Home LATEST NEWS BANGLA ছাদ থেকে সৌর বিদ্যুৎ বাড়ানোর লক্ষ্য সফল হবে কীভাবে?

ছাদ থেকে সৌর বিদ্যুৎ বাড়ানোর লক্ষ্য সফল হবে কীভাবে?

2
0

Source : BBC NEWS

কারখানার ছাদে স্থাপিত সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে বিএনপি সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানোর যে লক্ষ্য নিয়েছে, সেখানে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে গ্রাহকের কাছ থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সাড়ে দশ টাকা দরে কেনারও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কিন্তু ছাদে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা কতটা সফল হবে সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বাংলাদেশে।

পহেলা সেপ্টেম্বর সরকারি এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দিতে পারলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ছাদভিত্তিক সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, তাদের কাছ থেকে তিন বছর এই বিদ্যুৎ কেনা হবে।

বিদ্যমান নেট এনার্জি মিটারিং পদ্ধতিতে বিতরণ সংস্থাগুলো এই বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং তিন মাস অন্তর প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র অনুযায়ী, ছাদে উৎপাদন হবে ৫৫০০ মেগাওয়াট, আর ভূমিভিত্তিক ৪৫০০ মেগাওয়াট।

সরকারি-বেসরকারি আবাসিক ও শিল্প খাতের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আনছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করা অ্যাক্টিভিস্ট, ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকরা।

শিল্প কারখানা এবং ঢাকার আবাসিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারখানা এবং আবাসিক ভবনের পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। নিজস্ব চাহিদা পূরণই যেখানে সম্ভব নয় সেখানে বিক্রি করবে কীভাবে এটা বড় প্রশ্ন।

এছাড়া চাহিদার অতিরিক্ত উৎপাদন করতে বিনিয়োগ করলে তিন বছর কেনার যে ঘোষণাও সেটিও আকর্ষণীয় নয় বলে সমালোচনা আছে।

বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখনো অনেক কিছু অস্পষ্টতা আছে এগুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার।

“১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার যে বিষয়টা আছে আসলে বিক্রিটা কে করবে? ক্লিয়ার পিকচারটা কিন্তু নেই। কেন নেই, যে আপনার বাসায় যদি দুই কিলোওয়াট লোড থাকে, অর্থাৎ আপনার স্যংশন লোড আপনি দুই কিলোওয়াটই করতে পারবেন। তা হলে আপনি বেশি পেলেন কোথায় আর বেচবেন কোথায়? এখানে ক্লারিফিকেশন দরকার ছিল।”

মোস্তফা আল মাহমুদ

ছাদে প্রতি কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুতের জন্য জন্য ৭০ বর্গফুট জায়াগা প্রয়োজন। কোনো বাড়িতে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল বসাতে হলে ৭০০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন হবে।

বর্তমানে ঢাকা শহরে যে আবাসিক ভবনগুলো রয়েছে সেখানে এ প্রণোদনা থেকে খুব একটা সফলতা আসবে কি না সন্দেহ অনেকের।

এ ব্যাপারে মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “এখানে একটা বাড়িতে অনেকগুলো পরিবার থাকেন। বিভিন্ন ফ্ল্যাট মালিক আলাদা। এই রুফটপ ব্যবহার করে কেউ প্রফিট করবে এটা ইমপসেবল। ব্যবহারের জায়গাটা অনেক বেশি। ঢাকা শহর বা যেখানে মাল্টিস্টোরেড যেখানে সেটা অনগ্রিড করে যে বিদ্যুৎটা এক্সপোর্ট হবে সেটা ফ্ল্যাট মালিকদের মধ্যে শেয়ারিং করলে একটা উৎপাদন হবে। এখানে ব্যাটারিসহ বিনিয়োগ করতে গেলে প্রফিট কিছুই থাকবে না”।

উৎপাদনে খরচ কত

নবায়নযোগ্য শক্তি হিসেবে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বলতে এককালীন বিনিয়োগটাই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যেসব সোলার প্যানেল বাজারে আছে সেগুলো ২০ বছর মেয়াদে কাজ করে। তবে ব্যাটারি স্টোরেজ থাকলে খরচ বাড়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণে একটা খরচ আছে।

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বর্তমান বাজারে কিলোওয়াট প্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তিন কিলোওয়াট সক্ষমতা তৈরি করলে মাসে ৪০০ ইউনিটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।

