Home LATEST NEWS BANGLA ফিলিপিন্সে ফেরিতে আগুন, পাঁচজন নিহত, নিখোঁজ অন্তত ৮৭ জন

ফিলিপিন্সে ফেরিতে আগুন, পাঁচজন নিহত, নিখোঁজ অন্তত ৮৭ জন

2
0

Source : BBC NEWS

ফিলিপিন্সে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন লেগেছে

ছবির উৎস, Philippine Coast Guard

Published

পড়ার সময়: ৩ মিনিট

ফিলিপিন্সে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন লেগে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৮৭ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।

এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিটি পর্যটনকেন্দ্র করোনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় এতে আগুন ধরে যায়। পর্যটনকেন্দ্র করোন ফিলিপিন্সের পালাওয়ান প্রদেশে অবস্থিত।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ফেরিটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৩৪ জন ছিলেন। এদের মাঝে যাত্রী ১১৭ জন। এখন পর্যন্ত ৪৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে সেখানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে।

কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহতদের হাসপাতালে নিতে সহায়তা করা স্থানীয় এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। তিনি ঘটনাটিকে ‘সত্যিই হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ফিলিপিন্সের পালাওয়ান প্রদেশের করোন শহরের অদূরে একটি দ্বীপের সৈকতে পর্যটকেরা

ছবির উৎস, Getty Images

নিখোঁজদের সংখ্যা পরিবর্তন হতে পারে

ফেরিতে আগুন লাগার পর কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে চলমান উদ্ধার তৎপরতার কারণে নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।

একটি রেডিও স্টেশনকে কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবিয়াব বলেন, “এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও হতাহতের তথ্যের ভিত্তিতে ৮৭ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “তবে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া তথ্য। আমাদের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।”

এএফপির খবরে বলা হয়, ফেরিটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ১৩৪ জন ছিলেন।

কায়াবিয়াব জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য।

তিনি বলেন, “তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমরা এখনো কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারিনি, কারণ তাদের সঙ্গে এখনো আমাদের কথা বলা সম্ভব হয়নি।”

ফিলিপিন্সে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন লেগেছে

ছবির উৎস, Philippine Coast Guard

কোথায় আগুন লাগে ফেরিটিতে

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটি ম্যানিলা বন্দর থেকে পালাওয়ান প্রদেশের করোনের উদ্দেশে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল।

পথে বারাঙ্গে মার্সিলার প্রায় এক দশমিক দুই নটিক্যাল মাইল বা দুই দশমিক দুই কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে থাকা অবস্থায় ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়।

কোস্টগার্ডের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ফেরিটিকে পুরোপুরি আগুনে পুড়তে দেখা গেছে।

অন্য কয়েকটি ভিডিওতে পানিতে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করে নৌকায় তুলতে দেখা যায়।

ঘটনাটি মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি হওয়ায় উদ্ধার হওয়া ৪২ জনকে দ্রুত মার্সিলার উত্তরে বারাঙ্গাই তুর্দার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ফেরিটি বর্তমানে করোনের মার্সিলা গ্রামের উপকূলীয় জলসীমায় রয়েছে।

তবে ঠিক কীভাবে বা কী কারণে ফেরিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়, সে বিষয়ে জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড।

ফিলিপিন্সে ফেরিতে আগুন লাগার পর উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সহায়তা করছেন মাথায় টর্চ পরা উদ্ধারকর্মীরা।

ছবির উৎস, Philippine Coast Guard

যেভাবে চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান

ফিলিপিন্সের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ফেরিতে লাগা আগুন নেভানোর পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে বৈরী আবহাওয়া উদ্ধার তৎপরতাকে কঠিন করে তুলেছে।

কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, “গত রাতে আবহাওয়া খারাপ ছিল এবং ওই এলাকায় ঢেউও ছিল প্রবল।”

তিনি জানান, কোস্টগার্ডের জাহাজ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই এলাকায় স্রোতও বেশ তীব্র।

মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, স্রোতের কারণে ফেরিটি তার প্রাথমিক অবস্থান থেকে ভেসে গেছে।

প্রথমে এটি বারাঙ্গের টুরদা থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল, তবে পরে স্রোতে ভেসে সাত দশমিক ৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে চলে যায়।

কোস্টগার্ডের ওই মুখপাত্র বলেন, “স্রোত ফেরিটিকে আরও দূরে নিয়ে গেছে। তল্লাশি এলাকায় আমাদের সদস্যদের এসব প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।”

ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড আরও জানিয়েছে, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে। অভিযানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী জেলেরাও সহায়তা করছেন।

কোস্টগার্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, “আজ আমরা বিরামহীনভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড।

একই সঙ্গে যাদের স্বজনদের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাদের উদ্বেগের বিষয়টিও তারা বুঝতে পারছে বলে জানিয়েছে।

এখনো যাদের স্বজন নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনায় জড়িত সবার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।