Home LATEST NEWS BANGLA শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন অভিজিৎ দীপকসহ শীর্ষ নেতারা, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

2
0

Source : BBC NEWS

বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময়ে এক বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে দিচ্ছেন এক নারী পুলিশকর্মী - রোববার সকালে দিল্লির কনট প্লেসে

Published

পড়ার সময়: ৭ মিনিট

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

শনিবার বিক্ষোভ রুখতে অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যদিও সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায় যে আটক হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি।

বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে ‌আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে জাতি সংঘের মানবাধিকার সংস্থা। যদিও সেই বিবৃতি খণ্ডন করে পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে শনিবার বিমান থেকে আটক হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির তিন শীর্ষ নেতা – অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে রোববার দিল্লিতে এক ম্যাজিস্ট্রেট জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। ছাড়া পেয়েছেন পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও।

সিজেপি যেমন রোববারেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে, তেমনই বাম ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাও রোববার বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “আপনারাই ঠিক করুন, সাধারণ মানুষকে জেলে পাঠাবেন নাকি জ্ঞানেশ কুমারকে। আমরা রোববারেও রাস্তায় নামব, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করব।”

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রোববার দিল্লির কনট প্লেসে জড়ো হওয়া কয়েকজন বিক্ষোভকারী

রোববার সকালে দিল্লির সংসদ মার্গের কাছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে

ছাড়া পেলেন অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠী

হেফাজতে নেওয়া সিজেপি নেতাদের রোববার সকাল নয়টায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, “১০.১০.২০২৬ তারিখে শ্রী অভিজিৎ দীপকে, শ্রী আশুতোষ রাঙ্কা এবং শ্রী সৌরভ দাসকে বিএনএসএস-এর ধারা ১২৬/১৭০ অনুযায়ী প্রতিরোধমূলকভাবে আটক করা হয়। সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং তাদের ১১.১০.২০২৬ তারিখে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের এসইএম আদালতে হাজির করা হয়।”

“শান্তি বজায় রাখা এবং সদাচরণ নিশ্চিত করার জন্য এক বছরের মেয়াদে ৫০,০০০ টাকা মূল্যের একটি জামিন বন্ড ও শিওরিটি বন্ড জমা দেওয়া হয় এবং পরে তাদের এসইএম আদালতের নির্দেশে মুক্তি দেওয়া হয়।”

বাঁদিক থেকে: সৌরভ দাস, অভিজিৎ দীপকে ও আশুতোষ রাঙ্কা - ফাইল ছবি

শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানো সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সহ-সমন্বয়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পুলিশ বিমান থেকেই হেফাজতে নেয়।

রোববার সিজেপির লিগ্যাল হেড রত্না সিংহ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষকে ছেড়ে দিয়েছে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট।”

মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এই তিনজনকে হেফাজতে নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।

তিনি শনিবার এক্স-এ লিখেছিলেন, “মোদি-শাহ এতটাই ভয় পেয়ে গেছেন যে আজ তারা শিশুদের অপহরণ করছেন। এর ফল আপনাদের ভুগতে হবে।”

এছাড়াও গুরুগ্রাম পুলিশ বিবিসি হিন্দির দিলনওয়াজ পাশাকে নিশ্চিত করেছে যে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার নারী বিক্ষোভকারীদের আটক করছে পুলিশ, চলছে টানা হেঁচড়া

‘ঘরে ফিরব না’, বার্তা ককরোচ জনতা পার্টির

অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে শনিবার এক্সে একটি ভিডিও পোস্ট করে রোববারের বিক্ষোভ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না নেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”

অজিঙ্ক্য বলেন, তিনি আগামীকাল আবার সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করবেন। পাশাপাশি তিনি বিপুল সংখ্যক মানুষকে যন্তর মন্তরে যোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

শনিবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর অভিজিৎ দীপকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার অনুপস্থিতিতে সিজেপি আন্দোলনের নেতৃত্ব অজিঙ্ক্য শিন্ডের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

দেশজুড়ে সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সিজেপি ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু করেছিল। এই অভিযানের নেতৃত্বদানকারী দলের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন অজিঙ্ক্য শিন্ডে।

অজিঙ্ক্য শিন্ডে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এবং সিজেপির আন্দোলন নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন। শুরু থেকেই তিনি সিজেপির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

সিজেপির প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাংকা এবং সৌরভ দাসের অনুপস্থিতিতে এখন তিনিই সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন।

রোববার সকালে শুনশান যন্তর মন্তর সংলগ্ন সংসদ মার্গ

উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা পাল্টা বার্তা ভারতের

দিল্লিতে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ব্যাপক অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা।

এই বিক্ষোভের সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবরও সামনে এসেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে এবং শর্তহীন মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

এক্স-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “দিল্লিতে আজ ব্যাপক বিক্ষোভের আগে এবং চলাকালে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের বিপুল সংখ্যায় হেফাজতে নেওয়ার খবর নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

“আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হোক এবং তা নিশ্চিত করা হোক।”

জবাবে ভারদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছে, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, যেখানে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অধিকার সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যম সুরক্ষিত।”

“প্রতিটি গণতন্ত্রের মতোই, ভারতে নাগরিকরা জন-শৃঙ্খলার স্বার্থে আরোপিত যুক্তিসঙ্গত সীমাবদ্ধতার আওতায় থেকে এই অধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী কাজ করে এবং যেকোনও অভিযোগ বা প্রতিকারের জন্য আদালত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা করে ভারত বলেছে, “ওএইচসিএইচআরের উদ্বেগ ভিত্তিহীন এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের শামিল।”

গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবের কাছে শনিবার এক বিক্ষোভকারীকে আটক করছে পুলিশ

গুরুদোয়ারার ভিতর পুলিশ কেন?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবে প্রবেশ করেন।

ওই বিক্ষোভকারীদের ধাক্কা দিয়ে গুরুদোয়ারা থেকে বের করে দিতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভকারীদের মতে, শুক্রবার দিল্লিতে পৌঁছানো লোকদের অনেকেই গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবে অবস্থান করছিলেন। সেখানে উপস্থিতরা দাবি করেছিলেন যে শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারী গুরুদোয়ারায় উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে পুলিশ আটক করেছিল।

আম আদমি পার্টির বিধায়ক জারনেইল সিং অভিযোগ করেছিলেন যে, গুরুদোয়ারার শীর্ষ কর্তারা ক্ষমতার কাছে মাথা নত করছেন এবং এটি শিখ নীতির পরিপন্থী।

গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবের সাধারণ সম্পাদক জগদীপ সিং কাহলোঁ পুরো ঘটনার নিন্দা করেছেন।

তিনি বলেন, “গুরুদোয়ারার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা উচিৎ, গুরুদোয়ারা প্রতিবাদের জায়গা নয়, কাউকে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, সে কোনও রাজনৈতিক দল হোক বা অন্য কেউ। আপনি যদি বিক্ষোভ দেখাতে চান তবে তা বাইরে করুন। আম আদমি পার্টির নেতাদের গুরুদোয়ারা নামে রাজনীতি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।”

দিল্লি শিখ গুরুদোয়ারা ম্যানেজমেন্ট কমিটির (ডিএসজিএমসি) সভাপতি হরমিত সিং কালকা গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ এবং পুলিশের দ্বারা তাদের বের করে নিয়ে আসা বিষয়ে মিডিয়াকে বলেন, “বিক্ষোভকারীরা গুরুদোয়ারার ভিতরে জোর করে প্রবেশ করে এবং কর্মীরা যখন তাদের থামানোর চেষ্টা করে, তখন তারা গুরুদোয়ারা ভিতরে স্লোগান দেয়। পুলিশ যখন তাদের হঠিয়ে দিতে গুরুদোয়ারার ভিতরে যায়, তখন আপের কিছু নেতা একটি বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছেন যে পুলিশকে গুরুদোয়ারায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।”

দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক এক্স-হ্যান্ডেলের একটি পোস্ট অনুসারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন পুলিশকর্মী গুরুদোয়ারায় বুট পরে প্রবেশ করেছেন।

দিল্লি পুলিশ ব্যাখ্যা দিয়েছে, গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবে প্রবেশের আগে জুতো যে জায়গায় খুলতে হয়, এই জায়গাটি তার আগেই।

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শিখ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত হানতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববারে কনট সার্কেলে পুলিশের ব্যারিকেড

২০ হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ৩৫ হাজারের বাহিনী, উদ্বিগ্ন বিশ্লেষকরা

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঠেকাতে যে মাত্রার কড়াকড়ি করা হয়েছিল, তা শুধু পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাদেরই নয়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও বিস্মিত করেছে।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে পুলিশের কড়াকড়ির ব্যাপকতা নিয়ে। পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের চেয়েও বেশি প্রশ্ন উঠছে, এত বড় মাত্রায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো, তা নিয়ে।

প্রায় ২০ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটকাতে মোতায়েন করা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার নিরাপত্তারক্ষী। এদের মধ্যে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন।

কর্নাটকের সাবেক ডিজিপি এস টি রমেশ বিবিসি নিউজকে বলেন, “পুলিশি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু বর্তমান পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। আমি বিহারের একটি রেলস্টেশনে আটকে পড়া মানুষের ছবি দেখেছি, কারণ তাদের ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। তাই এর প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সারা দেশেই পড়েছে।”

এই বিষয়ে বিবিসি নিউজ হিন্দি কথা বলেছিল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাবেক স্পেশাল ডিরেক্টর যশোবর্ধন আজাদের সঙ্গে।

তার মতে, পুলিশ কমিশনারের উচিত ছিল তার রাজনৈতিক ঊর্ধ্বতনদের সামনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা যে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং সেগুলি লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ কমিশনারের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত বা পরিচালিত না হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল বলে এস টি রমেশ যে মন্তব্য করেছেন, তার সঙ্গে একমত হন মি. আজাদ।

মি. আজাদ বলেন, “জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের জন্য যন্তর মন্তরের চেয়েও বড় কোনও স্থান দেওয়া উচিত ছিল। যা হয়েছে তা হলো, নিট-এ সংস্কারের বিষয়টি আড়ালে চলে গেছে। পুলিশের বর্বরতার কারণে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের কোনও সমাধানের সম্ভাবনাই কার্যত শেষ হয়ে যায়।”

তবে বিজেপি বলেছে, দলটি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নয়।

দলের প্রবীণ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ শনিবার বলেন, “আমরা বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু নিজেদের পরাজয়ের কারণে এরা রাস্তার আন্দোলনকে অস্ত্র করে তুলেছে। তার মধ্যেও, আশ্চর্যের বিষয় হলো… একটা প্রতিযোগিতা চলছে।”