Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে তারা পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এই প্রথমবার দেশটি প্রকাশ্যে এ ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতার কথা স্বীকার করেছে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক বলেছেন, কক্ষপথে থাকা এই অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন।
সোমবার এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে মেইঙ্ক বলেন, পরিবর্তিত হুমকির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে তিনি অস্ত্রটির সক্ষমতা বা কখন এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ নেতারা এর আগে বলেছেন, তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তাদের দাবি, ভবিষ্যৎ কোনো সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা ও সেগুলোর কার্যক্রম বিঘ্নিত করার উপায় বের করতে রাশিয়া ও চীনের কর্মসূচি রয়েছে।
ছবির উৎস, Getty Images
চীন মঙ্গলবার প্রতিক্রিয়ায় মহাকাশে “অস্ত্র প্রতিযোগিতা” বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এএফপির জানিয়েছে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানাই।”
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অস্ত্রটি কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেন, “স্পেস কন্ট্রোল বলতে মহাকাশ ক্ষেত্রকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় মিশনগুলোকে বোঝায়। এতে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে বিঘ্নিত করা, দুর্বল করা এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার জন্য গতিশক্তিনির্ভর ও গতিশক্তিবিহীন উভয় ধরনের উপায় ব্যবহার করা হয়।
“যুদ্ধ পরিচালনাকারী কমান্ডগুলোর নির্দেশনায় এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে।”
মহাকাশের সামরিক ব্যবহারের একজন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রকাশ্যে “খুব সামান্য” তথ্য জানা যায়। তিনি বিবিসিকে বলেন, এটি “বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থার যেকোনো একটি” হতে পারে।
রেডিও ফোর–এর টুডে অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর ড. ব্লেডিন বোয়েন বলেন, তিনি “সম্পূর্ণ অনুমান” করছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত “কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বা রেডিও জ্যামিং প্ল্যাটফর্মের” কথা বলছে।
বোয়েন বলেন, এ ধরনের অস্ত্র পৃথিবীতে ইতোমধ্যে রয়েছে এবং তা রেডিও যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
অন্য একটি সম্ভাবনা হতে পারে “কোনো ধরনের গতিশক্তিনির্ভর ধ্বংসকারী অস্ত্র, অর্থাৎ এমন একটি কিছু যা কোনো প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করবে এবং সেটি কোনো উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটিয়ে তা ধ্বংস করবে”।
তবে বোয়েনের মতে, এটির সম্ভাবনা কম, কারণ এ ধরনের সরাসরি ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থা বিপুল পরিমাণ মহাকাশ আবর্জনা তৈরি করতে পারে।
ছবির উৎস, Getty Images
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা এবং প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্র তাদের পরিকল্পিত “গোল্ডেন ডোম” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার লক্ষ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করা।
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভূমিকা শুধু সম্পদ রক্ষায় নয়, আক্রমণাত্মক বাহিনী হিসেবেও তুলে ধরা হয়।
মার্কিন স্পেস ফোর্স ২০১৯ সালে চালু করা হয়। এটি ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রথম নতুন শাখা। এর উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশে মার্কিন সম্পদ, যার মধ্যে যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত উপগ্রহও রয়েছে, সেগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া।
১৯৬৭ সালের একটি চুক্তিতে কক্ষপথে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো প্রধান শক্তিগুলো ওই চুক্তির বাইরে অন্যান্য সক্ষমতা অনুসন্ধান করছে, যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের উপগ্রহকে লক্ষ্যবস্তু করা। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং নেভিগেশনের জন্য এসব উপগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে দুটি রুশ উপগ্রহ অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় উপগ্রহের যোগাযোগে সম্ভবত আড়ি পেতেছিল।
এ ধরনের আড়িপাতার মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই উপগ্রহগুলোর পাঠানো সংবেদনশীল তথ্য পড়তে সক্ষম হয়ে থাকতে পারে, অথবা তাত্ত্বিকভাবে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিতে পারত।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, রাশিয়া এমন একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে, যা তাদের ধারণা অনুযায়ী অন্য উপগ্রহে হামলা চালাতে সক্ষম হতে পারে।
রাশিয়া এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন স্পেস ফোর্স বলছে, চীন “সামরিক আধুনিকীকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে মহাকাশে সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে”, অন্যদিকে রাশিয়া “মহাকাশকে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্র হিসেবে দেখে এবং বিশ্বাস করে যে ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে প্রাধান্য একটি নির্ণায়ক উপাদান হবে”।




