তাহল ে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষ া দেওয়ার বিষয় ে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিবে।

একই সঙ্গ ে সরকার আবারও সন্ধ্য া ৭টার মধ্য ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ কর ে দেওয়ার মত ো বিদ্যুৎ সাশ্রয় ী পদক্ষেপ ফিরিয় ে এনেছে।

অর্থাৎ, সরকার একদিক ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ব্যবস্থ া ফিরিয় ে আনছে, অন্যদিক ে প্রস্তুত ি নিচ্ছ ে দাম বাড়ানোর । এর পেছন ে কারণ কী? এই দাম বাড়ানোর প্রভাবই ব া ক ী হবে?

বাংলাদেশের একটি নদী তীরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ার।

ছবির উৎস, Getty Images

সাতটার মধ্য ে দোকান বন্ধের আদেশ কেন?

সন্ধ্য া ৭টার মাঝ ে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার পাশাপাশ ি সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতিও ওই একই সময়ের মাঝেই বন্ধ রাখত ে বলেছ ে সরকার । দেশের বিভিন্ন স্থান ে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেল া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই সময়সীম া প্রযোজ্য।

এর আগে, গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ ে ইরান যুদ্ধের কারণ ে বৈশ্বিক জ্বালান ি সংকটের প্রেক্ষাপট ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশন া অনুযায় ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য ে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্য া ৭ট া পর্যন্ত খোল া রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল । সরকার তখন অফিসের সময়ও এক ঘণ্ট া কমিয় ে সকাল নয়ট া থেক ে বিকাল চারট া পর্যন্ত করেছিলো।

সেইসাথে, বিয় ে ব া উৎসব ে কোন ো আলোকসজ্জ া করতেও নিষেধ কর া হয়েছিল ো তখন।

সরকারের পক্ষ থেক ে তখন আরও বল া হয়েছিলো, পরবর্ত ী তিন মাস সরকার ি ব্যয় কমান ো এব ং এ সময় ে কোনো নতুন যানবাহন ( গাড়ি, জলযান, আকাশযান ) ও কম্পিউটার সামগ্র ী কেন া হব ে ন া এব ং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত ে সরকার ি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমান ো হবে।

তব ে মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহ া উপলক্ষ ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থ ে গত ১০ই ম ে থেক ে সাময়িকভাব ে সেই সময়সীম া রাত ১০ট া পর্যন্ত বাড়ান ো হয়েছিল।

কিন্ত ু সোমবার এক নির্দেশনায় বল া হয়, ঈদ উপলক্ষ ে দেওয় া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায ় পহেল া জুন থেক ে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর কর া হয়েছে।

সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের

ছবির উৎস, NurPhoto

বিদ্যুৎ ও জ্বালান ি সংকট নিরসন ে এমন সিদ্ধান্ত য ে বাংলাদেশ ে এই প্রথম নেওয় া হচ্ছে, বিষয়ট ি এমন নয় । এর আগেও একাধিকবার নানামুখ ী সংকট ে এমন পথ ে হাঁটত ে হয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়াম ী লীগের আমলে, ২০২২ সালের জুনেও বিদ্যুৎ ও জ্বালান ি সাশ্রয়ের লক্ষ্য ে রাত আটটার পর থেক ে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশন া দিয়েছিল ো সেই সরকার।

মূলত, গ্রীষ্মকাল ে বাংলাদেশ ে বিদ্যুতের চাহিদ া বাড়ে । বিশেষ করে, সন্ধ্যার পর বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহার একসঙ্গ ে বেড় ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ তৈর ি হয়।

এই চাপ কমাতেই এই ধরনের সাশ্রয় ী ব্যবস্থাগুল ো আবার চাল ু কর া হচ্ছে।

দোকান-পাট আগ ে বন্ধ করার মধ্য দিয় ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর া প্রসঙ্গ ে গত এপ্রিল ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ( বুয়েট ) সাবেক অধ্যাপক, জ্বালান ি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিস ি বাংলাক ে বলেছিলেন,” এত ে কিছ ু জ্বালান ি সাশ্রয় হবে । কারণ আমর া কখন ো কখন ো তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করি, তাই ফার্নেস অয়েল বাঁচবে ।”

অর্থাৎ, বাংলাদেশ ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় মূলত গ্যাস, কয়লা, তেল ( ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ) ইত্যাদ ি দিয়ে । এর মধ্য ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ সবচেয় ে সস্তা । আর তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ সবচেয় ে ব্যয়বহুলগুলোর একটি, কারণ তেল আমদান ি করত ে হয় এব ং দামও বেশি।

তাই, দিনের বেল া ব া সন্ধ্যায় যখন বিদ্যুতের চাহিদ া খুব বেড় ে যায়, তখন শুধ ু গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র দিয় ে চাহিদ া মেটান ো যায় না । অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালাত ে হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

ছবির উৎস, ROSATOM

বাংলাদেশ ে বিদ্যুতের চাহিদ া এব ং ঘাটত ি কত?

