Home LATEST NEWS BANGLA ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক অনিয়মের শতাধিক অভিযোগে ‘দোষী সাব্যস্ত’

ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক অনিয়মের শতাধিক অভিযোগে ‘দোষী সাব্যস্ত’

6
0

Source : BBC NEWS

ম্যানচেস্টার সিটি

Published

পড়ার সময়: ৫ মিনিট

আর্থিক বিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত ১১৫টি অভিযোগের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে যুক্তরাজ্যের ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি, একাধিক সূত্র বিবিসি স্পোর্টকে এই তথ্য জানিয়েছে।

দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্বাধীন প্যানেল তাদের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এবং একটি অভিযোগ ছাড়া বাকি সবগুলোতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।

সূত্রগুলো বিবিসি স্পোর্টকে জানিয়েছে, মামলাটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিটিকে অধিকাংশ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় দোষী পাওয়া গেছে।

অভিযোগ দায়েরকারী পক্ষ প্রিমিয়ার লিগ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

প্রতিবেদনটি সঠিক কি না জানতে চাইলে, সিটিও কোনো দিকেই মন্তব্য করেনি।

এর পরিবর্তে তারা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, “প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো সম্পন্ন করা বাকি এবং পুরো বিষয়টি কঠোর গোপনীয়তার আওতাভুক্ত।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “ক্লাবটি আট বছর ধরে যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রতি নিষ্ঠার সঙ্গে সম্মান দেখিয়ে এসেছে। এর ভিত্তি ছিল এই বিশ্বাস যে, প্রিমিয়ার লিগ বোর্ড ও নির্বাহী বিভাগ পক্ষপাতমূলক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়সঙ্গত নিয়ন্ত্রকের মতো আচরণ করবে।”

বিবিসি স্পোর্টকে আরও জানানো হয়েছে যে, যদি ম্যানচেস্টার সিটি এই মামলায় পরাজিত হয়, তাহলে তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরান সোরিয়ানো

ম্যান সিটির বিরুদ্ধে কোন ‘তিন ধরনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে?

বিবিসি স্পোর্ট অভিযোগগুলোকে মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করেছে–

প্রথমত, ক্লাবটির আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ।

দ্বিতীয়ত, মালিকদের কাছ থেকে আসা অর্থ, যা কার্যত মালিকদের দেওয়া অনুদান ছিল, সেটিকে স্পনসরশিপ আয়ের হিসেবে দেখানোর অভিযোগ। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো তিন বছরে সর্বোচ্চ ১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতি দেখাতে পারত। অর্থকে স্পনসরশিপ আয়ের হিসেবে দেখালে লোকসানের পরিমাণ কম দেখানো সম্ভব হয়।

তৃতীয় অভিযোগ হলো, কিছু ব্যক্তিকে হিসাববইয়ের বাইরে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ, কোনো কর্মী, যিনি একজন ম্যানেজার বা খেলোয়াড় হতে পারেন, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে কাজ বা খেলার জন্য একটি চুক্তির অধীনে ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, একই সঙ্গে তারা আবুধাবিভিত্তিক এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অর্থ পেয়েছিলেন, যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্লাবের মালিকের সঙ্গে যুক্ত।

এর ফলে ক্লাবের ব্যয় কম দেখানো সম্ভব হতো এবং লোকসানের পরিমাণও কমে যেত।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?

ম্যানচেস্টার সিটি কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগেই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছে।

তবে যদি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে এমন মাত্রার পয়েন্ট কাটার মুখে পড়তে পারে, যা তাদের অবনমন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ ধরনের পরিণতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের অর্জিত বহু সাফল্যের ওপর কলঙ্কের ছাপ ফেলবে এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠতে পারে।

অন্যদিকে, যদি প্রিমিয়ার লিগ এই মামলায় পরাজিত হয় এবং সিটি জয়ী হয়, তাহলে প্রিমিয়ার লিগকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের আইনি খরচ বাবদ কয়েক কোটি পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক-সংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে এটিই সেই মামলা, যেটিতে জয়ী হওয়াকে প্রিমিয়ার লিগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করবে।

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড মাস্টার্স

ঘটনা এখানে কীভাবে পৌঁছালো?

