Home rss world bengali সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি হামলায় ১১ জন আহত

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি হামলায় ১১ জন আহত

4
0

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক আগ্রাসী হামলায় বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী প্রদেশ নাজরানে এক চার বছরের শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনী। চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলে বেসামরিকদের ওপর এটিই সবচেয়ে গুরুতর হামলা।

## কোথায় এবং কখন হামলা হয়

বৃহস্পতিবার রাতে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় এবং ইয়েমেন-সংলগ্ন এলাকা নাজরানে হামলাগুলো হয়। স্থানীয় সামরিক সূত্র ১১ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে ছিলেন এক ইয়েমেনি নাগরিক, দুই মিশরীয়, এক পাকিস্তানি প্রবাসী এবং সৌদি আরবের চার বছরের এক শিশু। এছাড়া সাতজন সৌদি নাগরিকও আহত হয়েছেন।

ওই দিন এর আগে মধ্য ও পূর্ব ইয়েমেনে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হুথিদের চালানো অন্যান্য অভিযানের পর এই হামলাগুলো হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হন।

## দুই পক্ষ কী দাবি করেছে

সৌদি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি নাজরানের হামলার নিন্দা করে একে “বেসামরিক স্থাপনার ওপর নির্বিচার গোলাবর্ষণ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এটিকে প্রথাগত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই অভিযোগে নির্বাসিত সরকারের সেই অবস্থানই প্রতিফলিত হয়েছে যে, হুথিদের হামলা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের বিপদের মুখে ফেলেছে।

অন্যদিকে, হুথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ইয়েমেনি বিদ্রোহী বাহিনী একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয় এবং লক্ষ্য ছিল পূর্ব ইয়েমেনে সমবেত সৌদি-সমর্থিত বাহিনী। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য ছিল সামরিক শিবির, ডিপো এবং অস্ত্র সংরক্ষণাগার; তাদের অভিযোগ, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সারি দাবি করেন, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত সেনাদের মোতায়েন বাড়ানোর জবাবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, “শত শত সৌদি শত্রু ভাড়াটে সেনা” নিহত বা আহত হয়েছে। তিনি ইয়েমেনিদের সতর্ক থাকার এবং সৌদি সেনাদের যে কোনও সমাবেশ দেখা গেলে সেখানে হামলা চালানোর আহ্বান জানান।

## সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য

এই হামলাগুলো ইয়েমেনের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চলা কার্যত যুদ্ধবিরতির পর তীব্র উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরপর থেকে বড় ধরনের স্থল সংঘর্ষ কমে এলেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা আপেক্ষিক শান্তি ভেঙে দেওয়ার হুমকি তৈরি করছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্তপারের এই হামলাগুলো একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের ওপর আকাশ ও সমুদ্র অবরোধ বজায় রাখার অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্মকর্তারা হুথিদের সম্প্রসারণবাদ এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলার নিন্দা করছেন।

## আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইয়েমেনে নিযুক্ত মার্কিন মিশন হাদরামাউত ও মারিবে ইয়েমেনি সামরিক শিবিরে হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তারা হুথিদের হামলাকে “ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে তাদের সন্ত্রাসবাদের আরও একটি উদাহরণ” হিসেবে অভিহিত করেছে।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ২০১৫ সালে সেই সরকারকে পুনর্বহাল করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। সাত বছর পরও সংঘাতের সমাধান হয়নি; বরং এটি অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক—উভয় মাত্রাসম্পন্ন একটি জটিল, বহুমুখী সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

## সামনে কী নজরে রাখতে হবে

– সৌদি সামরিক বাহিনী ইয়েমেন সীমান্তের ওপারে সরাসরি জবাব দেয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা।
– বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ বিষয়ে উদ্বেগ জানায় কি না, তা নজরে রাখা।
– সৌদি আরব ও অনুমোদিত ইয়েমেনি সরকারি সূত্রগুলোর কূটনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি হুথিদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তেহরানের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে শান্তি কতটা ভঙ্গুর, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। আবারও যখন বেসামরিকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, তখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মানবিক পরিস্থিতি—উভয়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.