বর্তমান ে দেশ ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমত া প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট।

তব ে বাস্তব ে চাহিদ া এর চেয় ে অনেক কম থাকে, বিবিস ি বাংলাক ে বলেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।

তার ভাষায়,” বিদ্যুতের চাহিদ া সাধারণত ১৭ হাজার মেগাওয়াটের আশপাশ ে থাকে । তব ে এট ি আবহাওয়া, মৌসুম এব ং অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর কর ে ওঠানাম া করে ।”

তব ে বর্তমান ে দেশ ে গড় ে ১৫ থেক ে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্য ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কর া হয় উল্লেখ কর ে তিন ি বলেন, আরও বেশ ি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমত া সরকারের রয়েছে।

” আমর া চাইল ে আরও বেশ ি বিদ্যুৎ উৎপাদন করত ে পারি । সেই সক্ষমত া আমাদের আছে । কিন্ত ু আর্থিক কারণ ে সব সক্ষমত া ব্যবহার কর া হচ্ছ ে না । কারণ তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুল ো চালাত ে অনেক বেশ ি খরচ হয় । সেট া আমাদের জন্য বাস্তবসম্মত ন া”, বলেন তিনি।

তিন ি জানান, বিদ্যুতের চাহিদ া পুরোপুর ি মেটাত ে ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক কেন্দ্র বেশ ি চালাত ে হল ে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়বে।

জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের সরকার

ছবির উৎস, Getty Images

সামগ্রিক কারণ ে ঘাটতির পরিমাণও একেক দিন একেক রকম হয় উল্লেখ কর ে তিন ি আরও বলেন, কোন ো কোন ো সময় আবহাওয়াগত কারণে, বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ ব া অন্য কারণ ে বন্ধ থাকলেও সাময়িকভাব ে সরবরাহ ে ঘাটত ি তৈর ি হত ে পারে।

যদিও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব ) -এর জ্বালান ি উপদেষ্ট া এম শামসুল আলম বাংলাদেশ ে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রকৃত চিত্র নিয় ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তার ধারণা, বর্তমান ে দেশ ে তিন হাজার মেগাওয়াটেরও বেশ ি ঘাটত ি থাকত ে পারে । তব ে পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময় ে দৃশ্যমান ঘাটত ি কয়েকশ মেগাওয়াটের মধ্য ে ছিল।

কারণ, গত ২০শ ে ম ে রাত ৯টায় দেশ ে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় । এট ি হল ো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ( পিজিবি ) -এর তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওই সময় ে দেশব্যাপ ী মোট বিদ্যুতের চাহিদ া ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট । তব ে সরবরাহ কর া হয়েছিল ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট, ফল ে ৩৯২ মেগাওয়াট লোডশেডি ং করত ে হয়।

এম শামসুল আলম বলেন, কোন ো একট ি নির্দিষ্ট সময় ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, সেট ি দিয় ে সামগ্রিক চাহিদ া ও সরবরাহ পরিস্থিত ি পুরোপুর ি বোঝ া যায় না।

” একট ি নির্দিষ্ট মুহূর্ত ে ১৭ হাজার ব া ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছ ে বল ে দাব ি কর া হচ্ছে । কিন্ত ু সেট ি দিয় ে প্রকৃত চাহিদ া কত ছিল এব ং কতট া সরবরাহ কর া গেছে, সেই পুর ো চিত্র পাওয় া যায় ন া”, যোগ করেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে

ছবির উৎস, Getty Images

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথ া কেন ভাবছ ে সরকার?

বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আলোচন া এমন এক সময় ে সামন ে এসেছে, যখন এরই মধ্য ে জ্বালান ি তেলের দাম কয়েক দফ া বাড়ান ো হয়েছে।

গত এপ্রিল মাস ে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্য হার ে বাড়ানোর পর জুনের শুরুত ে আবারও পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বৃদ্ধ ি কর া হয়েছে।

তব ে বিদ্যুৎ, জ্বালান ি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্র ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিবিস ি বাংলাক ে বিদ্যুতের দাম বাড়ান ো প্রসঙ্গ ে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ান ো হব ে ক ি না, স ে বিষয় ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বাংলাদেশ এনার্জ ি রেগুলেটর ি কমিশনের ( বিইআরসি )।

তব ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গ ি ব্যাখ্য া কর ে তিন ি বলেন, বর্তমান ে দেশের বিদ্যুতের বড় একট ি অংশ বেসরকার ি খাত থেক ে কিনত ে হয় । কিন্ত ু য ে দাম ে সরকার বিদ্যুৎ কিনছ ে এব ং য ে দাম ে গ্রাহকদের কাছ ে বিক্র ি করছে, তার মধ্য ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

