Home LATEST NEWS BANGLA কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে অন্তত ১৮০ জন নিহত, জীবিতদের উদ্ধারে চলছে মরিয়া চেষ্টা

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে অন্তত ১৮০ জন নিহত, জীবিতদের উদ্ধারে চলছে মরিয়া চেষ্টা

6
0

Source : BBC NEWS

জীবিত উদ্ধারে যোগ দিয়েছে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক

ছবির উৎস, Reuters

সোমবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কলম্বিয়ার উদ্ধারকর্মীরা।

এ পর্যন্ত ১৮০ জনেরও বেশি মানুষের নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যাদের অধিকাংশই কালি ও পেরেইরা শহরের বাসিন্দা।

সোমবার স্থানীয় সময় সাতটা ৩৪ মিনিটে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়, শত শত মাইলজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়। মঙ্গলবারও এর নতুন নতুন আফটারশক অনুভূত হচ্ছিল।

যদিও সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ১৮১ জনই রয়েছে। তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ২৪০-এরও বেশি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর অন্যতম পেরেইরা থেকে মঙ্গলবার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা বলেন, নিহতদের পাশাপাশি প্রায় ২,৬০০ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ১,১০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ৮,০০০টিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত পেরেইরা ও কালি শহরে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কারও বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, আবার কেউ আবারও ভবন ধসের আশঙ্কায় ঘরে ফেরেননি।

সারা দেশে বড় আকারের কয়েক ডজন ভবনও ধসে পড়েছে।

কলম্বিয়ার কালি শহরে ১১ আগস্ট ২০২৬ সালের ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযানে একজনকে বের করে আনার সময় দমকলকর্মীদের প্রতিক্রিয়া। ছবির মাঝখানে একজনকে হাতে ইশারা করতে ও চিৎকার করতে দেখা যাচ্ছে

ছবির উৎস, Reuters

২২ লাখ মানুষের শহর কালি, যেখানে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য একটি যৌথ কমান্ড পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কালি শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানান, এখনও ২৩৯ জন আটকা পড়ে আছেন, ৯৪৯ জন আহত হয়েছেন এবং ৪৫টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে।

শহরের একটি হাসপাতালের কয়েকটি ওপরের তলা ধসে পড়েছে। এর কিছু অংশ শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। এতে কিছু রোগী আটকা পড়েছেন।

কালির উত্তরের ক্যালিমা এলাকায় জিমনাসিও ক্যালিমা স্কুলের একটি অংশ ধসে পড়ায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ওই পৌরসভার মেয়র আন্তোনিও কাদাভিদ বলেন, আরও কয়েকজন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে এবং মোট ৩০ শিশুকে চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

লুটপাটের হুমকি মোকাবেলায় তিনি কারফিউ জারির নির্দেশও দিয়েছেন, যা স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার কালিতেও আরও কম্পন অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের ভূমিকম্পের পর থেকে সারা দেশে ৭০টির বেশি আফটারশক হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভোরে ৩.৬ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। প্রথমটি ছিল সান হোসে দেল পালমারে এবং দ্বিতীয়টি সান্তান্দেরে।

শহরের দমকল বিভাগের তথ্যমতে, পেরেইরাতে ৭৯ জন মারা গেছেন।

উদ্ধার কাজ কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধার জন্য শহরে যানবাহনমুক্ত দিবস ঘোষণা করা হয়েছে এবং নাগরিকদের তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শহর থেকে পাওয়া ফুটেজে উদ্ধার অভিযানের ব্যাপকতা দেখা গেছে, যেখানে শত শত স্বেচ্ছাসেবক ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

কলম্বিয়ার কালি শহরে ভূমিকম্পের পর একটি ধসে পড়া ভবনের স্থানে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় এক নারীকে ইশারা করতে দেখা যাচ্ছে। ১১ আগস্ট ২০২৬

ছবির উৎস, Reuters

ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পর, শহরের বিমানবন্দরের কাছের পারকে ইন্ডুস্ত্রিয়াল এলাকার এক বাসিন্দা বিবিসি মুন্ডোকে ওই এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান।

তিনি বলেন, “শহরের কেন্দ্রস্থলে চলাচল করাই অসম্ভব। বলিভার স্কয়ারে (শহরের প্রধান চত্বর) অন্তত একটি ভবন ধসে পড়েছে। এছাড়া এমন কিছু স্থাপনা রয়েছে, যেখানে বাস ও ট্রাক আটকা আছে, আর মানুষ আশঙ্কা করছে সেগুলোও ধসে পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছি। এটা সত্যিই ভয়াবহ ছিল।”

মানিসালেসের মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস বলেন, শহরে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

মানিসালেসে ৬০টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

আরও পরাঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে রোহাস জনসাধারণকে অজ্ঞাত উৎসের চেইন বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার না করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ”এগুলোতে “মিথ্যা বা যাচাই না করা তথ্য থাকতে পারে, যা জনসাধারণের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে”।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে কলম্বিয়াকে সহায়তা ও সমর্থন দেওয়া অব্যাহত ছিল।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, তিনি “কলম্বিয়ার জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন” এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন করার জন্য কাজ করছেন।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস জানান, এখনও ১৬৪ জন স্প্যানিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে এর কোনো নাগরিকের আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন, যারা চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লার সফল নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছিল, আজ বিকেলে কলম্বিয়াকে ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার (১১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও সাহায্যের প্রস্তাব এসেছে।