Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন কেটি জাকারাইয়া। বিবিসি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তার অস্বস্তিকর উপস্থিতি নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল, পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালো।
শুক্রবার তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের কয়েক মুহূর্ত আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানান, জাকারাইয়াকে তিনি বলেছিলেন, “আপনি যদি না চান, তাহলে আপনাকে এই কাজ করতে হবে না”। তিনি আরও বলেন, “সত্যি বলতে, আমি আপনার জায়গায় থাকলে বিষয়টি আবার ভেবে দেখতাম”।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারাইয়া। সংবাদ সম্মেলনটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়েছিল এবং সেখানে সাংবাদিকেরা মাত্র তিনটি প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
এরপরের কয়েক দিন তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যস্ত থাকতে হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তার যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
শুক্রবার দুপুরের দিকে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প তার পদ ছাড়ার ইঙ্গিত দেন।
ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছিলাম, কেটি, এই কাজটা কি আপনার জন্য? কারণ সত্যি বলতে, আপনার তো এটা করার প্রয়োজন নেই”।
তিনি আরও বলেন, “আপনাকে এভাবে খারাপ আচরণের শিকার হতে হবে না”। সংবাদমাধ্যম তার সঙ্গে ‘বেশ খারাপ আচরণ’ করেছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিবিসি নিশ্চিত করে, জাকারাইয়া তার পদ ছাড়ছেন।
ছবির উৎস, Win McNamee/Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, জাকারাইয়ার আকস্মিক বিদায়কে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউজের ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাটরা।
প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারির বিদায় ঘটেছে। ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন এর সংক্ষিপ্ত রূপ) চরমপন্থিরা ক্রমাগত ভেঙে পড়ছে”।
মঙ্গলবার জাকারাইয়ার প্রথম সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তার অস্থিরতাপূর্ণ সপ্তাহের সূচনা হয়। ১৪ মিনিটের ওই সংবাদ সম্মেলনে তাকে দৃশ্যত নার্ভাস দেখাচ্ছিল।
তিনি একটি নোটবুক থেকে বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো পড়ে শোনান, অল্প কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একপর্যায়ে নিজের স্বামীকে প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জাকারিয়ার কাছে জানতে চান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার লাইসেন্সের পরীক্ষা পাস করেছেন। ট্রাম্পসহ অন্যরা তাকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
জাকারাইয়া পেপারডাইন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ পেতে হয়, যার জন্য কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
ওই প্রশ্নের জবাবে জাকারাইয়া বলেছিলেন, “আমি যখন চীনে ছিলাম”।
সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক অনুসন্ধান ও সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার জাকারাইয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় পাস করেননি।
ছবির উৎস, Chip Somodevilla/Getty Images
তবে এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে চীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত আইন বিষয়ে কাজ করেছেন।
সপ্তাহজুড়ে তার আইনগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার রক্ষণশীল মতাদর্শের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটি এক সাক্ষাৎকারে তাকে এ বিষয়ে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন করেন।
জাকারাইয়া বার পরীক্ষায় পাস না করার কথা স্বীকার করলে হ্যানিটি তাকে বলেন, “আপনি সরাসরি কেন বলেননি যে আমি কখনো আইন পেশায় কাজ করিনি?”
জাকারাইয়া হ্যানিটিকে আরও জানান, কতটা দ্রুত তাকে প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রথম সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এ কথা শুনে হ্যানিটি প্রশ্ন করেন, “আমি কি ঠিক বুঝছি যে আপনি মনে করেন, কর্মীদের আপনাকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল?”
ট্রাম্পের প্রায়ই ফক্স নিউজের যে অনুষ্ঠানটি দেখেন, সেই ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ শুক্রবার উপস্থিত হয়েও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারাইয়া।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপকদের তিনি বলেন, তিনি আইনজীবী নন- এ কথা ট্রাম্পকে জানাননি, কারণ ‘এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়নি’। তিনি আরও বলেন, তাকে আইনসংক্রান্ত দায়িত্বের জন্য নয় বরং যোগাযোগবিষয়ক দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লরেন্স জোনস তাকে প্রশ্ন করেন, “আপনার কি মনে হয়, প্রেসিডেন্টের আস্থা এখনো আপনার ওপর রয়েছে?”
জাকারাইয়া সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান। তবে বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আমার আশপাশের সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারব”।
জাকারাইয়ার এত দ্রুত বিদায় ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের প্রেস টিমে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি হোয়াইট হাউজের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক হিসেবে মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদ ছেড়েছিলেন।
শুক্রবার এক্স- এ স্কারামুচ্চি লিখেছেন, “রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।”