একজন গ্রাহক তিন কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে আনুমানিক দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। ব্যাটারি স্টোরেজ নিলে আরো এক থেকে সোয়া লাখ টাকার মতো অতিরিক্ত ব্যয় হবে। সবমিলিয়ে খরচ হবে দুই লাখ ৭৫ হাজার থেকে তিন লাখ টাকার মতো।

কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভাইরনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী সৌর বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি বলেন, আবাসিক গ্রাহকদের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করতে পারলে দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চাহিদার একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে। কিন্তু এর জন্য যে বিনিয়োগ লাগবে সেটি গ্রাহক করবে কি না সে প্রশ্ন রয়েছে।

“সরকার চাচ্ছে একই সঙ্গে ব্যাটারি স্টোরেজ থাকতে হবে এবং রুফটপ সোলার থাকতে হবে। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎটা যাবে গ্রিডে সেটা স্টেবল বিদ্যুৎ হবে। তার মানে ব্যাটারির জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। তাতে ওভারঅল কস্ট বেড়ে যাবে। নেট মিটারিং থেকে নেট বিলিং পদ্ধতিতে যেতে চাচ্ছে সরকার। কিন্তু উচিত ছিল ফিড ইন ট্যারিফে যাওয়া, সেটা বেটার হতো। তা না হলে বিনিয়োগ এবং যেটা আমি পাব সেটা ম্যাচ করছে না ঠিকমতো।”

হাসান মেহেদী

হাসান মেহেদী বলছেন, সরকার সাড়ে ১০ টাকা দরে গ্রাহকরের কাছ থেকে সোলার বিদ্যুৎ কিনবে, কিন্তু ওই গ্রাহক গ্রিড থেকে যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে সেটি দশ টাকার বেশি দরে স্ল্যাবে চলে গেলে সেই টাকা দিয়েই কিনতে হবে। ফলে ছোট বিনিয়োগকারী হিসেবে রুফটপে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে না।

“রুফটপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যদি আমি ব্যাংক লোন নিয়ে বিনিয়োগ করি তাহলে উৎপাদন খরচ ১৩-১৪ টাকায় চলে যাবে। ফলে সাড়ে ১০ টাকায় বিক্রি করাটা ছোট ফ্যামিলির জন্য লাভজনক হবে না। আর যদি বড় ফ্যাক্টরির কথা ধরি, সেখানে সোলারের ট্যারিফ সেটা ১৪-১৫ টাকা। সাড়ে ১০ টাকার জায়গায় যদি যে টাকায় গ্রাহক গ্রিড বিদ্যুৎ কিনবে তার উপর ইনসেনটিভ দেওয়া হতো তাহলে সেটা কার্যকর হতো।”

পোশাক খাতে সম্ভাবনা

বর্তমানে বাংলাদেশে একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে ক্রেতাদের শর্ত অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক কারখানায় চাহিদার একটা বড় অংশ নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে পোশাক কারখানার মালিকদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটা তাগাদা আছে।

এরই মধ্যে বেশকিছু ফ্যাক্টরি সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে এবং বিদ্যুৎ বিলে একটা সাশ্রয় করতে পারছে। তবে কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বেশিরভাগ কারখানার পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি সিপিডির এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে বাংলাদেশে পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে ১৭৬৮ মেগাওয়াট মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এজন্য বিনিয়োগ লাগবে ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন এনার্জি অপটিমাইজেশন বিভাগের চেয়ারম্যান নিশাত নাহরিন হামিদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের সমস্যা সৌর বিদ্যুৎ অর্থায়ন জটিলতা নিয়ে।

“আমরা যে সার্ভেটা করেছি সেখানে ৪৫৩টা ফ্যাক্টরি ছোট-বড় মিলিয়ে, তারা আগ্রহী সোলার রুফটপ স্থাপন করতে। এগুলোর সব মিলে সক্ষমতা হবে ১৬৫ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট। প্রবলেম হচ্ছে বিনিয়োগ পাওয়া নিয়ে। কনসেশনাল লোন বা গ্র্যান্ট বলেন এটা ফ্যাক্টরিগুলোর জন্য দরকার হবে”।

ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাইলে সৌর প্যানেল থেকে শুরু করে সব বিদ্যুতের উৎপাদনে সকল পণ্যে শুল্ক সম্পূর্ণ দূর করা সুদমুক্ত ঋণ এবং সরকারের প্রণোদনা আরো আকর্ষণীয় হওয়া দরকার বলে মনে করেন ক্লিন এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী।

এক্ষেত্রে তিনি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সফল করতে পাঁচটি করণীয় তুলে ধরে বলেন, দশ হাজার মেগাওয়াট সোলার সক্ষমতা অর্জন করতে সরকারকে আরো গ্রাহক বান্ধব পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রথমত, পাবলিকের জন্য কম সুদে লোন সরবরাহ করা, এটা পাঁচ শতাংশের নিচে হতে হবে। এবং ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, এটা প্রিফাইনান্সিং হতে হবে, রিফাইনান্সিং হলে হবে না। এখন যেভাবে আছে তাতে কেউ পুরো ইনভেস্ট করার পরে ব্যাংক যদি মনে করে ভায়াবল, তখন টাকা দেবে।

তৃতীয়ত, একটা স্পেশাল ফান্ড থাকা দরকার যেখান থেকে বিনিয়োগ হবে।

চতুর্থত, বাংলাদেশ ব্যাংক ডমেস্টিক ব্যাংকের জন্য সোলার খাতে বিনিয়োগে কোনো সুদ ধার্য করতে পারবে না- এটা নিশ্চিত করতে হবে।

এবং সবশেষ, এটা ফিড ইন ট্যারিফ করতে হবে।

“যদি একটা স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট এনভায়রনমেন্ট দাঁড় করাতে পারে, তাহলে এটা সম্ভব। না হলে সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে ফাইন্যান্সিংটা কোত্থেকে আসবে। কে ফাইন্যান্স করবে। রেট কত হবে। এগুলো ঠিকঠাক মতো করতে পারলে আমরা খুবই আশাবাদী, সোলার লক্ষ্যপূরণ সম্ভব। “

কারখানার ছাদে  স্থাপিত সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প

বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সোলার ছাড়াও ৪৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় ভূমিভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এজন্য প্রয়োজন হবে বিপুল বিনিয়োগ। বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া এটি তার ভাষায় অসম্ভব।

“যদি আইপিপিতে যান তাহলে অন্তত পাঁচ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার বিনিয়োগ লাগবে। আমরা যদি ১০ হাজার মেগাওয়াট রুফটপ এবং গ্রাউন্ড মাউন্টিং হিসাব করি, তাহলে এর বাস্তবায়ন সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। লোকাল ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে এটা অসম্ভব। আমাদের ব্যাংকগুলোর সেই সক্ষমতা নেই। কয়টা ব্যাংক ১০০-২০০ মিলিয়ন ইনভেস্ট করতে পারবে? আমিতো একটাও দেখি না।”।

টেকনাফে স্থলভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প

ছবির উৎস, Getty Images

বর্তমানে সৌর বিদ্যুতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ বিনিয়োগের নিশ্চয়তায় ঘাটতি এবং আস্থার সংকট রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগে আস্থার সংকটের একটা বড় কারণ হলো নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ আইনে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে অনুমোদন পাওয়া তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ক্ষমতার সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৪ সালে বিশেষ আইন বাতিলের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রকল্পগুলো বাতিল করেছিল। সেখানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেশিরভাগ বিদেশি বিনিয়োগ ছিল।

ওই সিদ্ধান্তের একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে সৌর বিদ্যুতের নতুন বিনিয়োগে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অনেকেই ওই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ছিল বলে সমালোচনা করেন। কারণ এরপরে বেশকিছুর দরপত্র আহ্বান করা হলেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুব একটা সাড়া দেয়নি।

বর্তমান বাস্তবতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে একদিকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এখাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে অনেকে মনে করেন। কারণ সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ান পর্যাপ্ত নেই।

এছাড়া বর্তমান গ্রিড সক্ষমতায় ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুতের ১০ শতাংশের বেশি গ্রিডে নেওয়ার সক্ষমতা নেই। স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা গড়ে তুলে গ্রিড সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

এর বাইরে, বাংলাদেশে কৃষি জমি রক্ষা করে সৌর বিদ্যুকেন্দ্রের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করাও হতে পারে চ্যালেঞ্জের।