Home LATEST NEWS BANGLA দ্বৈত নাগরিকেরা উপদেষ্টা হতে পারলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন না কেন?

দ্বৈত নাগরিকেরা উপদেষ্টা হতে পারলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন না কেন?

3
0

Source : BBC NEWS

এক ব্যক্তির পোশাকের কোর্টপিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি

ছবির উৎস, Getty Images

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল করেছে। সেখানে চারজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। যে দুইজন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তার মধ্যে একজন হুমায়ুন কবির।

এর আগে গত ছয় মাস মি. কবির প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

তিনি যখন ওই পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন তখন বাংলাদেশের বাইরেও তার ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে কী-না সেই প্রশ্ন সামনে আসেনি।

কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মি. কবির প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও তার রয়েছে বিদেশি নাগরিকত্ব।

এমন অবস্থায় সোমবার ঢাকার একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত হওয়ার পর সেখানে মি. কবিরের কাছে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

তবে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব দেননি। বরং তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেছেন, কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?

তার এই প্রতিক্রিয়ার পর এ নিয়ে সোমবার থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা সমালোচনাও দেখা যাচ্ছে।

কেউ কেউ প্রশ্নও তুলেছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব যদি থাকে তাহলে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা গেলেও কেন মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

জবাবে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সাংবিধানিক পদ হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার পদটি সাংবিধানিক নয়। যে কারণে হুমায়ুন কবির উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় সেই প্রশ্ন ওঠেনি।

মঙ্গলবার হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “এই সরকার যেটা করেছেন সংবিধান মেনেই করেছেন। এখানে ব্যত্যয় কোন কিছু ঘটেনি।

গত শুক্রবার বঙ্গভবনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দুইজন

ছবির উৎস, PMO

উপদেষ্টা হওয়া গেলেও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কেন নয়?

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে ১৭ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওইদিন প্রায় অর্ধশত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভাও গঠন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।

এর পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় বেশ কয়েকজনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওইদিনই প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান হুমায়ুন কবির।

কিন্তু মি. কবির যে সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তখন তার নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আসেনি। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তার বাংলাদেশের বাইরেও অন্য দেশের নাগরিকত্ব আছে কী-না সেই প্রশ্ন দেখা দেয়।

এর অবশ্য একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বিষয়টি সাংবিধানিক। কেননা যদি কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিক হন তাহলে উনি এমপি মন্ত্রী বা কোন সাংবিধানিক পদে যেতে পারবেন না”।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন’।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ধারায় বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাঁহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।’

অর্থাৎ সংসদ সদস্য নন বা টেকনোক্র্যাট কোটায় যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদেরও অন্তত সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

এই ধারার ব্যাখ্যায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলছিলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদ সদস্য হওয়ার যে যোগ্যতা, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই যোগ্যতা। যে কারণে এমপি পদে অযোগ্য হলে তিনি মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীও হতে পারবেন না”।

বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, হুমায়ুন কবির শৈশব থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসের কারণে সেদেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এই কারণেই প্রশ্ন উঠেছে যে, হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকজন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও এমপি হিসাবে নির্বাচন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন।

গত ছয় মাস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তাহলে কেন তিনি প্রতিমন্ত্রী হতে পারবেন না সেই প্রশ্নও ছিল বিশেষজ্ঞদের কাছে।

জবাবে মি. মালিক বলছিলেন, উপদেষ্টাদের যোগ্যতা অযোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানে কিছু বলা নাই। এটা সাংবিধানিক পদও না।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন

ছবির উৎস, BBC/MUKIMUL AHSAN

আরো যে সব পদে যেতে বাধা, কারণ কী?

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও এটি নিয়ে নানা আলোচনা ছিল।

ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল দ্বৈত নাগরিকত্বের ইস্যুতে। যদিও পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন তাদের বেশিরভাগেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল।

অবশ্য সেই সময়ে অনেকেই তাদের অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিল বলে প্রমাণাদি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছিল।

আইনজীবীরা বলছেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সাংবিধানিক পদে যাওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে, কেউ নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলে তিনি ওই পদের যোগ্য হবেন। কিন্তু সেটিও হতে হবে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায়।

দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেন সাংবিধানিক পদে যেতে এমন বাঁধা কেন সেই প্রশ্নের জবাবে একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে।

শাহদীন মালিক বলছিলেন, “যে কোন সাংবিধানিক পদে যখন শপথ হয় তখন দুই ধরনের শপথ দেয়া হয়। একটা পদের শপথ নেয়, আরেকটা গোপনীয়তার শপথ নেয়। অর্থাৎ তিনি যে পদে দায়িত্ব পালন করবেন সেই পদে কী কী করছেন তার গোপনীয়তা রক্ষা করা”।

“মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গোপনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকে। এখন কেউ যদি ভিন্ন দেশের নাগরিক হন কিংবা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে তাহলে সে সব সময় গোপনীয়তার শপথ রক্ষা নাও করতে পারে কিংবা সেটি তার জন্য দুরূহ হয়ে পড়তে পারে”, যোগ করেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবিধানিক পদের ক্ষেত্রে যেই শপথ নিতে হয় সেটি উপদেষ্টা পদের জন্য নিতে হয় না। যে কারণে কারো যদি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকে তাহলে তিনি উপদেষ্টাও হতে পারেন।

কাজী জাহেদ ইকবাল বলছিলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদ সাংবিধানিক পদ না। এটার জন্য শপথও নিতে হয় না। প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে যে কোন স্ট্যাটাসের যে কাউকে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারেন। যে কারণে আইনটা এখানে ভিন্ন’।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি বা রাষ্ট্রপতি পদ নয়। যে সব পদ সংবিধানে উল্লেখ আছে সেগুলোর ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।

তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার, পিএসসি চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার এমনকি সরকারি চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না সংবিধান অনুযায়ী।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ

ছবির উৎস, NurPhoto via Getty Images

আলোচনায় ‘টেকনোক্র্যাট’ পদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন শামা ওবায়েদ। গত ২১শে অগাস্ট নতুন করে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির।

একই মন্ত্রণালয়ের দুইজন প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। এরপর গত ২৩শে অগাস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী–১ হিসেবে মি. কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ দায়িত্ব পালন করবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে মি. রহমানের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে আনে বিএনপি। বিদেশি নাগরিকত্ব থাকায় তখন খলিলুর রহমানের পদত্যাগও দাবি করে দলটি।

২০২৫ সালের ২২শে মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবিও করেছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে গিয়েও তার পদত্যাগ দাবি করে এসেছিলেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই মি. রহমানের পদত্যাগ দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন।

কিন্তু চলতি বছরের ১৭ই ফেব্রুয়ারি যখন সরকার শপথ নেয় তখন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে দেখা যায় খলিলুর রহমানকে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. রহমান সংসদ সদস্য ছিলেন না। যে কারণে তিনি মন্ত্রী হয়েছিলেন টেকনোক্র্যাক্ট কোটায়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ধারায় বলা রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিবেন। তবে এক্ষেত্রে তাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে মনোনীত হইতে পারিবেন।

এর ব্যাখ্যায় আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলছিলেন, “সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠনের সময় এক দশমাংশ অনির্বাচিতদের মধ্যে থেকে অর্থাৎ যারা সংসদ সদস্য না তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া যাবে”।

তবে সেখানেও তাদের সংসদ সদস্য হওয়ার মতো যোগ্যতা থাকতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীসহ ৫১ জনের মন্ত্রিসভা রয়েছে। এর মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ মোট চারজন রয়েছে টেকনোক্র্যাট কোটায়।