Home LATEST NEWS BANGLA ভারতে পড়তে ও লিখতে ভুলে যাওয়া মেয়েটির সঙ্গে কী ঘটেছে?

ভারতে পড়তে ও লিখতে ভুলে যাওয়া মেয়েটির সঙ্গে কী ঘটেছে?

3
0

Source : BBC NEWS

১৬ বছর বয়সি রাধিকা

রাধিকা কুমারী তার পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়ালে লেখা সরকারি বার্তাটি পড়ার চেষ্টা করছিল। সেখানে হিন্দিতে যা লেখা আছে, তার বাংলা মানে দাঁড়ায়- ‘অপরিচ্ছন্নতা প্রাণঘাতী, পরিচ্ছন্নতাই সেবা’।

কিন্তু ১৬ বছর বয়সী রাধিকা অতি কষ্টে শুধু প্রথম শব্দটিই পড়তে পারে।

বাকি অংশ পড়ার বদলে সে আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনার দিকে ইশারা করে।

পাঁচ বছর আগে, কোভিড মহামারির সময়ে, শিক্ষার মানের বিচারে পিছিয়ে থাকা এবং ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র রাজ্যগুলোর একটি ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলায় গিয়ে আমাদের রাধিকার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে ডুম্বি নামে একটি ছোট গ্রামে থাকে সে।

পাঁচ বছর পর আবার যখন আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে যাই, তখন সে উপরের শ্রেণিতে উঠে গেছে ঠিকই, কিন্তু পড়াশোনা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

রাধিকার মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কোভিড মহামারির সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর মেয়েদের পড়াশোনায় ঠিক কেমন প্রভাব ফেলে।

স্কুলশিক্ষা নিয়ে ২০২৪ সালে দেশব্যাপী একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, গড়ে শিশুদের শেখার মান উন্নত হয়েছে। তবে সবার ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান সত্যি নয়।

অতিমারীর সময়ে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার প্রভাব শিশুদের ওপর কীভাবে পড়েছিল, তা বোঝার জন্য ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ঘুরে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ। তার মতে, “গড় পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় ধরনের বৈষম্য লুকিয়ে থাকে”।

২০২১ সালে রাধিকা

বর্ণমালা চিনতেও ভুলে গিয়েছিল রাধিকা

২০২১ সালে যখন আমাদের সঙ্গে রাধিকার দেখা হয়েছিল, তখন কোভিড মহামারি ঠেকাতে জারি করা লকডাউনের কারণে তার স্কুলসহ ভারতের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল। রাধিকার স্কুল আবার খুলতে সময় লেগেছিল দুই বছর।

বেসরকারি স্কুল ও শহরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পাঠদান চললেও, প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি স্কুলগুলোয় শিক্ষা কার্যত থমকে গিয়েছিল।

সেই সময় রাধিকার গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না, তার পরিবারের কাছেও কোনো স্মার্টফোন ছিল না।

স্কুলশিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাধিকার পড়া-লেখার দক্ষতা এতটাই কমে গিয়েছিল যে সে হিন্দি বর্ণমালা চিনতেও ভুলে যায়।

দলিত ও আদিবাসী অধ্যুষিত একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা রাধিকার জন্য কোভিডের সময় পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ছিল কেবল শুরু। পরবর্তী বছরগুলোয় একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে তার পক্ষে এগিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

২০২১ সালে স্লেটে লিখছে রাধিকা

অতিমারীর সময়ে পড়াশোনায় শিশুদের ধাক্কা

করোনা অতিমারীর সময়ে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিশুদের পড়াশোনার ওপর কী প্রভাব পড়েছে, তা বোঝার জন্য নানা ধরনের সমীক্ষা চালানো হয়।

ভারতের বৃহত্তম শিক্ষা-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর একটি ‘প্রথম’-এর বার্ষিক শিক্ষা প্রতিবেদন ‘এএসইআর ২০২২’-এ দেখা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের স্কুলেই শিশুদের পড়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে একে “বড় ধাক্কা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পঞ্চম শ্রেণির ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণির মান অনুযায়ী পড়তে পারত। ২০১৮ সালে এই হার বেড়ে হয়েছিল ৫০ দশমিক চার শতাংশ। কিন্তু ২০২২ সালে তা নেমে আসে ৪২ দশমিক আট শতাংশে।

জাতীয় পর্যায়ে সাত শতাংশ পয়েন্টের এই পতনকে অত্যন্ত বড় বলে মনে করা হয়, কারণ এ ধরনের সূচক সাধারণত খুব ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়। প্রতিবেদনের ভাষায়, এই তথ্য মহামারির সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, তারই প্রমাণ বহন করে।

তবু স্কুল খোলার পর রাধিকাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে দেওয়া হয়।

ভারতের শিক্ষার অধিকার আইনের অধীনে, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ কমাতে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে আইনের এই বিধান নিয়ে সমালোচনা ছিল যে, এর ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৪ সালে সেই বিধান বাতিল করা হয়।

কিন্তু ততদিনে রাধিকা নবম শ্রেণিতে পৌঁছে গিয়েছে।

অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ বলেন, রাধিকার মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ঝাড়খণ্ডের স্কুলগুলোতে শিক্ষক সংকটও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, “যেসব শিশু আগে থেকেই এমন সরকারি স্কুলে সীমিত শিক্ষা পাচ্ছিল যেখানে পরিকাঠামো নেই বা শিক্ষক মাত্র একজন, কোভিড লকডাউনের সময়ে স্কুল বন্ধ থাকার ফলে তারা সেই সামান্য সুযোগটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।”

অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ ঝাড়খণ্ড রাজ্যে শিক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে বহুদিন কাজ করছেন

উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঝাড়খণ্ডের

ভারতে সরকারি স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের পরিকাঠামোগত, শিক্ষক ও কর্মী সংকটে ভুগছে। ভারতে শিক্ষার নিম্নমান নিয়ে দেশে ও বিদেশেও সমালোচনাও কম হয়নি। তবে ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ শিক্ষার সূচকে এটি দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর একটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুলশিক্ষা বিষয়ক কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার ইউডাইস প্লাস (UDISE+)–এর তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত আছেন।

সারা দেশে এক-শিক্ষকবিশিষ্ট স্কুলের সংখ্যা কমতে কমতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় এক লাখে নেমে এসেছে। কিন্তু ঝাড়খণ্ডের চিত্রটি উল্টো। এই ধরনের স্কুলের সংখ্যা সেখানে বেড়েছে।

এর আগে ২০২১ সালে যখন আমাদের সঙ্গে রাধিকার দেখা হয়েছিল, তখন সে হিন্দি বর্ণমালার অনেক অক্ষরই ঠিকমতো চিনতে বা লিখতে পারতো না।

পাঁচ বছর পর যখন আমরা তার সঙ্গে দেখা করলাম, সে আমাদের তার দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট দেখায়। তবে এখনো হিন্দি ও ইংরেজি পড়তে, সাধারণ অঙ্ক করতে, এমনকি কোন কোন বিষয় পড়ছে তা মনে রাখতে রাধিকার অসুবিধা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃগেন্দ্র নারায়ণ সিং

প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক

এখন রাধিকা মানিকা ব্লকের ৭৫টি গ্রামের জন্য নির্ধারিত একটিমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। সেখানে দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন মাত্র ২০ জন শিক্ষক, অর্থাৎ প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে দেশের গড় অনুপাত যেখানে প্রতি ২৩ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, সেখানে এই পরিস্থিতি অনেক বেশি প্রতিকূল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃগেন্দ্র নারায়ণ সিংও স্বীকার করেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত বেশি হওয়ায় পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের আলাদা করে নজর দেওয়া শিক্ষকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, “আমরা তাদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। প্রয়োজন হলে যাতে সাহায্য করা যায়, সে জন্য তাদের শ্রেণিকক্ষের সামনের বেঞ্চে বসানো হয়।”

কিন্তু এসব পদক্ষেপও রাধিকার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়নি। আমরা যখন তাকে জিজ্ঞেস করি, সে তার স্কুলে কী পরিবর্তন দেখতে চায়, রাধিকার উত্তর, “আমার আরও শিক্ষক দরকার”।

সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য বলছে, ঝাড়খণ্ডে শিক্ষকের প্রায় এক লাখ পদ খালি রয়েছে।

রাজ্যে ২০১৬ সালের পর দীর্ঘ সময় কোনো নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। পরে ২০২৫ সালে শিক্ষকের ঘাটতি নিয়ে জাঁ দ্রেজ একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। এর পর ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেয়।

ঝাড়খণ্ড সরকার জানিয়েছে, যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে চলমান আইনি জটিলতার কারণেই দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। সরকার “নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী” পদ্ধতিতে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য শিক্ষকের যোগান শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাম দিক থেকে, রাধিকা, রাধিকার প্রতিবেশী ও রাধিকার ভাই বিষ্ণু

টিউশনে পড়ে ভাই বিষ্ণু, স্কুলেই যেতে পারে না রাধিকা

রাধিকার ছোট ভাই বিষ্ণু টিউশনে পড়ে এবং পড়াশোনা ও বোঝার ক্ষমতায় সে রাধিকাসহ পরিবারের অন্য ভাইবোনদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

