Home RSS national bangla প্রাক্তন প্রতিরক্ষা প্রধানের বড় অপারেশন সিঁদুর ফাঁস: যুদ্ধবিরতি চেয়ে পাকিস্তানকে অপেক্ষায় রাখা...

প্রাক্তন প্রতিরক্ষা প্রধানের বড় অপারেশন সিঁদুর ফাঁস: যুদ্ধবিরতি চেয়ে পাকিস্তানকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল

4
0

অবসরপ্রাপ্ত চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়কার প্রতিক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির অনুরোধ ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করেছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সামরিক অভিযান বন্ধ করার আগে সর্বাধিক প্রভাব নিশ্চিত করতে ভারত কতটা হিসেবি কৌশল গ্রহণ করেছিল।

## পাকিস্তানের ভোরবেলার ফোন: ১০ মে, ২০২৫

১০ মে, ২০২৫-এর সকালে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তান ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (DGMO) হটলাইনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানায়। তবে ভারত বিকেল পর্যন্ত তার জবাব দেয়নি। জেনারেল চৌহানের মতে, এই বিলম্ব ইচ্ছাকৃত ছিল, কারণ ততক্ষণে ভারতের পরিকল্পিত অভিযানের মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছিল।

## লক্ষ্য: আরও নির্ণায়ক জয়

পাকিস্তানের সকালের আবেদনের পরও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ভারতের সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল আরও চূড়ান্ত ফল অর্জনের লক্ষ্য। জেনারেল চৌহান জানান, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগে ভারত তার সামরিক লক্ষ্যগুলি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে চেয়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ধারণা ছিল যে আগের হামলাগুলিই যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি করেছে। একইসঙ্গে তারা আশঙ্কা করছিল, ভারত আরও বড় মাত্রায় সংঘাত বাড়াতে পারে।

## কূটনীতির আগে আক্রমণাত্মক হামলা

### ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি: সাহসী পদক্ষেপ

৯ মে, ২০২৫-এ পাকিস্তানের আগ্রাসী বিবৃতির পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ওই বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছিল যে পাকিস্তান বিশ্বাস করত, তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে।

ভারত দ্রুত এবং জোরালোভাবে জবাব দেয়। ৯ মে রাত থেকে ১০ মে বিকেল পর্যন্ত ভারত পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক বিমান হামলা চালায়। হামলায় হ্যাঙ্গার, রাডার স্থাপনা এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

### কৌশলগত অবস্থানগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

রাওয়ালপিন্ডির নূর খান, রহিম ইয়ার খান এবং ভোলারি বিমানঘাঁটির মতো স্থাপনাগুলিতে এখনও মেরামতের কাজ চলছে। এতে হামলাগুলির দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মেলে। ভারত এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছিল যে পাকিস্তানের কোনও সামরিক স্থাপনাই—বিশেষ করে বিমান শক্তির সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলি—তার নাগালের বাইরে নয়।

## গুরুত্বপূর্ণ মোড়

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে থাকায় পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগ করে। জেনারেল চৌহান জানান, ততক্ষণে ভারতের বিমান শক্তির ক্ষয়ক্ষতিও উল্লেখযোগ্য ছিল এবং বোমাবর্ষণের প্রকৃত প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছিল। আরও ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগে পাকিস্তান আলোচনায় বসতে চেয়েছিল।

পাকিস্তানের অনুরোধ সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ না করে ভারত নতুন করে বিমান হামলার আরও দুটি ধাপ চালায়—একটি সকাল ১০টায় এবং অন্যটি দুপুর ১টার মধ্যে। এরপরই অভিযান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেনারেল চৌহান বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম জয়টি আরও নির্ণায়ক হোক।”

## প্রেক্ষাপট: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সূচনা ও প্রতিক্রিয়া

পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ৭ মে, ২০২৫-এ ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছিলেন। অভিযানের প্রথম ধাপে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ৯টি সন্ত্রাসবাদী শিবিরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

পাকিস্তানের পাল্টা হামলার মধ্যে ছিল জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হুমকি নিষ্ক্রিয় বা প্রতিহত করে। এরপরই ভারত পাল্টা পদক্ষেপ আরও বাড়িয়ে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনাগুলিতে সরাসরি হামলা চালায়।

## সুবিধা: যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট পরিস্থিতিচিত্র

জেনারেল চৌহান তাৎক্ষণিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। ভারত দ্রুত নিজেদের এবং পাকিস্তানের হামলার প্রভাব মূল্যায়ন করতে সক্ষম হয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের এই স্বচ্ছ পরিস্থিতিচিত্র চাপের মধ্যে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল।

তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভারতের মতো দ্রুত ও গভীর আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করেছিল, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারত। তবে ভারত রাডার কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে এবং বিমানপথ অচল করে পাকিস্তানের সেই পরিকল্পনা আগেই নস্যাৎ করে দেয়। এই কৌশলের ফলে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।

## কেন ভারত বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল

জেনারেল চৌহান ব্যাখ্যা করেন, পাকিস্তান ভোরবেলায়—প্রায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে—যোগাযোগ করলেও ভারত সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করেনি। তারা সকাল ১০টা এবং দুপুর ১টায় নির্ধারিত আরও দুটি হামলার ধাপ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত এমন এক পরাজয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল, যা শুধু কৌশলগত নয়, বরং তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃহত্তর সামরিক ফল বয়ে আনবে।

## দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও মূল্যায়ন

পাকিস্তানের আগাম যুদ্ধবিরতির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে অতিরিক্ত বিমান হামলা চালানোর পর ভারত যে নাটকীয়ভাবে সংঘাত বাড়িয়েছিল, তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু স্থাপনায় এখনও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি রয়েছে। এই অভিযান সাহসী কৌশল এবং নিখুঁত বাস্তবায়নের সমন্বয়ের কার্যকারিতাও তুলে ধরেছে।

চৌহানের মতে, পাকিস্তানের প্রত্যাশাকে পরাস্ত করা শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাকিস্তান ধরে নিয়েছিল, প্রাথমিক অভিযানের পর ভারত আর সংঘাত বাড়াতে পারবে না। আগাম যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে ভারত যুদ্ধক্ষেত্রের গতিপথ নিজেদের শর্তে পুনর্নির্ধারণ করে।

This article is AI-generated content. Please verify the information independently before taking any action based on this article.