Home LATEST NEWS BANGLA যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ তীব্র গরম

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ তীব্র গরম

2
0

Source : BBC NEWS

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে

ছবির উৎস, Getty Images

Published

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

তীব্র দাবদাহের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির স্বাধীনতা দিবস (৪ঠা জুলাই) উদযাপন ব্যাহত হয়েছে। এমনকি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ারও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

“আমাদের অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, বিক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার,” এক বিবৃতিতে বলেছেন আয়োজকরা। তবে কয়েক ঘণ্টা পর মেলাটি আবার চালু করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, শুক্রবার দেশটির পূর্ব উপকূল ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।

এই তাপপ্রবাহের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির নানা আয়োজন ব্যাহত হচ্ছে।

একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ উদযাপনের আয়োজন করছেন। বিভিন্ন মাঠে বিশ্বকাপ ফুটবলের একাধিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৪ঠা জুলাইয়ের ছুটি সাধারণত মানুষ বাড়ির আঙিনা বা ছাদে বারবিকিউ, স্থানীয় শোভাযাত্রা ও রাতে আতশবাজির মাধ্যমে উদযাপন করে থাকেন।

কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, মেরিল্যান্ড থেকে শুরু করে পশ্চিমের কলোরাডো পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বাতিল হওয়া বড় আয়োজনগুলোর মধ্যে ছিল ফিলাডেলফিয়ার ‘স্যালুট টু ইন্ডিপেন্ডেন্স সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল প্যারেড’, যা দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানের একটি হওয়ার কথা ছিল।

প্যারেডের আয়োজক সংস্থা ওয়াওয়া ওয়েলকাম আমেরিকা– এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ডেলবেনে বিবিসিকে বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের সংস্থার সবার জন্যই অত্যন্ত কষ্টের। কিন্তু এমন বিপজ্জনক গরমের মধ্যে এত বড় আকারের অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব নয়।”

ওয়াশিংটনে ফ্রিডম ২৫০–এর আয়োজকরা জানান, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় স্টেট ফেয়ারটি আবার খুলে দেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন ডিসির ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার মেলায় বেশ কয়েকজনকে তাপজনিত অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বহু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

বিভাগটির এক মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে বলেন, “রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রার কারণেই এসব অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি আরও জানান, অন্তত ১১ জনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সবার সমস্যাই তাপজনিত ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

ওয়াশিংটন পোস্টকে ডিসি ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, “এটি খুবই ব্যস্ত একটি সাপ্তহিক ছুটি হতে যাচ্ছে। আমরা জানি ন্যাশনাল মলের ভেতরে ও আশপাশে তাপজনিত অসুস্থতার ঘটনা ঘটবে। তাই বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অনুরোধ করছি, বাইরে বের হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করুন।”

মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থী রবিন আরদিতো জানান, তিনি একজন মধ্যবয়সী নারীকে দেখেছেন, যিনি সম্ভবত তাপজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মেলার কর্মীরা তার দুই হাত বরফভর্তি বালতিতে ডুবিয়ে রেখে প্রাথমিক সেবা দিচ্ছিলেন বলে তিনি জানান।

“এত গরমের মধ্যে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা ঠিক হয়নি,” বলেছেন তিনি।

গরমের প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটন ডিসির আরেকটি অনুষ্ঠানেও। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় খোলা আকাশের নিচের ‘অ্যা ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্টে জনসাধারণের প্রবেশের সময় স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা থেকে পিছিয়ে সন্ধ্যা ৭টা করেছে।

প্রবল গরমের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারের ৪ঠা জুলাই উদযাপনে খোলা আকাশের নিচে ভাষণ দেওয়ার কথা। তিনি জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি বাইরে অনুষ্ঠিত হোক-এটাই তিনি চেয়েছিলেন।

ম্যানহাটানে এক ব্যক্তিকে বিশ্রাম নিতে দেখা যাচ্ছে

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ট্রাম্প বলেন, “আমি আমি সবকিছু করতে পারি এটা দেখানোর জন্য খুব দীর্ঘ একটি ভাষণ দেব”।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তীব্র তাপপ্রবাহ পুরো সাপ্তাহিক ছুটির সময় জুড়েই অব্যাহত থাকবে। চলতি বছরে তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কিছু এলাকায় কয়েক দশকের মধ্যে দেখা যায়নি।

এর আগে ইউরোপজুড়েও গ্রীষ্মের শুরুতেই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা যায়, যেখানে মহাদেশের বিভিন্ন স্থানে রেকর্ড সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতা অস্বাভাবিক নয়।

তবে এবারের দাবদাহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ব্যাপক বিস্তৃতি। শুক্রবার এটি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সপ্তাহান্তে পুরো পূর্বাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করবে, যা এটিকে সম্ভাব্যভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে সেখানে অনুভূত তাপমাত্রা যথাক্রমে ১১২ ডিগ্রি এবং ১১১ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে, যা ওই শহরগুলোর সর্বকালের রেকর্ড তাপমাত্রার কাছাকাছি।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটিতে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) স্পর্শ করে, যা ২০১২ সালের পর শহরটির সবচেয়ে উষ্ণ দিন। শুক্রবারও সেখানে হিট ইনডেক্স তিন অঙ্কের ঘরেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, “এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক আবহাওয়া পরিস্থিতি।”

গরমে ওয়াশিংটন মনুমেন্ট বন্ধের নোটিশ

ছবির উৎস, Getty Images

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহ কিছুটা কমতে পারে। তবে পূর্বাঞ্চলে এখনো অত্যন্ত গরম অব্যাহত থাকবে, যা বাইরে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো উত্তরাঞ্চলের সমভূমি, মিডওয়েস্ট এবং গ্রেট লেকস অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে এমন তীব্র বজ্রঝড়। এসব ঝড়ের মাধ্যমে তাপপ্রবাহের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটতে পারে। তবে এর সঙ্গে থাকবে বড় আকারের শিলাবৃষ্টি, বিধ্বংসী ঝড়ো বাতাস, আকস্মিক বন্যা এবং এমনকি কয়েকটি টর্নেডো হওয়ার আশঙ্কাও।

রোববার থেকে ভার্জিনিয়া, ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পশ্চিমাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।

কানাডার দক্ষিণ অন্টারিও-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় চলতি সপ্তাহেই তাপমাত্রা মাঝামাঝি ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছেছে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, আরও তীব্র এবং আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে না পারলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকবে।