Home rss world bengali ট্রাম্প বললেন, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের হাতে নেই টাকা

ট্রাম্প বললেন, হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, ইরানের হাতে নেই টাকা

2
0

সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ আধিপত্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। ট্রাম্পের দাবি, প্রণালীটি এখনও দৃঢ়ভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুতর কোনও হুমকি দেওয়ার মতো সম্পদ বা প্রভাব—কোনোটিই ইরানের নেই।

## ট্রাম্পের বার্তা: নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক ধস এবং প্রতিরোধ

Truth Social-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলির ওপর মার্কিন নৌ অবরোধকে “WALL OF STEEL” বা “ইস্পাতের প্রাচীর” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকান বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করার মতো ক্ষমতা বর্তমানে ইরানের নেই। তিনি ঘোষণা করেন, “হরমুজ প্রণালীর ওপর U.S.A.-র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমি মনে করি, আমরা এটি বজায় রাখব!”

ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি 300% মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করেন এবং তেহরানের হাতে “FAKE NEWS” বা “ভুয়ো খবর” ছাড়া আর প্রায় কিছুই নেই বলে অভিযোগ করেন। তিনি লেখেন: “তাদের কাছে কোনও অর্থ নেই—তাদের দেশ ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত।’ তাদের কাছে শুধু FAKE NEWS এবং 300% মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে, যা আরও খারাপ হচ্ছে!”

পোস্টে ট্রাম্প ইরানের অবস্থানকে মূলত কথার লড়াই হিসেবেও উড়িয়ে দেন: “ইরান শুধু কথা বলে, কাজ করে না—মধ্যপ্রাচ্যের সেই বুলি আর নেই। আল্লাহর প্রশংসা হোক! প্রেসিডেন্ট DONALD J. TRUMP”

## চাপের মুখে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর। বিশ্বের তেল রফতানির একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইজরায়েল, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে এই জলপথে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটেছে।

নৌ অবরোধের পাশাপাশি, পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধমূলক ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার শর্তে ইরান প্রণালীটি পুনরায় খোলার কথা বলেছে। চলমান সংঘাতে নিজেদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরান দাবি করে, তার জন্য ক্ষতিপূরণও চেয়েছে দেশটি।

## ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রভাব

তেহরানের অভিযোগ, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার জন্য ওয়াশিংটন সামরিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা—দুই হাতিয়ারই ব্যবহার করছে।

এদিকে, কূটনৈতিক যোগাযোগের পর্দার আড়ালের পথ এখনও খোলা রয়েছে। উভয় পক্ষের প্রচেষ্টার লক্ষ্য হল সংঘাতের বিস্তার রোধ করা এবং হরমুজ দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল পুনরায় চালু করা। তবে এই আশঙ্কা বাড়ছে যে উত্তেজনা এই করিডরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

## সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি: বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল এবং বিকল্প পথ

নিয়মিত সমুদ্রপথ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি বাজার এখন চাপের মুখে। হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে বিকল্প পথের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে—এর মধ্যে রয়েছে লোহিত সাগর এবং বাব এল-মানদেব প্রণালী।

এই সপ্তাহে আরও একটি উত্তেজনা তৈরি হয়, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ইয়েমেনের উপকূলের কাছে একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে তিনজন পাকিস্তানি নাগরিকসহ ছয়জন নিহত হন। এই হামলা সংঘাত অন্য কৌশলগত সামুদ্রিক অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

## দাবিগুলি বিশ্লেষণ: বাস্তবতা বনাম বক্তব্য

– **হরমুজের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ:** ট্রাম্পের দাবি এই অঞ্চলে আমেরিকার বর্তমান সামরিক কৌশলকে প্রতিফলিত করে। মার্কিন নৌবাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরানের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং অসমমিত যুদ্ধ সক্ষমতা রয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্য এখনও জটিল।
– **ইরানের অর্থনৈতিক অস্থিরতা:** অতিমুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাপক আর্থিক দুর্ভোগের খবর ইরান সম্পর্কে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ইরান তার অর্থনীতি নিয়ে কিছু বহিরাগত মূল্যায়নকে অস্বীকার করে এবং সেগুলিকে ভুল বয়ানের ভিত্তিতে তৈরি বলে উল্লেখ করে।
– **সামরিক ঝুঁকি:** ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা ইরানের থাকলেও, মার্কিন নৌ শক্তিকে পুরোপুরি প্রতিহত করা কঠিন হবে।
– **বিশ্বজুড়ে প্রভাব:** হরমুজে বিঘ্ন তেলের দাম, বাণিজ্যপথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে—যার ফলে দেশ ও সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই নতুন লজিস্টিকস ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে।

## শেষ পর্যবেক্ষণ

ট্রাম্পের বক্তব্যে কৌশল এবং রাজনৈতিক বার্তা—দুই দিকই ফুটে উঠেছে। মার্কিন নিয়ন্ত্রণকে সম্পূর্ণ এবং ইরানকে অক্ষম হিসেবে তুলে ধরে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখার বিষয়ে আমেরিকার দৃঢ় সংকল্প আরও জোরালো করতে চাইছেন বলে মনে হয়। তবে মাটির পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল: কূটনৈতিক চাপ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও বিরোধ রয়েছে—যদিও এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে রয়েছে।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়—শুধু ওয়াশিংটন এবং তেহরানের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্যও। ইরান যখন অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি জানিয়ে চলেছে, তখন আরও উত্তেজনা এড়াতে উভয় পক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.