Home LATEST NEWS BANGLA ইরানের হামলার ভয়ে খাবারের গাড়িতে করে গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প, প্রতিবেদনে...

ইরানের হামলার ভয়ে খাবারের গাড়িতে করে গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন ট্রাম্প, প্রতিবেদনে দাবি

3
0

Source : BBC NEWS

আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের আগে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানের পাশে পার্ক করা অবস্থায় ক্যাটারিং ট্রাকগুলো দেখা যাচ্ছে

ছবির উৎস, Getty Images

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত নেটো সম্মেলন শেষে দেশ ত্যাগের সময় সম্ভাব্য ইরানি হুমকি এড়াতে গোপনে বিমান পরিবর্তন করেছিলেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে-এ ওঠেন, এরপর তাকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি উঁচু ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয় এবং সেখান থেকে একটি সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়, যদিও বিমানে থাকা সাংবাদিক এবং হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মী তা জানতেন না।

কর্মকর্তারা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল, যাতে ওই বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কা ছিল।

হোয়াইট হাউস গোপন এই বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এর আগে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের “এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু”।

যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান থেকে নামছেন ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে চলা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরুর একদিন পর এই গোপন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে করে তুরস্কে পৌঁছেছিলেন, তবে তিনি ঘোষণা দেন যে “পুরোনো দিনের স্মৃতির জন্য” তিনি পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান-এ করেই ফিরবেন।

৮ জুলাইয়ের ভিডিও ফুটেজে তাকে আঙ্কারা বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্টের বিমানে উঠতে দেখা যায়।

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, এরপর তাকে গোপনে একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি বোয়িং ৭৫৭-এর পরিবর্তিত সংস্করণ, যা প্রায়ই ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করেন। তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে সেখানে নেওয়া হয়, যা তার ওঠার বিপরীত পাশে বিমানের সমতলে উঁচু করা হয়েছিল।

পত্রিকাটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আলাদাভাবে বাইরের সিঁড়ি ব্যবহার করে সি-৩২এ বিমানে ওঠেন, যাতে উড়োজাহাজটির যাত্রাকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়।

সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মী এয়ারফোর্স ওয়ান-এ ওঠেন এবং তাদের জানালার পর্দা নামাতে বলা হয়েছিল বলে জানা যায়।

তারা বুঝতেই পারেননি যে প্রেসিডেন্ট আর বিমানে নেই।

এরপর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি আবার পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান-এ ওঠেন এবং আরএএফ মিলডেনহল-এ অবতরণের পর তাকে বিমান থেকে নামতে দেখা যায়।

সি-৩২এ বিমান থেকে কীভাবে তিনি আবার পুরোনো বিমানটিতে উঠেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাজ্যে কাতারের উপহার দেওয়া বিমানে উঠছেন ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

এরপর প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনে ফেরার জন্য কাতারের দেওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান-এ স্থানান্তরিত হন।

সেই বিমানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করলেও আগের বিমান পরিবর্তনের কথা বলেননি।

তুরস্ক থেকে আসা উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামাতে কেন বলা হয়েছিল, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন: “কারণ সম্ভবত আপনারা বিপজ্জনক একটি ফ্লাইটে ছিলেন, যেহেতু আমাদের কিছু নোংরা লোকের মোকাবিলা করতে হয়।”

তিনি বলেন, তার জীবনের ওপর “সব সময়ই হুমকি” থাকে এবং ইরানের “তালিকায়” তিনি “এক নম্বরে” আছেন।

“কিন্তু যদি আমি যাই, আপনিও যাবেন, তাই না?” তিনি বলেন। এরপর যোগ করেন, “হয়তো কোনো একদিন আপনি পেশা পরিবর্তন করতে চাইবেন।”

ক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়ুং সরাসরি এসব প্রতিবেদন নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তবে তিনি বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি “অত্যাধুনিক বিমান”, যাতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজিত আছে।

সিবিএস নিউজ-এর আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প বা তার বিমানের ওপর হামলার নির্দিষ্ট হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করেছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস এর আগে কাতারের দেওয়া বিমানটি নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে বলা হয়, নেটো সম্মেলন থেকে ফেরার সময় সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিল।

এ ঘটনার পর পত্রিকাটির কয়েকজন সাংবাদিককে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দিতে তলব করা হয়।

পরবর্তীতে বিচার বিভাগ বিবিসিকে জানায়, তারা বেআইনিভাবে তথ্য ফাঁসের বিষয়ে তদন্ত করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে উপযোগী করতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে পরিবর্তন ও উন্নয়নকাজ করেছে।

সিবিএস নিউজ-এর সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগের এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানগুলোতে আগত ক্ষেপণাস্ত্রকে বিভ্রান্ত করার জন্য লেজার প্রযুক্তি রয়েছে।

কাতারের দেওয়া বিমানটিতে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন: “নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে শরৎকালে এতে অতিরিক্ত উন্নয়ন ও সংযোজন করা হবে, যা সম্পন্ন হতে আনুমানিক এক মাস সময় লাগবে।”