চার বছরব্যাপী একটি তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের ১০০টিরও বেশি অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এই অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রিমিয়ার লিগের দাবি ছিল, ক্লাবটির আর্থিক অবস্থার “সত্য ও ন্যায্য চিত্র তুলে ধরে এমন সঠিক আর্থিক তথ্য” দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটি তা লঙ্ঘন করেছে।

সিটিকে একটি স্বাধীন কমিশনের কাছে পাঠানো হয় এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রুদ্ধদ্বার ১০ সপ্তাহব্যাপী শুনানি শুরু হয়।

সিটি সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে এবং বলে, তাদের অবস্থানের পক্ষে “অখণ্ডনীয় প্রমাণের একটি বিস্তৃত ভাণ্ডার” রয়েছে।

এর আগে, ২০১৮ সালের নভেম্বরে জার্মান সংবাদপত্র ‘ ডের স্পিগেল’ এমন দাবি প্রকাশ করে যে ম্যানচেস্টার সিটি ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে (এফএফপি) বিধি লঙ্ঘন করেছে। প্রকাশিত এই তথ্যের ভিত্তিতে উয়েফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে পরের বছল, অর্থঅৎ ২০১৯ সালের মার্চে।

ম্যানচেস্টার সিটি তদন্তের সমালোচনা করে এবং আপিল প্রক্রিয়া শুরু করে।

২০১৯ সালের নভেম্বরে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস) সিটির আপিল গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেয়।

উয়েফা ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে ম্যানচেস্টার সিটিকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং ক্লাবটির ওপর তিন কোটি ইউরো জরিমানা আরোপ করে।

সে বছর জুলাইতে সিএএসে আপিলের পর সিটির ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়।

তবে এর পরের বছর, ২০২১ সালে ম্যান সিটি একটি এখতিয়ার-সংক্রান্ত রায়ে হেরে যায়, যার ফলে গণমাধ্যম জানাতে পারে যে প্রিমিয়ার লিগ সম্ভাব্য আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

২০২২ সালেল এপ্রিলে ডের স্পিগেল নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে দাবি করা হয়, প্রিমিয়ার লিগ তিন বছর ধরে ক্লাবটির তদন্ত চালাচ্ছে এবং বিস্তারিত অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রিমিয়ার লিগ ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে। এসব অভিযোগ নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যে ১০ সপ্তাহব্যাপী শুনানি শুরু হয়।

২০২৫ সাল থেকে রায় ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।

গত মাসে প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স বিবিসি স্পোর্টসকে জানিয়েছিলেন যে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে রায় দিতে “প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লেগেছে”।

মাস্টার্স আরও বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। এর শুনানিতেই ১২ সপ্তাহ সময় লেগেছে।”

এদিকে, আর্সেনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রিচার্ড গার্লিক বলেন যে, এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের সব দলেরই “সুস্পষ্ট ধারণা” বা স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

ম্যানচেস্টার সিটি মামলায় আলোচিত সময়কাল, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ক্লাবটি আটটি শিরোপা জিতেছিল। এর মধ্যে ছিল তিনটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, তিনটি লিগ কাপ, একটি কমিউনিটি শিল্ড এবং একটি এফএ কাপ।

২০১০-১১ মৌসুমের এফএ কাপ ছিল ৩৫ বছরে ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম বড় শিরোপা। আর ২০১১-১২ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাটি ছিল তাদের জেতা আটটি লিগ শিরোপার মধ্যে প্রথমটি।

সিটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটি ছিল, সাবেক ম্যানেজার রবার্তো মানচিনিকে আবুধাবির একটি ক্লাবের মাধ্যমে পরামর্শক ফি হিসেবে গোপনে, হিসাববইয়ের বাইরে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। সিটি এবং মানচিনি উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।