Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
‘জোরপূর্বক শ্রম’ ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির আওতায় দেশটিতে পণ্য রাপ্তানির ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক দিতে হবে বাংলাদেশকে।
কিন্তু মার্কিন উচ্চ আদালত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ দেশটির সংবিধান পরিপন্থি এবং আইনিভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর, ট্যারিফ ইস্যুতে ভিন্ন পথে হাঁটে ট্রাম্প প্রশাসন।
বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম এবং অতিরিক্ত উৎপাদন ইস্যুতে তদন্তের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সেই তদন্তের কারণ দেখিয়ে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ ব্যবহারের অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশে নতুন করে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর।
দেশটির ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানির বিষয়টি মোকাবিলায় আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য।”
“এটি এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করে যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে বাধ্য হন,” বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে একতরফা শুল্ক আরোপের ‘কৌশল’ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদ এবং খাত সংশ্লিষ্টরা।
এর ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্য- বিশেষ করে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বড়ো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও মনে করেন তারা।
বাংলাদেশের পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বা গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণার পরই শুল্ক ইস্যুতে নিজের কৌশলে পরিবর্তন এনেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তাদের মতে, যেকোনো উপায়েই নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
অবশ্য শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে একতরফা বললেও বাংলাদেশে শ্রম অধিকারের বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে সেদিকেও নজর দেওয়ার কথাও বলছেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের নতুন এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ সরকার।
ছবির উৎস, Getty Images
নতুন প্রস্তাবে যা আছে
জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য রোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ইউনাইনেটড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ বা ইউএসটিআর।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর বা ইউএসটিআর বলছে, তাদের বাণিজ্য অংশীদার যে ৬০টি দেশ পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারেনি তাদের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইউএসটিআর এর এই প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, জাপানসহ ৬০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মূলত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলছে, বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন বন্ধ করতে না পারায় তাদের এই সিদ্ধান্ত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের জরুরি শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
এক্ষেত্রে কোন দেশের ওপর কত শুল্ক আরোপ করা হবে সেটিও ওই প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেছে ইউএসটিআর।
তারা জানিয়েছে, যে-সব দেশ ইতোমধ্যেই জোরপূর্বক শ্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা আংশিক নিয়ম বিদ্যমান তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অন্য সব দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ব্রিটেনের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে।
এছাড়া বাকি ৪৫টি দেশের ওপর তারা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।
এছাড়া একটি টেক্সটাইল মেকানিজমও প্রস্তাব করছে যুক্তরাষ্ট্র। যা নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যকে হ্রাসকৃত শুল্ক হারে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেবে, যদিও এর হার বা পরিমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত শুল্কের ক্ষেত্রে, জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট কিছু ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানের যন্ত্রাংশ এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়ে ইউএসটিআর।
ছবির উৎস, Getty Images
ট্রাম্প প্রশাসনের ভিন্ন কৌশল
২০২৫ সালের দোসরা এপ্রিল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপর বিভিন্ন হারে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পালটা শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যেটি বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।
বাংলাদেশের উপর শুরুতে ৩৫ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করা হলেও শেষ পর্যন্ত দরকষাকষি শেষে উভয় পক্ষ ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ নামে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কদিন আগে এই চুক্তিতে সই করেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তিতে পরিবর্তন আনা যায় কিনা বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সেই দাবিও রয়েছে।
ওই সময় বাংলাদেশ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শুল্ক যুদ্ধে হঠাৎই বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়ায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহুল আলোচিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থি এবং আইনিভাবে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তি একরকম অনিশ্চয়তায় পড়ে। যদিও ওই সময় বিকল্প হিসেবে ‘সেকশন ১২২’ নামে একটি আইনের আওতায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা কিংবা অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি-না এবং পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এরকম একটি তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর।
ইউএসটিআর ওই সময় জানিয়েছিল যে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কেমন সেটিই তদন্ত করে দেখা হবে।
একই সঙ্গে দেখা হবে যে, এসব বিষয়ে দেশগুলোর নীতি বা চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বোঝা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না।
মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি সরকারের নীতি বা কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
চলতি বছরের মার্চে শুরু করা এই তদন্তের একটি অংশ অর্থাৎ জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতেই মঙ্গলবার নতুন করে ৬০টি দেশের ওপর এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর।
ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া
জোরপূর্বক শ্রম এবং অতি উৎপাদন ইস্যুকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র যখন ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল তখনই এ নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।
এর মধ্য দিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন কৌশলে বাড়তি শুল্ক আরোপের পথই খোলা রাখছে বলেও সমালোচনা হয়েছিল।
মঙ্গলবার নতুন শুল্ক আরোপের যে প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর দিয়েছে তার মধ্য দিয়ে সেই কৌশলেরই বাস্তবায়ন দেখছেন অর্থনীতিবিদ এবং রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোনো পরিকল্পনা নয়, বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ।
তিনি বলছেন, “ট্যারিফ আদায়ের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে নিয়েছিল সেটিই আইনের মারপ্যাচে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।”
অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ট্যারিফের সিদ্ধান্ত আদালতে বাতিল হলেও সেটাকেই আবার শক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে।
“ওরা বলছে যে আপনি ফোর্স লেবার এবং এক্সেস প্রোডাকশনের জন্য দায়ি, এগুলোতো খুবই আপেক্ষিক ব্যাপার। এগুলো আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না, ওরাও পারবে না। আসলে ওরা যে মাত্রায় ট্যারিক কলেকশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আইনের মারপ্যাঁচে সেটাই করছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. রুবেল।
এছাড়া যে দেশগুলো এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি করেনি, তাদেরকেও চুক্তিতে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি আইনি ভিত্তি হিসেবেও কাজ করবে।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে যেসব দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করার হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন।
বুধবার দুপুরেই সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।
সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, মার্কিন আদালত আগের ট্যারিফ বাতিল করলেও নতুন অজুহাতে আরও ট্যারিফ আরোপের চেষ্টা করছে।
“জোরপূর্বক শ্রমের যে অজুহাত তারা দিয়েছে এর একটা প্রমাণও কি তারা দিতে পারবে? বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানো হচ্ছে, প্রশ্নই আসেনা,” বলেন তিনি।
মি. হাতেম দাবি করেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করেই কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে।
“আইএলও’র আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশনের দশটি কোর কনভেনশনেই বাংলাদেশ সই করেছে। আমেরিকা মাত্র দুটিতে করেছে। মূলত তাদের আদালত বাতিল করে দেওয়াতে ভিন্ন একটি ক্লজে গিয়ে এটি করার চেষ্টা করছে তারা,” বলেন বিকেএমইএ সভাপতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুতে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে সেটি আবারও পর্যালোচনার কথা বলছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, “স্বাভাবিক শুল্কের ওপর লেবার স্ট্যান্ডার্ডের ইস্যু এনে তারা বাড়তি শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছেন, কিন্তু আগেই এই ধরণের শুল্কের বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মার্কিন আদালত, এবারও বিষয়টি মার্কিন আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
যদিও তিনি মনে করেন, মার্কিন ট্যারিফের দিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশের বরং উচিৎ হবে শ্রম অধিকারের বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে সেখানে নজর দেওয়া।
“শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন আগে থেকেই আমাদের ওপর চাপ রয়েছে, আমাদের উচিৎ হবে ট্যারিফের দিকে না তাকিয়ে এক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকলে নিজেদের তাগিদেই সেটি ঠিক করা,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. মোয়াজ্জেম।







