Source : BBC NEWS

” এট া একট া পুরোন ো মসজিদ ছিল । আম ি আমার দাদাক ে সেখান ে নামাজ পড়ত ে দেখেছি । আমার বাবাও ওখান ে নামাজ পড়তেন । আমিও সেখান ে গিয়েছি । আজও মাঝ ে মাঝ ে আমর া সেখান ে গিয় ে নামাজ পড়ি, এমনক ি জুমার নামাজও পড়েছি ।”
বলছিলেন উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দ া শরিফ আহমেদ।
সাহারানপুরের কালেক্টরেট অফিস সংলগ্ন এলাকায ় থাকেন তিনি । এই কালেক্টরেট কমপ্লেক্সেই অবস্থিত একট া পুরান ো মসজিদ গত পাঁচই সেপ্টেম্বর প্রশাসনের উদ্যোগ ে ভেঙ ে ফেল া হয়।
মুসলিম পক্ষের দাব ি য ে এই মসজিদ একশ ো বছরেরও বেশ ি পুরোনো । আবার প্রশাসনের দাবি, ওই মসজিদ সরকার ি জমিত ে অবৈধভাব ে নির্মাণ কর া হয়েছ ে এব ং এর বিরুদ্ধ ে আইনানুগ ব্যবস্থ া নেওয় া হয়েছে।
শরিফ আহমেদের প্রতিবেশ ী অমিত ট্যান্ডন অবশ্য এই সরকার ি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে । তার কথায়,” এখান ে য া হয়েছ ে ত া একেবারেই ঠিক নয় এব ং সেট া আমরাও অনুভব করেছি । এখানকার সব পরিবারই আমাদের নিজের মতো । আমর া এর বিরুদ্ধে ।”
মসজিদ ভেঙ ে ফেলার পর এখন ওই জায়গায ় ব্যারিকেড দেওয় া রয়েছে । সেই ব্যারিকেড পেরিয় ে যাওয়ার অনুমত ি আমাদের দেওয় া হয়নি।

ক ী হয়েছিল?
কালেক্টরেট কমপ্লেক্সের ওই মসজিদ নিয় ে বিতর্কের সূত্রপাত উত্তর প্রদেশ ে বজর ং দলের সাবেক আহ্বায়ক বিকাশ ত্যাগীর অভিযোগক ে ঘিরে।
গত বছর ২৪শ ে মার্চ,’ দ্য উত্তর প্রদেশ পাবলিক প্রেমিসেস ( এভিকশন অব আনঅথোরাইজড অক্যুপ্যান্টস ) অ্যাক্ট ‘ ব া ‘ উত্তর প্রদেশ সরকার ি প্রাঙ্গণ ( অননুমোদিত দখলদারদের উচ্ছেদ ) আইনের ‘ অধীন ে সিট ি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ে মামল া দায়ের কর া হয়।
দীর্ঘ শুনানির পর চলত ি বছরের ১৭ই জুলাই সিট ি ম্যাজিস্ট্রেট ওই মসজিদক ে অবৈধ স্থাপন া বল ে ঘোষণ া করেন এব ং জম ি দখলমুক্ত করার আদেশ দেন।
মসজিদের পক্ষ থেক ে এই আদেশের বিরুদ্ধ ে জেল া আদালত ে পাল্ট া মামল া দায়ের কর া হয় । প্রায ় দেড ় মাস শুনানির পর, জেল া জজের আদালত গত দোসর া সেপ্টেম্বর সেই আবেদন খারিজ কর ে দেয ় এব ং সিট ি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশই বহাল রাখে।
কিন্ত ু এখান ে য ে সবচেয় ে বড ় প্রশ্নট া উঠছ ে ত া হলো, আদালত ক ি এই মসজিদ ভেঙ ে ফেলার সুস্পষ্ট আদেশ দিয়েছ ে ন া ক ি শুধ ু জম ি দখলমুক্ত করার আদেশ?
এই নিয় ে দুই পক্ষের মধ্য ে বিরোধ রয়েছে।
আদালতের আদেশ ও নোটিশের বিষয়ট া বোঝার জন্য আমর া বিভিন্ন আইনজীবীর সঙ্গ ে কথ া বলেছি।
এই মামলার সঙ্গ ে যুক্ত প্রবীণ আইনজীব ী পারভেজ জব্বারের কথায়,” দখলমুক্ত করার আদেশ ছিল, ভাঙার নয় । এত তাড় া কীসের ছিল য ে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিনই এই পদক্ষেপ নিত ে হল ো”?