” আমর া য ে রেট ে বিদ্যুৎ কিনছ ি এব ং য ে রেট ে বিক্র ি করছি, এর মধ্য ে বড় একট া গ্যাপ আছে । সেই গ্যাপ পূরণ করত ে সরকারক ে বড় অঙ্কের ভর্তুক ি দিত ে হচ্ছ ে”, বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাত ে ভর্তুকির জন্য বাজেট ে য ে বরাদ্দ রাখ া হয়, প্রকৃত ব্যয় অনেক ক্ষেত্র ে সেই সীমাও ছাড়িয় ে যাচ্ছে।

তব ে সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্র ে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষ া দেওয়ার বিষয় ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছ ে বলেও জানান তিনি।

” বিদ্যুৎ বিভাগ যখন এ বিষয় ে আমাদের সঙ্গ ে আলোচন া করেছে, তখন আমর া একটাই কথ া বলেছি, লাইফলাইন গ্রাহক ব া ক্ষুদ্র গ্রাহকর া যেন ক্ষতিগ্রস্ত ন া হন । আমাদের এ ধরনের গ্রাহক ৬০ শতাংশেরও বেশি । একান্ত সাধারণ মানুষের ওপর যেন বাড়ত ি চাপ ন া পড়ে, সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আমর া আমাদের দিক থেক ে জানিয়েছ ি”, বলেন প্রতিমন্ত্রী।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব ) -এর জ্বালান ি উপদেষ্ট া এম শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের পেছন ে দীর্ঘদিনের নীতিগত ও কাঠামোগত সমস্য া দায়ী।

তিন ি বলেন,” বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধ ি” আইন প্রণয়নের মাধ্যম ে বিদ্যুৎ খাতের অনেক প্রচলিত মানদণ্ড ও জবাবদিহির প্রক্রিয় া স্থগিত কর ে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমত া বাড়ান ো হয়েছিল । কিন্ত ু এর ফল ে এই খাত ে ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাব ে বেড়েছে।

” এই ব্যবস্থায় ব্যয় এতটাই বেড়েছ ে য ে ভর্তুক ি দিয়েও সরকার ত া সামাল দিত ে পারছ ে না । ফল ে সেই ঘাটত ি পূরণের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ান ো হচ্ছ ে”, বলেন তিনি।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জ্বালানি পথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি

ছবির উৎস, News

ক্যাব-এর জ্বালান ি উপদেষ্ট া এম শামসুল আলম আশঙ্ক া করেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানে া হল ে এর প্রভাব কেবল বিদ্যুৎ বিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব ে না।

” বিদ্যুতের দাম বাড়ল ে পণ্য ও সেব া উৎপাদনের খরচও বাড়বে । এর ফল ে বাজার ে প্রায় সব ধরনের পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার ঝুঁক ি তৈর ি হব ে”, বলেন তিনি।

এদিকে, বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশ ি দোকানপাটের সময়সীম া কমিয় ে আনার সিদ্ধান্ত নিয় ে আপত্ত ি রয়েছ ে ব্যবসায়ীদের । তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ে সন্ধ্যার পরই মানুষের কেনাকাটার প্রধান সময় । তাই আগেভাগ ে দোকান বন্ধ করল ে ব্যবস া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপত ি মো. হেলাল উদ্দিন বিবিস ি বাংলাক ে বলেন,” কেউ যদ ি মন ে কর ে বিদেশের মত ো সন্ধ্যায় সব বন্ধ কর ে দিলেই হবে, তাহল ে হব ে না । শীতপ্রধান দেশের সঙ্গ ে আমাদের বাস্তবত া এক নয় । দুবাই ( সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর ), সৌদ ি আরব, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ( থাইল্যান্ডের রাজধানী ) কিংব া চীনের মত ো দেশেও সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হয় না । তার া দেরিত ে খোলে, আবার দেরিতেই বন্ধ কর ে”, বলেন তিনি।

” এপ্রিল ে জ্বালান ি সংকটের সময় আমর া ভেবেছিলাম সহযোগিত া করি । কিন্ত ু এখন যদ ি সেই সংকট না-ই থাকে, তাহল ে দোকানপাট আগেভাগ ে বন্ধ করার প্রয়োজন কেন”? আর, এখন ত ো সন্ধ্য া সাতটার সময়ই আজান হয় । ওই সময় নামাজ পড়বো, নাক ি দোকান বন্ধ করবো?”

মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দোকান মালিক সমিত ি শীঘ্রই সরকারের কাছ ে আবেদন করবে, যাত ে অন্তত রাত ৯ট া পর্যন্ত দোকানপাট খোল া রাখার অনুমত ি দেওয় া হয়।