Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Nalasar/FB/ GettyImages
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নালসার’-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বা সংক্ষেপে নালসার-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বেছে নেওয়ার বিরোধিতা করে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করে একটি আবেদন জমা করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই ইমেইলে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষ যেন প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।
এই বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি তেলুগু। তারা জানিয়েছেন যে তাদের তরফে ইমেইল পাঠানো হয়েছে যদিও তারা নিজের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এই ইমেইলটি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার রয়েছেন।
২৩শে জুলাই এই আবেদনটি জমা করা হলেও এর বিষয়ে দেরিতে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
ছবির উৎস, UGC
প্রধান অতিথি পুনর্বিবেচনার দাবি
জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও অধ্যাপকরা জানতে পারেন যে শিগগিরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তাদের প্রশাসনিক দফতর থেকে আবেদন করা হয় যে তারা যেন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দেন।
একজন অধ্যাপক বিবিসিকে জানিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জানিয়েছে যে সমাবর্তনের তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।
সেই অধ্যাপক জানালেন, “আমরা খবর পেয়েছি যে প্রধান বিচারপতি নিজেই এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।”
বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউই এই প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
কর্তৃপক্ষের তরফে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
এই বিষয়ে জানার পরেই শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে ইমেইল করেছেন।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
কেন আপত্তি শিক্ষার্থীদের?
কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ইমেইলে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোয় তাদের কিছু আপত্তি আছে। “যেহেতু সমাবর্তনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা মনে করি প্রধান অতিথির নাম নিয়ে এখনো বিচার বিবেচনা চলছে এবং এই প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্যের উপর বিচার করার অবকাশ আছে।”
একজন শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেছেন, প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই আবেদন ইমেইল করেছিলেন। পরে এই ইমেইলের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগেরও বহু ছাত্রছাত্রী তাদের আপত্তির কথা জুড়ে দেন।
সেই আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন, “পুলিশি বর্বরতার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। ছাত্ররা যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করছে যার উপর পুলিশ অত্যাধিক বলপ্রয়োগ করেছে।”
এই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি প্রথমে মন্তব্য করেছিলেন, “আপনারা নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।”
নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ইমেইলে উল্লেখ করে তাদের আপত্তি জানান।
যদিও এই মন্তব্যের পরে প্রধান বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল ওই আইনজীবীর তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন আদালতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আবেদন করতে।
যদিও তার “সময় নষ্ট করবেন না” মন্তব্য তার পূর্বে করা ‘ককরোচ’ মন্তব্যের মতোই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রসঙ্গত, সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ির’ বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরবর্তীকালে দিল্লি পুলিশের সমালোচনাও করেছেন।
ছবির উৎস, https://nalsar.ac.in/campus/explore-nalsar-campus/
‘মূল্যবোধের বিরোধী সিদ্ধান্ত’
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, “আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমাদের বিবেচ্য বিষয় সীমিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আবেদনপত্র গ্রহণ এবং আপত্তির আলোচনার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ।”
শিক্ষার্থীরা তাদের ইমেইলে লিখেছেন, “পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করেন এমন একজন ব্যক্তির হাত থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করা নালসারে আমাদের শেখানো মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।”
শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের অনুরোধ, “এই বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হোক।”
ছবির উৎস, https://nalsar.ac.in/about/organisation/
কী বক্তব্য নালসার-এর?
শিক্ষার্থীদের ইমেইল-সংক্রান্ত আপত্তির বিষয়ে বিবিসি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রীকৃষ্ণ দেবা রাও এবং রেজিস্ট্রার এন বাসন্তীর সঙ্গে ইমেইল ও ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তবে তারা এখনো কোনো জবাব দেননি।
এদিকে, ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু জানিয়েছে যে দোসরা অগাস্ট মুম্বাইয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (সংক্ষেপে টিস নামে পরিচিত)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানটিও স্থগিত হয়ে গেছে।
টিস-এর পক্ষ থেকে ৩১শে জুলাই ঘোষণা করা হয় যে কিছু অনিবার্য কারণে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।