তিন ি বলেন,” নোটিশ পাওয়ার পর ে যদ ি পুর ো আইন ি প্রক্রিয় া মানত ে হয়, তাহল ে আমাদের আর ো ১৮ দিন সময ় পাওয় া উচিত ছিল ।”
আইনজীবীদের মতে, আদেশ মূলত জম ি দখলমুক্ত করার বিষয় ে ছিল । পাশাপাশ ি নোটিশের পর নির্ধারিত সময়সীম া শেষ হওয়ার আগেই ভেঙ ে ফেল া হয়।
মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক তানভীর আহমেদ বলেন,” ধরুন যদ ি দখলমুক্ত করাতেই চাইতেন তাহল ে তার া সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতেন । সেখান ে একট া জেনারেটর রাখ া ছিল, আমর া বের কর ে নিতাম । কোরআন ছিল, সেগুল ো অন্যত্র রাখত ে পারতাম । সেখান ে নামাজ পড়ার জন্য চাটাই ছিল, সেগুল ো বের কর ে আন া যেত । এমন কত জিনিস থাকে ।”
আইনজীব ী নওশাদ আল ী ব্যাখ্য া করেছেন,” দখলমুক্ত করার কাজ ৩০ দিন পরও কর া যেত । কিন্ত ু তার আগ ে তার া সেই প্রক্রিয় া শেষ করেনি । ত া ন া কর ে সোজ া গিয় ে দ ু’দিকের গেট বন্ধ করে, গোট া চত্বর সিল কর ে কাঠাম ো ভেঙ ে দিয়েছে ।”
প্রশাসনের তরফ ে য া বল া হচ্ছে
আমর া আমাদের প্রশ্ন নিয় ে জেল া শাসকের অফিসেও পৌঁছেছিলাম । সেখান ে আমাদের জানান ো হয়েছিল য ে ডিআইজ ি সাহারানপুর ইতোমধ্য ে এই বিষয় ে সংবাদমাধ্যমের কাছ ে বিবৃত ি দিয়েছেন এব ং বিষয়ট া এখন এলাহাবাদ হাইকোর্ট ে বিচারাধীন রয়েছে।
সাহারানপুরের ডিআইজ ি অভিষেক সি ং গত পাঁচই সেপ্টেম্বর বার্ত া সংস্থ া এএনআইক ে দেওয় া এক বিবৃতিত ে বলেছিলেন,” আমর া ব্যবস্থ া নেওয়ার সময় ে সমস্ত আইন ি বিধান এব ং আইন ি পদ্ধত ি মেনেছ ি এব ং আইনশৃঙ্খল া বজায ় রাখার জন্য প্রয়োজনীয ় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয় া হয়েছে । সিট ি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষ থেক ে ওই নির্মাণ সরকার ি জমিত ে অবৈধভাব ে কর া হয়েছ ে বল ে রায ় দিয়েছিল । মসজিদ কমিটির আবেদনও খারিজ কর ে দেওয় া হয়েছিল ।”
অর্থাৎ একদিকে, প্রশাসনের তরফ ে জানান ো হয়েছ ে য ে বিচার বিভাগীয ় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ করার পরই পদক্ষেপ নেওয় া হয়েছে । অন্যদিকে, মসজিদের সঙ্গ ে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, য ে আদেশের ভিত্তিত ে ব্যবস্থ া নেওয় া হয়েছ ে সেখান ে দখলদারমুক্ত কর া ও ইমারত ভাঙার সম্পর্ক কোথায়?
এই বিষয় ে উত্তর পেত ে হল ে হাই কোর্ট ে চলমান শুনান ি পাওয় া পর্যন্ত অপেক্ষ া করত ে হবে।

ইতিহাস ক ী বলছে?
