Source : BBC NEWS
ছবির উৎস, Getty Images
Published
পড়ার সময়: ৪ মিনিট
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি।
দু’দিন ব্যাপী চলা বৈঠকে হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছেড়ে দেওয়াসহ আরও বেশকিছু ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে না পারায় দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইসলামি রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’র (ইরনা) খবরে বলা হয়েছে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিজেদের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট করা হবে বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সেই বৈঠকটি আগামী নয়ই জুলাইয়ের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
মি. খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধের একেবারে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে হামলায় নিহত হন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিনেও তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি তেহরান।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি সমঝোতা হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহেই আলী খামেনির দাফনকাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার।
এ লক্ষ্য সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলো পালনের পর আগামী ৯ই জুলাই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন করার কথা রয়েছে।
ছবির উৎস, Reuters
‘ইতিবাচক অগ্রগতি’
আলোচনা করার জন্য ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় গেলেও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি।
ফলে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা যা হওয়ার, সেটা হয়েছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে।
পরোক্ষ ওই আলোচনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, দোহা বৈঠকে সেগুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সেখানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছাড় ও পরমাণু কর্মসূচির মতো কিছু বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
দুইদিন ধরে চলা আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো না গেলেও ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের কর্মকর্তারা।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই কথা জানিয়েছিলেন। দোহায় দু’পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, সেটার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
“ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার কাজ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়,” সাংবাদিকদের বলেন ট্রাম্প।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে দোহা।
ছবির উৎস, Reuters
তবে সেখানে দু’পক্ষের মধ্যকার মতবিরোধ দূর হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি ইরান।
দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
পাকিস্তানি ও কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহ আগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে, যেখানে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অংশ নেন।
সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, দেশটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অন্তর্ভুক্ত করে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে নিজেদের কমপক্ষে ৬০ দিন সময়ও দিতে সম্মত হন দু’দেশের কর্মকর্তারা।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি ‘যোগাযোগ লাইন’ও স্থাপন করা হয়।
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
হামলার সূত্রপাত হয় প্রণালিটির দক্ষিণ দিকে ওমানের জলসীমায় অভ্যন্তরীণ ও বহির্গামী উভয় ধরনের নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টার জেরে।
পরে মধ্যস্থাকারীরা জানান যে, দু’পক্ষ শান্তি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার দোহায় দেশ দু’টির প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন।
দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দু’পক্ষের পর্যবেক্ষণকারী দলের মধ্যে যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।
সেইসঙ্গে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা কে কতটুকু লংঘন করেছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নথিভুক্ত করার পর বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।




