Source : BBC NEWS

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার খবরে প্রাধান্য পেয়েছে ব্রিকস সম্মেলনের খবর। এছাড়া আওয়ামী লীগের শুক্রবারের মিছিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া ও রাজনীতির খবর পত্রিকায় উঠে এসেছে।
নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ডিমও এখন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ডিমের দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে বাজারে ফার্মের সাদা ডিম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং লাল ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে চারটি ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকায়।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পূর্ব নাখালপাড়া সমিতি বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের অনেকেই মাছ-মাংসের পরিবর্তে ডিমের ওপর নির্ভর করলেও দাম বাড়ায় তাদের খাবারের তালিকাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। একজন দিনমজুরের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পান। মাছ-মাংস কেনা সম্ভব না হওয়ায় ডিম দিয়েই কোনোভাবে দিন পার করতেন, কিন্তু এখন ডিমের দামও বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ডিমের সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তনের কারণে দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি করে ডিমের দাম বাড়াচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আমদানিকৃত আদানির বিদ্যুতের উচ্চমূল্য ও এর কাঠামোগত শর্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সর্বশেষ সরকারি জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আদানির বিদ্যুতের মূল্য নিকটতম বেসরকারি প্রতিযোগীর তুলনায় ৩৯.৭ শতাংশ বেশি এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ যে মূল্য পরিশোধ করছে, তা যৌক্তিক বাজার দরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
কমিটির হিসাবে, এ অতিরিক্ত মূল্যের কারণে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ ইউনিটভিত্তিক হিসাব অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানির কাছ থেকে প্রায় ৮.১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ গ্রহণ করে।
ওই অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ছিল ১৪ টাকা ৮৭ পয়সা, যার ফলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
একই সময়ে ভারতের অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের গড় মূল্য ছিল প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অর্থাৎ, আদানির বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম অন্যান্য ভারতীয় উৎসের তুলনায় পাঁচ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি ছিল।


নিউ এইজ পত্রিকার খবর- Qoumi parties eye alliance outside BNP, Jamaat অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাইরে আলাদা রাজনৈতিক জোট গঠনের দিকে এগোচ্ছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সাতটি রাজনৈতিক দল। দলগুলোর মধ্যে দুটি বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো দলই বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ নয়।
নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন থাকা, বিদ্যমান জোটের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ধর্মীয় নীতির বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সাত দলের ঐক্য ধরে রাখতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
সাতটি দল হলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়েও কওমি আলেমদের দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে।

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেয়া অন্তত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ১১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জন। যারা সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানার ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মী জড়ো হন।

রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হঠাৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় মিছিলের ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার যথেষ্ট নজরদারি থাকলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দলের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগ তৈরি হতো না।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা অবশ্য মনে করছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। দলের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতাকর্মীদের আরো সুসংগঠিত ও সক্রিয় করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত ছয় মাসে স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ ৩৪ কার্গো এলএনজি কিনেছে। এর মধ্যে ৩১টিই সরবরাহ করেছে মাত্র ৫টি কোম্পানি।
আন্তর্জাতিক সূচকের (জেকেএম) চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করে বিলিয়ন ডলারের এই এলএনজি ব্যবসা কার্যত একটি সিন্ডিকেটের কবজায় চলে গেছে। প্রতিযোগিতাহীন এই বাজার থেকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে গিয়ে প্রতি কার্গোতে ৪০ লাখ ডলারের বেশি গচ্চা দিচ্ছে বাংলাদেশ।
অতিরিক্ত এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে স্পট মার্কেটকে নিরুৎসাহিত করে অন্তত ৫টি নতুন কোম্পানির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির পথে হাঁটছে সরকার।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য জ্বালানি তেল নিয়ে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি ট্যাংকার সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে।
ট্যাংকারটি সহজ পথে কম সময়ে বাংলাদেশে আসতে পারত বাব আল-মানদেব প্রণালি হয়ে। এ প্রণালির এক পাশে এশিয়ার দেশ ইয়েমেন, অন্য পাশে আফ্রিকার দেশ জিবুতি।
হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশগামী নিনেমিয়া নামের ট্যাংকারটি বাব আল-মানদেব এড়িয়ে চট্টগ্রামে এসেছে সুয়েজ খাল পেরিয়ে ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকা ঘুরে। গতকাল শনিবার জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এ যাত্রায় সময় লেগেছে প্রায় ৫০ দিন। বাব আল-মানদেব হয়ে বাংলাদেশে এলে ১৬ দিনের মতো সময় লাগত। খরচও অনেক কম হতো।
ট্যাংকারটির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইম ওশেন ট্রেড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশনস) পি কে রয় প্রথম আলোকে বলেন, ঘুরপথে একটি ট্যাংকারে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় হতে পারে। সরাসরি এলে এ ব্যয় হয় না।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। ইরান যুদ্ধের কারণে এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আনার গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি। এবার সেই পথেও ঝুঁকি বেড়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদেবের কৌশলগত পেরিম বা মাইয়ুন দ্বীপ দখল করেছে। দ্বীপটি প্রণালিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং এর অবস্থান সবচেয়ে সরু অংশের কাছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথে হুতিদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়েছে।

পর্যটন শহর কক্সবাজারের নির্জন রিসোর্টের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত এলাকা খুলশীর একটি ভবনে আস্তানা গেড়েছিল আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্র।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দুই এলাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬৯ বিদেশিকে এই আস্তানা তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশি সদস্যরা ।
বিদেশি এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাঁদের নিরাপদ অবস্থান হিসেবে কেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে বেছে নিয়েছিলেন , তা জানতে বাংলাদেশি হোতাদের গ্রেপ্তারের অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অনলাইন প্রতারণায় জড়িত অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে ৬৩ এবং কক্সবাজারে ৬ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাঁদের কাছ থেকে অসংখ্য ডিভাইস জব্দ করা হয়।
এমনকি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষেরও ব্যবস্থা ছিল এই চক্রের।

রাজনৈতিক পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই এখন পারিবারিক, সামাজিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিসিএস ১৭তম ব্যাচের এক উপমহাপরিদর্শকও চার মাস আগে অবসরে গেলেও বিষয়টি সন্তানদের কাছ থেকে গোপন রেখে আগের মতো অফিসে যাওয়ার ভান করছেন। সংসার চালাতে কম বেতনের বেসরকারি চাকরিও নিয়েছেন।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি না থাকলেও তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি আবেদনের পরও কোনো সাড়া মিলছে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও রাজনৈতিক তকমা দিয়ে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল। কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক বিবেচনায় অবসর দেওয়ার এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে পুলিশের পেশাদারত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

টাইমস অফ বাংলাদেশের খবর- Brics calls for calm in Middle East, safeguards for global trade অর্থাৎ ব্রিকস জোট মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনের সম্মেলনে ১১ সদস্যের জোটের নেতারা সর্বসম্মতভাবে একটি যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্রিকস জোট জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছে। গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধ, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে সহায়তা এবং ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে জোট।