প্রশাসনের তরফ ে ওই মসজিদ ভেঙ ে ফেলার পর তার ধ্বংসাবশেষও সরিয় ে ফেল া হয়েছে । সেই অবশেষ এখন শহর থেক ে কিছুট া দূর ে আম্বাল া রোডের একপাশ ে পড় ে রয়েছে।
ধ্বংসস্তূপের মধ্য ে নামাজের মাদুর, একট া টুপি, কিছ ু ছেঁড় া পৃষ্ঠা, ধর্মীয ় মালা, সাদ া কুর্তা-পায়জাম া এব ং অন্যান্য পোশাক য া সম্ভবত মসজিদের ইমাম ব া তত্ত্বাবধায়কের ছিল, তার দেখ া মিলেছে।
ধ্বংসস্তূপের কিছ ু ইটের উপর ১৯০৬, ১৯০৯, ১৯১১ এব ং ১৯১৩ সালের উল্লেখ রয়েছে । ধ্বংসস্তূপের পাশ ে দাঁড়িয় ে থাক া এক স্থানীয ় ব্যক্ত ি আমাদের বলেছিলেন,” মসজিদ এখন অবশিষ্ট নেই । আমর া শুধ ু তার চিহ্ন সংগ্রহ করত ে চাই, এমনক ি সেট া যদ ি পুরোন ো ইট হয ় তাও নিজের কাছ ে রেখ ে দিত ে চাই ।”
আরেক ব্যক্তির কথায়,” ধ্বংসস্তূপের মধ্য ে কোরআন শরিফ ছিল । আমর া সেগুল ো বাড়িত ে নিয় ে গিয়েছ ি আর কিছ ু কবরস্থান ে দাফন করেছি ।”
স্থানীয ় বাসিন্দাদের মত ে ইটের উপর লেখ া সাল ইঙ্গিত দেয় য ে ওই ইমারত কত প্রাচীন।
কিন্ত ু ইটের উপর লেখ া দেখেই ক ি মসজিদের বয়স নির্ণয ় কর া সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তর ে আলিগড ় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক নাদিম রিজভ ি বলছিলেন,” সেই সময় ে ইটের উপর নির্মাণের সাল উল্লেখ করাট া অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না । কিন্ত ু শুধুমাত্র এই সংখ্যার ভিত্তিত ে সিদ্ধান্ত নেওয় া সম্ভব নয় য ে ওই মসজিদও একই সময় ে নির্মাণ কর া হয়েছে ।”
তার মতে, এমন হতেই পার ে য ে এই ইট য ে সময় তৈর ি হয়েছিল তারপর মসজিদ নির্মাণ কর া হয়েছে । কিংব া পুরান ো কোন ো ভবনের ইটও মসজিদ তৈরির জন্য ব্যবহার কর া হয়েছে।
অধ্যাপক রিজভ ী বলেন,” একট া ভবন কত পুরোন ো ত া পরীক্ষ া করত ে ইটের আকার, গঠন এব ং গাঁথুনির জন্য ব্যবহৃত মশল া পরীক্ষ া কর া আর ো বেশ ি সাহায্য করত ে পারে ।”
আর্কিওলজিকাল সার্ভ ে অব ইন্ডিয় া ( এএসআই ) -এর টিম জরিপ কর ে মসজিদের জায়গায ় একট া কুয়োর মত ো কাঠামোও খুঁজ ে পেয়েছে।
এএসআই-এ কর্মকর্ত া মনোজ যাদবের মতে,” সমীক্ষার সময় ে সেখান ে লাখোর ি ইট পাওয় া গেছে । এই ইটের আকার প্রায ় ২০×১০×৫ সেন্টিমিটার এব ং সেগুল ো গাঁথার জন্য চুন-সুরকির মত ো উপকরণ ব্যবহার কর া হয়েছে ।”
তার মতে, মধ্যযুগ থেকে ২০-র শতকের গোড়ার দিক ে উত্তর-মধ্য গাঙ্গেয ় উপত্যকায ় এই ধরনের ইট এবং চুন-সুরকির ব্যবহার দেখ া যায়।
স্থানীয়র া য া বলছেন
ওই ভবনের নির্মাণ সম্পর্ক ে জানত ে আমর া স্থানীয়, পুরোন ো বাসিন্দাদের সঙ্গ ে কথ া বলেছি । মসজিদের বয়স এব ং জমির মালিকান া বোঝার জন্য য ে সমস্ত নথ ি রয়েছে, তাও দেখেছি।
স্থানীয়দের মুখ ে মুখ ে ফের া এলাকার ইতিহাস সম্পর্ক ে জানত ে আমর া আশেপাশের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গ ে কথ া বল ে বিষয়ট া জানার চেষ্টাও করেছি।
এই ইমারত ১৯৪৭ সালের আগেও বিদ্যমান ছিল বল ে দাব ি কর া হয়।
এ নিয় ে একট া গুরুত্বপূর্ণ আইন ি প্রশ্নও উঠছে । উপাসনালয ় ( বিশেষ বিধান ) আইন, ১৯৯১ এর ধার া ৪ ( ১ ) -তে উল্লেখ কর া হয়েছ ে প্রত্যেক উপাসনালয়ের ধর্মীয ় পরিচয ় ব া বৈশিষ্ট্য ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট যেমন ছিল, ঠিক তেমনই থাকবে।
কিন্ত ু এই বিধানের অর্থ এই নয ় য ে কোনে া ধর্মীয ় স্থানের জমির মালিকানা, নির্মাণের বৈধত া ব া সরকার ি জমির দখল নিয় ে সিদ্ধান্তও সেই আইন অনুযায়ীই নেওয় া হবে । সুতরা ং এই ক্ষেত্র ে দুট ো আলাদ া আলাদ া প্রশ্ন উঠছে।
প্রথমত, এখান ে ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট ক ি মসজিদ ছিল? দ্বিতীয ় প্রশ্ন ওই জমির বৈধ মালিক কে?