গ্রামের বেশিরভাগ শিশুর মতোই বিষ্ণু ও তার পাঁচ বোন তাদের পরিবারের প্রথম প্রজন্ম, যারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের মা-বাবা লেখাপড়া জানেন না। ফলে স্কুলের বাইরে পড়াশোনার সহায়তা বলতে টিউশনই ভরসা।

তবে ভারতীয় সমাজের বহু পরিবারের মতো এখানেও সীমিত সম্পদের কারণে ছেলের পেছনেই বেশি খরচ করা হয়। সে কারণেই টিউশনের সুযোগ পেয়েছে শুধু বিষ্ণু।

কোভিড লকডাউনের সময়ও যখন আমাদের সঙ্গে বিষ্ণুর দেখা হয়েছিল, তখন সে নিয়মিত টিউশনে যেত। ফলে স্কুল বন্ধ থাকার নেতিবাচক প্রভাব তার পড়াশোনায় তুলনামূলকভাবে কম দেখা গিয়েছিল।

আসার ২০২২ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লকডাউনের সময় সারা দেশে প্রাইভেট টিউশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর হার ২০১৮ সালের ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৩০ শতাংশে পৌঁছায়। ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলোতে এই হার ছিল আরও বেশি, প্রায় ৪৫ শতাংশ।

প্রধান শিক্ষক মৃগেন্দ্র নারায়ণ সিং তখনও শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সব চেষ্টা সত্ত্বেও আমরা মাত্র ১০ শতাংশ শিশুর কাছে পৌঁছতে পেরেছিলাম। এর ফলে কিছু দুর্বল শিক্ষার্থীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।”

২০২১ সালে রাধিকার ভাই বিষ্ণু

শিক্ষায় রাজ্যভেদে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য ভারতে

করোনার সময়কার কথা মনে করে প্রধান শিক্ষক বলেন, “সরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও মহামারি-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত করা হয়েছিল। আমিও বাইরে থেকে আসা মানুষের তথ্য সংগ্রহের জন্য তিন মাস একটি গাছের নিচে বসে কাজ করেছি।”

আসর ২০২৪ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে শিশুদের শিক্ষার মান আবারও কিছুটা উন্নত হয়েছে। প্রতিবেদনে এর একটি কারণ হিসেবে ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রণীত নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিকে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই নীতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে সর্বজনীন মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা (ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমারেসি বা এফএলএন) অর্জন করা।”

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষার স্তর মূল্যায়ন করে।

সেই সমীক্ষায় রাজ্যভেদে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা যায়। মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রে ঝাড়খণ্ড ছিল তালিকার একেবারে নিচের দিকে, আর উচ্চতর শ্রেণিগুলোর ক্ষেত্রেও রাজ্যটি নিম্নস্তরের গোষ্ঠীর মধ্যেই অবস্থান করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “যেসব রাজ্য প্রাথমিক শ্রেণিগুলোতে ভালো ফল করছে, তারা পরবর্তী বছরগুলোতেও সেই অগ্রগতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে যেসব রাজ্যের শুরুটা দুর্বল, সেখানে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী স্তরগুলোতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়।”

২০২১ সালে কোভিড অতিমারির সময়ে রাধিকার সঙ্গে আমাদের প্রথম দেখা

খরচ বহন করতে রাজি নন রাধিকার মা

এখন রাধিকার সামনে আরও নানা রকম বাধা রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি থেকে হেঁটে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সঙ্গে কোনো সহপাঠী না থাকলে সে একা সেই পথ দিয়ে যেতে চায় না। ফলে সেদিন আর স্কুলেও যাওয়া হয় না।

রাধিকার মা কুন্তী দেবী সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া টেম্পোর ভাড়া দিতে রাজি নন।

তিনি বলেন, “এসব খরচ চালানোর মতো টাকা আমার নেই। রাধিকা যদি সত্যিই স্কুলে যেতে চায়, তাহলে হেঁটেই যেতে পারে।”

এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ঝাড়খণ্ডে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে। রাজ্যটির গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সারা দেশেই ভর্তির ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তবে শুধু শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দিতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয় না।

জাঁ দ্রেজ বলেন, “শেখার ঘাটতির ফল হচ্ছে, এসব শিশু খুব বেশি কিছু শিখতে পারে না এবং বড় হয়ে অন্য রাজ্যে কাজের খোঁজে চলে যায়। তাদের কিছু দক্ষতা থাকে ঠিকই, কিন্তু আধুনিক অর্থনীতির শ্রমবাজারে কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নয়।”

রাধিকাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, সে জীবনে কী হতে চায়, তখন মৃদু হেসে মাথা নিচু করে সে বলে, “আমি চাকরি করতে চাই, টাকা উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই।”

তবে পরক্ষণেই সে স্বীকার করে, সেই লক্ষ্য পূরণ করবে কীভাবে, তা এখনো তার জানা নেই।