এই দুট ো প্রশ্নের উত্তর পেত ে আমর া পুরোন ো জমির রেকর্ডও দেখেছি।
স্থানীয ় প্রবীণ বাসিন্দ া মি. আবিদ বলেন,” এই মসজিদ শত শত বছরের পুরোনো । যখন এখান ে আদালত ছিল না, সেই সময় ে ভারত স্বাধীনও হয়নি । এট া ব্রিটিশ আমলের মসজিদ ।”
তার প্রতিবেশ ী পবন রাণ া বলেন,” যদ ি অবৈধ হয়, তাহলেও ত ো উপায ় আছে । হঠাৎ ভেঙ ে দেওয় া হলো- এর কোন ো অর্থ আছ ে ন া কি? এর সঙ্গ ে অনেক মানুষের আবেগ জড়িয় ে ছিল । এত তাড়াহুড় ো কর ে একট া পুরোন ো ইমারত ভেঙ ে ফেল া হলো । এর আগ ে কখন ো কোন ো বিতর্কের কথ া শুনিনি । হঠাৎ, দেড ় মাসের মধ্যে, পুর ো ব্যাপারট া সম্পন্ন হয় ে গেল ।”
আইনজীব ী নওশাদ আল ী বলেন,” আজ পর্যন্ত সরকারের মালিকানার কোন ো কাগজপত্র নেই । রাজস্ব রেকর্ড ে থাক া জমিদার ওয়াহিদ খান এব ং ইয়াকুব খানের নাম এখন ো খসড় া ন ং ৫৩৯ ত ে নথিভুক্ত কর া আছে । সেখান ে একট া কালেক্টরেট, আদালত এব ং মসজিদ থাকার কথ া উল্লেখ কর া হয়েছে ।”
যাইহোক, আমর া যখন উত্তর প্রদেশের পোর্টাল থেক ে জানার চেষ্ট া কর ি তখন খসড় া ন ং ৫৩৯-এর রেকর্ড পাওয় া যায়নি।

ওয়াকফ রেজিস্ট্রেশন, পোস্ট অফিসক ে ইজারা
নওশাদ আল ী বলেছেন,” ১৯৫৫ সাল ে এট া ওয়াকফ বোর্ড ে নিবন্ধিত হয়েছিল । ওয়াকফ বোর্ড ে শুধ ু শুধ ু রেজিস্ট্রেশন কর া যায় না । সম্পূর্ণ জরিপ হয়েছে, সম্পত্তির মালিক কে, কার া দান করেছ ে তার রেকর্ড রয়েছে । দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয ় সরকারের ডাক বিভাগ ১৯৬০ সাল ে এই সম্পত্তির অন্তর্গত দুট ো ঘর ভাড় া নিয়েছিল । সেখান ে একট া পোস্ট অফিস ছিল ।”
তিন ি বলেন,” কেন্দ্রীয ় সরকার এব ং মসজিদের মধ্য ে ইজার া নিয় ে চুক্ত ি ছিল । সেই সময় ে নিশ্চয়ই তার া মালিকানার নথ ি খতিয় ে দেখেছিল এব ং তারপরই তার া ইজার া সংক্রান্ত চুক্ত ি করেছিল । সেই চুক্ত ি আজও বহাল রয়েছে ।”
আমর া ওয়াকফ নথ ি পরীক্ষ া করেছি । সেখান ে এই সম্পত্ত ি সম্পর্কিত রেকর্ড মজুদ রয়েছে।
তব ে এখান ে একট া গুরুত্বপূর্ণ তফাত রয়েছে- ওয়াকফ ে কোন ো সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন এব ং সেই সম্পত্তির মূল মালিকান া কিন্ত ু এক বিষয় নয় । তাই ওয়াকফ রেকর্ডের পাশাপাশ ি মূল রাজস্ব রেকর্ড এব ং এই জমির নাম ে থাক া নথিও খতিয় ে দেখ া দরকার।

বিরোধ ী নেতাদের বক্তব্য
এই ঘটনার প্রেক্ষিত ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও মিলেছে । উত্তর প্রদেশের কৈরানার সংসদ সদস্য ইকর া হাসান, সাবেক বিধায়ক ও কংগ্রেসের রাজ্য সভাপত ি অজয ় রাই এব ং সাহারানপুরের বিধায়ক শাহনওয়াজ খান দাব ি করেছেন, তার া যখন এই স্থান পরিদর্শনের জন্য যেত ে চেয়েছিলেন, তখন তাদের গৃহবন্দ ি কর া হয়।
সাহারানপুরের বিধায়ক তথ া বিজেপ ি নেত া রাজীব গুম্বার জানিয়েছেন, বিষয়ট া আদালত ে গিয়েছিল এব ং আদালত সেই নির্মাণ সরকার ি জমিত ে অবৈধ নির্মাণ হিসাব ে বিবেচন া করেছে । তার মত ে আদালতের সিদ্ধান্ত মেন ে চলত ে হবে।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান মাসুদের দাবি,” সিট ি ম্যাজিস্ট্রেট য ে আদেশ দিয়েছেন ত া সবকিছ ু উপেক্ষ া কর ে কর া হয়েছে । তার া কোন ো নিয়ম, কোন ো আইন মানেননি ।”
” সম্ভাল ে ক ী ঘটেছিল? সম্ভাল ে পুলিশ গুল ি চালায়, পাঁচজনের মৃত্য ু হয়েছিল এব ং সেই পাঁচজনের হত্যাকারীর পরিচয ় জান া যায়নি । এই সবই একট া এজেন্ড া মেন ে কর া হয়েছে । এইভাব ে মসজিদ, মন্দির ব া উপাসনালয ় ভেঙ ে ফেল া কোন ো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত নয় ।”

এখন ো য ে প্রশ্নগুল ো রয় ে গেছে
কালেক্টরেট কমপ্লেক্স, যেখান ে একসময় ে ওই মসজিদ ছিল সেখান ে এখন ফাঁক া জায়গা । এখন ব্যারিকেড দিয় ে ঘের া রয়েছ ে ওই জায়গাটা । একদিক ে প্রশাসন বলছে, সরকার ি জমিত ে গড় ে ওঠ া ওই কাঠাম ো অননুমোদিত ছিল এব ং আইন ি প্রক্রিয়ার পর ত া সরিয় ে ফেল া হয়েছে।
অন্যদিকে, মসজিদ কমিট ি দাব ি করেছ ে য ে সেখান ে য ে মসজিদ ছিল সেট া ১০০ বছরেরও বেশ ি পুরানো । ওই জম ি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছিল এব ং ওয়াকফ রেকর্ডেও তার উল্লেখ রয়েছে।
এসবের মাঝ ে বেশ কিছ ু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন ো রয় ে গিয়েছে।
খসড় া ন ং ৫৩৯-এর জমির আসল মালিক ক ে ছিলেন? ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগাস্ট এই জায়গায ় ক ি মসজিদ ছিল? মসজিদের বয়স এব ং জমির মালিকান া প্রমাণ কর ে এমন প্রাচীনতম দলিল ক ী রয়েছে? এব ং সবচেয় ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল ো ভেঙ ে ফেলার আগ ে আইন ে উল্লেখ কর া পুর ো প্রক্রিয় া ক ি মেনেছিল প্রশাসন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোনে া দাবির উপর নির্ভর কর ে পাওয় া সম্ভব নয় । মূল জমির রেকর্ড, ওয়াকফ নথি, প্রশাসনিক আদেশ, তদন্ত এব ং আদালতের শুনানির উপর ভিত্ত ি করেই উত্তর মিলত ে পারে।
বর্তমানে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছ ে প্রতিক্রিয় া চেয়েছ ে এব ং ছয় কোট ি ৫১ লাখ টাকারও বেশ ি পুনরুদ্ধার করার বিষয় ে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জার ি করেছে । মামলার পরবর্ত ী শুনান ি ১২ই অক্টোবর হওয়ার কথা।




